যেসব ভিত্তির উপর একটি নেটওয়ার্ক মার্কেটিং কোম্পানী গঠিত হয় সেগুলো হলো এর (ক) পণ্য সামগ্রী (Products) (খ) সেবা (Services) (গ) যোগাযোগ (Communication) এবং (ঘ) কমিশন পদ্ধতি (Commission), এ চারটি বিষয়ের যে কোন একটি ব্যতীত মাল্টিলেভেল মার্কেটিং পদ্ধতি পূর্ণতা লাভ করতে পারেনা। এসব বিষয়গুলো কিভাবে নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতির মূলভিত্তি হিসেবে কাজ করে তা নিম্নোক্ত আলোচনার মাধ্যমে অনুধাবন করতে পারব।
ক) পণ্য সামগ্রী (Products)ঃ
যে কোন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য পণ্য উৎপাদন ও বিপণন সাধারণত মাল্টিলেভেল মার্কেটিং পদ্ধতিতে ঐ সমস্ত পণ্য বাজারজাত করতে হয় যা গুনগতমান সম্পন্ন, নতুন বা একক বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং কোম্পানীর জন্য ঐ সমস্ত পণ্যই উপযোগী যেসব পণ্য বিপণনের প্রেষনা, মিক্ষা প্রশিক্ষন ও সহযোগিতা প্রয়োজন হয়। বা পণ্য লাইনের উন্নয়নের মাধ্যমে যে কোন নেটওয়ার্ক মার্কেটিং কোম্পানী সাফল্যের ভিত্তি তৈরী করতে পারে আবার নতুন পণ্যের ক্ষেত্রে তা কমিশন প্লান সার্পোট করে কিনা তা যাচাই করতে হবে। কোম্পানী ডিস্ট্রিবিউটরদের পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা প্রদান করলেও যে কোন পণ্য সহজেই গ্রহণ যোগ্যতা পায়না কোম্পানী তার পণ্য লাইনে নতুন পণ্য বাড়াতে চাইলে নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর প্রতি নজর প্রদানকরতে হবে।
– পণ্যের মূল্য অনুযায়ী পয়েন্টস। কমিশন দেয়া যাবে কিনা।
– কমিশন প্রদানের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ অর্জন করা যাবে কিনা।
– ক্রেতাদের অর্থ সামজিকি অবস্থা বিবেচনা করে পণ্যটি বিপণন যোগ্য কিনা।
– উক্ত পণ্যের জন্য কি পরিমান সময়, জ্ঞান ও শ্রম প্রদান প্রয়োজন হবে তা যাচাই করতে হবে।
– পণ্যটির বিকল্প বাজারে থাকলে তবে সে পণ্যটির বাজার অবস্থা নিরূপণ করতে হবে।
উপরোক্ত বিষয়গুলোর মাধ্যমে পণ্যের গ্রহণযোগ্যতা ও চাহিদা সম্পর্কে অনেকখানি নিশ্চিত হওয়া যায় এবং সিদ্ধান্ত গ্রহন সহজতর হবে যে পণ্যটি নেটওয়ার্ক মার্কেটিং এ গ্রহন যোগ্যতা পাবে কিনা। পণ্যের বিশেষত্ব ও গুনাবলীর পাশাপাশি এর চাহিদার উপর দীর্ঘমেয়াদী সফলতা অর্জন করা যায়।
খ) সেবাসমূহ (Service) ঃ
প্রচলিত বিপণন পদ্ধতিতে কোম্পানী সমূহ ক্রেতাদের বিক্রয়োত্তর সেবা প্রদান করে কিন্তু একজন ক্রেতা বা ভোক্তার উন্নয়নের জন্য সাধারণত অন্য কোন সেবা প্রদান করে না। অন্যদিকে নেটওয়ার্ক মার্কেটিং কোম্পানীগুলো ক্রেতা বা ভোক্তাদের উন্নয়নের জন্য বহুমূখী পদক্ষেপ গ্রহন করে থাকে। কারণ ক্রেতা ও ডিস্ট্রিবিউটরদের উন্নয়নই প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন। ডিস্ট্রিবিউটরদের চাহিদা পুরনের পাশাপাশি আত্মউন্নয়নের সুযোগ প্রদান করতে হবে। সঠিক পথ নির্দেশনার মাধ্যমে জীবন যাত্রার মান বাড়াতে সহযোগিতা প্রদান করতে হবে। গুনগত মান সম্পন্ন পণ্য সামগ্রীর পাশাপাশি প্রশিক্ষণ ও প্রেষণামূলক কার্যক্রম গ্রহন করতে হবে। ডিস্ট্রিবিউটরদের কাজ করার ক্ষেত্রও যাবতীয় রসদ সরবরাহ করতে হবে। অন্যান্য কার্যক্রমের পাশাপাশি মাল্টিলেভেল মার্কেটিং প্রতিষ্ঠানকে আরো কিছু সেবা প্রদান অব্যহত রাখতে হয় যার ফলে প্রতিষ্ঠানের স্ব স্ব অবস্থান সমুন্নত রাখতে সহায়ক হয়।
– আলোচনা অনুষ্ঠান ও সম্মেলন (অর্ধবার্ষিক, বার্ষিক)
– প্রশিক্ষণ কার্যক্রম (শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে)
– পণ্য সামগ্রীর বিষয়ে ধারণা প্রদান (পণ্যের ব্যবহার) রক্ষণাবেক্ষন বিশেষ্ত্ব ইত্যাদি)
– ক্রেতা ও ডিস্ট্রিবিউটরদের সমস্যা চিহ্নিতকরন ও এর সমাধান।
– এছাড়াও নেটওয়ার্ক মার্কেটিং কোম্পানী গুলো বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমে অংশগ্রহনের মাধ্যমে ডিস্ট্রিবিউটরদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
গ) যোগাযোগ (ommunication)
যোগাযোগ নেটওয়ার্ক কোম্পানীগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ কারন কোন ধরনের বিজ্ঞাপন বা ক্যাম্পেইন ব্যতীত ক্রেতা বা ডিস্ট্রিবিউটররা এসব প্রতিষ্ঠানে জড়ো হয়। এ পদ্ধতিতে বিভিন্ন স্তরের লোকজন একত্রে কাজ করে এবং সাধারন মানুষের সােেথ সম্পর্ক বৃদ্ধির মাধ্যমেই ব্যবসায়িক সফলতা সম্ভব সাধারণ ডিস্ট্রিবিউটরদের সাথে লিডারদের এবং লিডারদের সহিত কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা পর্ষদের যোগাযোগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্তসমূহের বাস্তবায়ন ও নিয়ন্ত্রন সম্ভবপর হয় একটি নেটওয়ার্ক মার্কেটিং প্রতিষ্ঠানের ডিস্ট্রিবিউটর সংখ্যা যখন লক্ষ্যধিক হয় তখন কোম্পানীর নীতিগত সিদ্ধান্ত, পরিকল্পনা, পণ্যের প্রসার ও অন্যান্য সংবাদ প্রত্যেক ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছে পৌছানো যেমন ব্যয়সাধ্য তেমনি জটিল আবার বিভিন্ন সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়া যাচাই-ও ব্যয়বহুল। এজন্য যোগাযোগ কৌশল গঠন ও মাধ্যম সমূহের যথাযথ ব্যবহার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং এ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ডিস্ট্রিবিউটরদের সাথে যোগাযোগ অনেকক্ষেত্রে সম্ভব হয়না। আর এ সময় লিডার বা সিনিয়র ডিস্ট্র্রিবিউটরদের প্রতিক্রিয়া ও মনোভাবের মাধ্যমে কোম্পানীকে সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষন করতে হয়। যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা যায় প্রশিক্ষণ সভা-সম্মেলন, নিজস্ব ম্যাগাজিন, প্রেষণামূলক কর্মসূচী ও ইন্টারনেট সেবা ইত্যাদি।
ঘ) কমিশন প্লান (Commuission)
মালিটিলেভেল মার্কেটিং এর সাথে প্রচলিত বিপণন পদ্ধতির পার্থক্যের মধ্যে কমিশন প্লান অন্যতম। কমিশন প্লান এর মাধ্যমে নির্ধারিত হয় ডিস্ট্রিবিউটর বা ক্রেতাদের মাঝে কত শতাংশ লভ্যাংশ বন্টন হবে পণ্যের ধরন ও চাহিদার উপর নির্ভর করে কিমিশন প্লান। যেসব পণ্য ও সেবা সামগ্রী কোম্পানী বাজারজাত করবে তার উপর দীর্ঘমেয়াদী কমিশন প্রদান করা সম্ভব কিনা তা যাচাই করতে হবে। এছাড়াও আরও কিছু বিষয় বিবেচনায় আনতে হবে যেমন- ডিস্ট্রিবিউটরদের চাহিদা, ঐ অঞ্চলের আর্থ সামাজিক অবস্থা ও জীবন যাত্রার মান ইত্যাদি। একই পণ্যের চাহিদা যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশে যেমন এক নয় তেমনি সমজাতিয় কমিশন প্লানও গ্রহনযোগ্য নয়। আমাদের দেশে একই কমিশন প্লান প্রায় সকলেই অনুসরন করে এবং কমিশন প্লান গঠন করার পর পণ্য অর্ন্তভূক্তি করতে চায়। এর ফলে কি দাঁড়ায়, এক পর্যায়ে এ পদ্ধতি পরিবর্তন করতে চায় অথবা আধুনিকায়ন করার চেষ্টা করে। কমিশন পদ্ধতি গ্রহন করার পূর্বে এ বিষয়ে পারদর্শী বিষেষক্তদের মতামত নেয়া খুবই জরুরী। বাস্তবতা বিবর্জিত ও শুধু মাত্র লোক দেখানো কমিশন পদ্ধতি দ্বারা নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতির চমৎকার ধারনা ব্যহত হচ্ছে। বরং উন্নতপণ্য সেবা সামগ্রী যেসব প্রতিষ্ঠান বাজারজাত করছে তাদের কমিশন প্লান কিছুটা অনাকর্ষনীয় হলেও প্রতিযোগিতোয় টিকে থাকতে পারবে। অবশ্যই মনে রাখতে হবে, যারা কমিশন পদ্ধতি কপি করে তাদের ব্যর্থতা অনিবার্য।
সবশেষে এটুকু বলা যায়, নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতি আবিষকৃত হয়েছে মানুষের কল্যানের উদ্দেশ্যে, অর্থনীতিতে ভারসাম্য আনয়নের লক্ষ্যে ও ক্রেতা বা ভোক্তার অধিকার সংরক্ষণে। বর্তমান যুগে সব ধরনের প্রতিষ্ঠানই সামাজিক আন্দোলনে অংশীদার হতে চায়। এক্ষেত্রে নেটওয়ার্ক মার্কেটিং প্রতিষ্ঠান এগিয়ে থাকতে নিসন্দেহে কেম্পানীর প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান ও সামাজিক দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে নেটওয়ার্ক মার্কেটিং প্রতিষ্ঠানগুলো অন্য যে কোন পদ্ধতি অনুসরনকারী প্রতিষ্ঠানের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে।
লেখক : এম. রহমান আরিফ
]]>যে কোন উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠানের মূল্য লক্ষ্য সবোর্চ্চ বিক্রয়ের মাধ্যমে মুনাফা অর্জন। এজন্য এজন্য প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য বিভাগের ন্যায় বিপণন বিভাগও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। বিপণন বা মার্কেটিং বিভাগের উপর প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যত অনেকটা নির্ভরশীল। আমাদের দেশের উৎপাদন ও সেবামুখী প্রায় সব প্রতিষ্ঠানই গতানুগতিক বিপণন পদ্ধতি ( যা ধারাবাহিক ভাবে চলে আসছে) অনুসরন করে। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতি আমাদের দেশে নতুন হলেও বহিবিশ্বে এর প্রচলন শুলু হয় অর্ধশত বছর পূর্বে। উদ্যোক্তা হিসেবে আপনি কোন পদ্ধতি বেছে নেবেন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহনের পূর্বে অবশ্যই নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতি ও চলমান বিপণন পদ্ধতি এ দুটো সম্পর্কে ভালভাবে জেনে নেয়া উচিত। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতিতে অন্য পদ্ধতির চেয়ে কি কি বাড়তি সুবিধা পাওয়া যায় তা দেখা যাক।
১। পণ্য সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত
গতানুগতিক পদ্ধতিতে বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে নিয়ে যখনই কোন পণ্য বাজারে আনতে চাইবেন তখনই প্রতিযোগিতাপূর্ণ বাজার নজরে আসবে প্রতিষ্ঠিত কোম্পানীগুলো পূর্বেই বাজারের একটা বড় শেয়ার দখল করে নেয় এসব কোম্পানীর সুনাম ও অবস্থান এতই মজবুত যে আপনাকে বিনিয়োগের বড় ঝুঁকি গ্রহন করতে হবে। পাশাপাশি বিজ্ঞাপনের জন্য বড় বাজেট অবশ্যই নির্ধারন করতে হবে। অন্যদিকে নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতি গ্রহনের ফলে প্রতিযোগিতা মূলক বাজার আপনার পণ্যের ঝুঁকির কারণ হবে না। তবে তা নির্ভর করবে পণ্যের মান, সেবা এবং কমিশন প্লান এর উপর অর্থাৎ ক্রেতা বা ডিস্ট্রিবিউটরদের কি পরিমান লভ্যাংশ প্রদান করবেন! তার উপর।
২। বিপণন ও পরিবেশন ব্যয়
যে কোন পণ্যের বিপণন ও পরিবেশন ব্যয় আবশ্যক। গতানুগতিকে পদ্ধতিতে বিভিন্ন স্থানে পণ্য পরিবেশন বা সরবরাহের জন্য প্রতিষ্ঠানকে একটা বড় অংশ ব্যয় করতে হয়। এবং এর পাশাপাশি প্রচার কার্যক্রম চালাতে হয়। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতিতে কোম্পানীর শোরুম বা অফিস হতে সরাসরি ক্রেতা বা ডিস্ট্রিবিউটরগন পণ্য সংগ্রহ করে বিধায় এর পরিবেশন খরচ অনেক কম। ক্রেতা নিজ আয় বাড়ানোর জন্যই প্রচার করে অন্যকে পণ্য ক্রয়ে উদ্ধুদ্ধ করে।
৩। বিজ্ঞাপন খরচ সাশ্রয়
চলমান বা গতানুগতিক বিপণন পদ্ধতিতে বিজ্ঞাপন ব্যতীত পণ্য বিক্রয় প্রায় অসম্ভব। এজন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে লাভের একটা বড় অংশ ব্যয় করতে হয় বিজ্ঞাপন বাবদ যার দরুন বলা হয় প্রচারই প্রসার। কিন্তু নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতিতে বিজ্ঞাপনের প্রয়োজন হয় না বললেই চলে। লভ্যাংশ অর্জনকারী ক্রেতাই বিজ্ঞাপনের কাজটুকু মুখে মুখে সারিয়ে দেয়। সাধারণ অর্থে বিজ্ঞাপন যে কোন প্রতিষ্ঠানের জন্য অপচয় ব্যতীত কিছুই নয়। পণ্যের মোড়কে যা নির্দেশনা প্রয়োজন মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং এ তাই যথেষ্ট।
৪। পন্য সংখ্যা বাড়ানোর সুযোগ্য
চলমান পদ্ধতিতে পণ্য সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য প্রতিষ্ঠানের সুনামের আয়োজন অথবা ব্রান্ড পরিচিতির প্রয়োজন হয়। পণ্যের চাহিদাও বাজার পরিস্থিতি নিরীক্ষা করে নতুন পণ্য বাজারে আনার পরও এর সফলতা অনিশ্চিত, অন্যদিকে মান সম্পন্ন যে কোন পণ্য মাল্টিলেভেল মার্কেটিং পদ্ধতিতে বাজারজাত করা যায়। তবে এক্ষেত্রে পণ্যটি কমিশন প্লান সার্পোট করে কিনা তা খতিয়ে দেখতে হবে।
৫। ক্রেতার সাথে সম্পর্ক
বর্তমানে যে সব কোম্পানী বাজারে ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন পণ্য বাজারজাত করছে তা কোন না কোন মধ্যস্থ কারবারীর সহযোগিতায় অর্থাৎ এক্ষেত্রে ক্রেতার সাথে প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানীর সরাসরি সম্পর্ক থাকেনা। পণ্য বা সেবা সম্পর্কিত ক্রেতার মনোভাব বুঝা যায় না তাৎক্ষণিক। অন্যদিকে নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতি অনুসরনকারী প্রতিষ্ঠান সরাসরি ক্রেতা বা ভোক্তার সাথে সম্পৃক্ত সাকে বিধায় ক্রেতার প্রতিক্রিয়া ও পরামর্শ গ্রহনের সুযোগ থাকে নেটওয়ার্ক পদ্ধতিতে।
৬। বিশ্বব্যাপী বাজার
গতানুগতিক বিপণন পদ্ধতিতে কোম্পানীগুলো প্রথমে একটি এলাকা বেছে নেয় এবং পর্যায়ক্রমে সম্পূর্ণ দেশব্যাপী বাজারজাত করে কিন্তু বিশ্বব্যাপী বাজারজাত করণের জন্য যেসব বৈশিষ্ট্য প্রয়োজন এবং বিনিয়োগ আবশ্যক তা সব প্রতিষ্ঠানের থাকেনা। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং কোম্পানীগুলো অনেক সহজে বিশ্বব্যাপী ব্যবসা পরিচালনা করছে যেমন, এমওয়ে, এভন, হার্বালাইফ, এমাজন হার্ব এডভান্সড মার্কেটিং, ডনকাস্টার, ফ্রি লাইফ ইত্যাদি। এসব প্রতিষ্ঠান শুরুতে অল্প সংখ্যাক পণ্য নিয়ে যাত্রা করলেও পরবর্তীতে অসংখ্যা পণ্য অন্তভূক্ত করতে সক্ষম হয়েছে। আমাদের দেশের গ্রামীন, কুটির শিল্প ও পোষাকের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে বহিবিশ্বে যার বাজারজাত করনের জন্য প্রয়োজন শুধু সঠিক উদ্যোগের।
৭। সামজিক সচেতনতা
বর্তমানে অনেক প্রতিষ্ঠান সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি ও পরিবেশ সংরক্ষন বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছে। সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার নিয়ে এসব প্রতিষ্ঠান এগিয়ে আসছে। এ সচেতনতা আরো বেশি সম্ভব নেটওয়ার্ক মার্কেটিং প্রতিষ্ঠান সমূহের দ্বারা সাধারণত নেটওয়ার্ক মার্কেটিং কোম্পানীগুলো প্রশিক্ষণ ও প্রেষণামূলক বিভিন্ন কর্মমুখী গঠন করে থাকে। ক্রেতা ও ডিস্ট্রিবিউটরদের বিভিন্ন কর্ম কৌশল ও ইতিবাচক প্রশিক্ষনের পাশাপাশি শিক্ষা নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়িত্বের ব্যাপারে গনসচেতনতা সৃষ্টি করতে পারে সহজেই।
পৃথিবীর বিখ্যাত কোম্পানী যেমন- আই বি এম, কোলগেট, এভন, পি এন্ড জি, ফিলিপস্, ভিটা ক্রাফ্ট কপোরেশন, ফার্মানেক্স, নিউট্রি মেট্রিক্স, হোমমেইড গরমেন্ট, গোল্ডেন গ্রাইড, ডিসকভারী টয়েজ, ক্লউডিয়া জিন কালেকশন, আবোন, মটোরোলা ইত্যাদি অসংখ্যা প্রতিষ্ঠান নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতির সাথে জড়িত প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে। বিশ্বের মেধাবী উদ্যোক্তারা এ বিষয়টি গ্রহন করছেন। কারন পুরোনো ধ্যান ধারনা ও পদ্ধতি পরিবর্তন করে নতুনের দিকে হাত না বাড়ালে আধুনিক যুগে প্রতিযোগিতায় দিকে থাকা অসম্ভব। আমাদের সময় হয়েছে নতুনকে গ্রহন করার। সভ্যতার বিবর্তনের সাথে সাথে বিপণন পদ্ধতির বিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হবে আমাদের।
লেখক : এম. রহমান আরিফ
]]>এ পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী যতগুলো মার্কেটিং পদ্ধতি আবিষ্কৃত হয়েছে তম্মধ্যে নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতি সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা অর্জনে সমর্থ হয়েছে। বিজ্ঞানের নতুন এক একটি আবিষ্কার যেমন মানুষকে চমকে দেয় তেমনি নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতির আবিষ্কার সমগ্র বিশ্বকে চমকে দিয়েছে। যা শুধু মানুষের কল্যানে আর্শীবাদ হয়ে ধরা দিয়েছে। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতির এমন কিছৃ বৈশিষ্ট্য বা গুনাবলী বিদ্যমান যা অন্যসব মার্কেটিং পদ্ধতির চেয়ে এটিকে অধিক জনপ্রিয় করে তোলেছে। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতির কয়েকটি বিশেষ দিক আলোচনা করে এ জনপ্রিয়তার কারন অনুধাবন করতে পারব।
ক) ক্রেতার দৃষ্টিকোন থেকেঃ
গতানুগতিক বা চলমান বিপণন পদ্ধতিতে আমরা সচরাচর দেখতে পাই একজন ক্রেতা নির্ধারিত মূল্য দিয়ে পণ্য ক্রয় করলে পণ্য ছাড়াও পণ্যভেদে বিক্রয়োত্তর সেবা লাভ করে কিংবা এমনও দেখা যায় একটি পণ্যের সাথে অন্য একটি পণ্য ফ্রি পাওয়া যায়। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতিতে একজন ক্রেতা কি সুবিধা পেয়ে থাকেন তা দেখা যাক।
১। মূল্য অনুযায়ী পণ্য বা সেবা সামগ্রী
২। পণ্য ভেদে বিক্রয়োত্তর সেবা।
৩। পণ্যমূল্যের উপর বিশেষ ছাড় বা কমিশন।
৪। ডিস্ট্রিবিউটর হিসেবে পণ্য বিক্রয়ের মাধ্যমে স্বল্প বা দীর্ঘমেয়াদী আয় করার সুযোগ।
৫। নতুন ক্রেতাদের অন্তভূক্ত করা এবং পার্টটাইম বা ফুলটাইম প্রদান করে ব্যবসা সমপ্রসারনের সুযোগ।
৬। উৎপাদনকারীকে সরাসরি পণ্যের সমস্যা অবহিত করা যায় এবং ক্রেতার অধিকার সংরক্ষিত হয়। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং প্রতিষ্ঠান হতে উপরোক্ত সব সুবিধা প্রাপ্তির পর কোন সন্দেহের অবকাশ থাকেনা যে এ পদ্ধতি জনপ্রিয়তার শীর্ষে অবস্থান করছে বিশ্বব্যপী।
খ) বিক্রয়কর্মী বা বিপণন প্রতিনিধির দৃষ্টিকোন থেকে ঃ
বিক্রয়কর্মী বা বিপণন প্রতিনিধি বলতে আমরা বুঝি যারা কোম্পানীর পণ্য সামগ্রী বিক্রয়ে অংশ নেয়, কোম্পানী তথ্য প্রচার করে, বিপণন কার্য সম্পাদন করে চলমান বিপণন পদ্ধতিতে বিক্রয় কর্মীদের শ্রম ঘন্টা বেধে দেয়া থাকে এবং সেল্স টার্গেট পুরন করতে হয়। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতিতে প্রত্যেক শ্রেণীর লোকজন বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে কারন বিক্রয়কর্মীরা এ পদ্ধতিতে তথ্য বিনিময় করে, স্বাধীনভাবে কাজ করে, নিজের কাজের সময় নিজে নির্ধারন করে নেয়, বিক্রয়কর্মীরা স্পন্সরিং এর মাধ্যমে ডাউন লাইন ডিস্ট্রিবিউটর বা বিক্রয়কর্মীদের পার্সোনাল ভলিউম বা গ্রুপ ভলিউমের উপর আকর্ষনীয় কমিশন লাভের সুযোগ পেয়ে থাকে এখন দেখা যাক কাজের সুযোগ কেমন- মধ্যমসারির একটি চলমান বিপণন পদ্ধতি অনুসরনকারী প্রতিষ্ঠানে যদি একশত বিক্রয়কর্মী বা প্রতিনিধি কাজ করার সুযোগ পায় তবে মধ্যমসারির একটি নেটওয়ার্ক মার্কেটিং প্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগ পাবে লক্ষ্যাধিক বিক্রয়কর্মী বা ডিস্ট্রিবিউটর। ডিস্ট্রিবিউটরদের আয়ও পদোন্নতি সমাজে তাদের মর্যাদা আরো বাড়িয়ে দেয়। ফলস্বরুপ এ পদ্ধতি প্রত্যেকের নিকট জনপ্রিয়তা লাভ করে।
গ। লিডারদের দৃষ্টিকোন থেকে ঃ
নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতিতে লিডার বা নেতা বলা হয় যারা ডিস্ট্রিবিউটর বা বিক্রয়কর্মী হিসেবে নিজের অবস্থানকে প্রথম সারিতে অধিষ্ঠিত করতে পেরেছে এবং ডাউন লাইনদের প্রেষনা প্রদান করে সফলতা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। যে কোন মানুষ নিজের অবস্থানকে সমাজের ও প্রতিষ্ঠানের শীর্ষস্থানে দেখতে ভালবাসে। একজন নেটওয়ার্ক মার্কেটিং লিডার গতানুগতিক পদ্ধতি অনুসরনকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের চেয়ে দশগুন অধিক আয় করার সুযোগ পায় এবং সামাজিক প্রতিপত্তি ও মর্যাদা লাভের মাধ্যমে নিজকে প্রতিষ্ঠা করতে পারে। স্বাভাবিকভাবে উচ্চ শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর কাছে এর চেয়ে জনপ্রিয় পদ্ধতি অন্য কোন্টি হতে পারে না।
কোম্পানীর দৃষ্টিকোন থেকে ঃ
যে কোন প্রতিষ্ঠানের প্রধান লক্ষ্য সর্বাধিক মুনাফা অর্জন এবং পাশাপাশি সামাজিক দায়িত্ব পালন। একটি নেটওয়ার্ক মার্কেটিং কোম্পানী মুনাফা অর্জনে অন্য সব প্রতিষ্ঠানের চেয়ে এগিয়ে থাকে কারন এসব প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্যাধিক ক্রেতা বা ডিস্ট্রিবিউটর বিক্রয়কর্মী ও সেলস লিডার থাকে যারা সার্বক্ষনিক পণ্যও সেবা সামগ্রী বিপণনে ব্যস্ত। মুনাফাজন ছাড়াও সামজিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহন প্রেরণামূলক কর্মমুখী সম্পাদনে নেটওয়ার্ক মার্কেটিং কোম্পানীগুলো এগিয়ে সর্বোপরি ব্যাপক কর্মসংস্থানে সৃষ্টি করে এসব প্রতিষ্ঠান দেশের অর্থনীতিতে বিশেষ অবদান রাখতে সক্ষম হয়।
নেটওয়ার্ক মার্কেটিং কোম্পানীগুলো সাধারণ ক্রেতা বা প্রতিনিধিদের নিয়ে এগিয়ে যায়। যেখানে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও ভোক্তা একে অন্যের জন্য কাজ করে এবং অধিকার সংরক্ষন করে। এটা খুবই স্বাভাবিক যে ভোক্তা বা ক্রেতা ব্যতীত প্রতিষ্ঠান অনেকাংশে মূল্যহীন। প্রচলিত ধারার প্রতিষ্ঠানগুলো মুনাফা বা লাভের জন্যই প্রতিযোগিতায় অবতীর্ন হয় আর নেটওয়ার্ক মার্কেটিং কোম্পানীগুলো ক্রেতাদের আয় বৃদ্ধি ও জীবন যাত্রার মান বৃদ্ধির স্বাথের্ কাজ করে। এ কারনে নেটওয়ার্ক মার্কেটিং বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তার শীর্ষে।
লেখক : এম. রহমান আরিফ
]]>সরাসরি বিক্রয় বা Direct Selling বলতে পণ্য ও সেবা সামগ্রী কোন নির্দিষ্ট মাধ্যম (যেমন এজেন্ট, পাইকারী বিক্রেতা ইত্যাদি) ব্যতীত একজনের (ক্রেতা) মাধ্যমে অন্যজনের প্রাক্তিকে বা উৎপাদন কারী হতে সরাসরি ক্রেতার প্রাক্তিকে বুঝায়। এ পদ্ধতিতে পণ্য বা সেবাসামগ্রী বাজার জাতকরনে অংশ নেয় ক্রেতা বা ভোক্তারা, যারা সক্রিয় বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে এবং নির্দিষ্ট কমিশন লাভে সমর্থ হয়।
According to Direct Selling Association (DSA), “In Direct Selling, Product or services are marketed to customers by independent sales people person. to person Depending or the company, the sales people my be called distibutors, repre sentatie, comsuitants or various other tities. Products are sold primarily through in home product demornstration, parties and one on one selling.”
Direct Selling কোম্পানীগুলো প্রচলিত ধারার বিপণন পদ্ধতি বা গতানুগতিক বিপণন পদ্ধতির কোম্পানীগুলোর চেয়ে ভিন্নভাবে পণ্য সামগ্রী বাজারজাত করে, যেমন- গতানুগতিক বিপণন পদ্ধতিতে বিভিন্ন চ্যানেল ব্যবহার করে এজেন্ট ও ডিস্ট্রিবিউটরদের সহায়তায় পণ্য বিপণন করে থাকে। অন্যদিকে প্রতিনিধি বা ভোক্তার মাধ্যমে সরাসরি পণ্যও সেবা সামগ্রী বিক্রয় করে ডিরেক্ট সেলিং কোম্পানীগুলো।
ডিরেক্ট সেলিং কোম্পানী সাধারণত পণ্য সামগ্রী বিক্রয়ের জন্য প্রতিনিধি বা ডিস্ট্রিবিউটরদের (ক্রেতা বা ভোক্তা যারা কমিশন প্রাপ্তির লক্ষ্যে কাজ করে) কমিশন প্রদানের পাশাপাশি প্রতিনিধি কর্তৃক স্পন্সরকৃত ডাউন লাইন ডিস্ট্রিবিউটরদের উপর দীর্ঘ মেয়াদী কমিশন প্রদান করে। অর্থাৎ এক্ষেত্রে ডিস্ট্রিবিউররগণ নিজস্ব বিক্রয় বা পার্সোনাল ভলিউম ছাড়াও দলীয় বিক্রয় বা গ্রুপ ভলিউমের উপর কমিশন লাভে সক্ষম হয়। স্বাভাবিকভাবেই একজন ডিস্ট্রিবিউটর দীর্ঘমেয়াদে ধারনার চেয়েও অধিক উপার্জন করতে পারে।
সভ্যতার সূচনা হতেই আমরা ডিরেক্ট সেলিং এর সহিত জড়িত বর্তমানে এর পরিবর্তিত আধুনিকরূপ সবক্ষেত্রে জনপ্রিয়তা লাভে সক্ষম হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের অনেক বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান এ পদ্ধতি অনুসরণ করছে। যেমন- এভন (Avon), ইলেকট্রোলাক্স, বাটারফ্লাই (Butterfly), এমওয়ে (Amway) ডিসকভারি টয়েজ (Discovery Toys) আমাজন হাব ন্যাশনাল (National Company) কোম্পানী, নিউ ভিশন ইন্টাঃ (New Vision Int:) ইত্যাদি। আমাদের দেশে কিছু ফার্মাসিকিউটিক্যাল কোম্পানী প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান সরাসরি বিপণন পদ্ধতি অনুসরণ করছে।
লেখক : এম. রহমান আরিফ
]]>ডিরেক্ট সেল্স পদ্ধতিতে উৎপাদনকারী নিজে বা লোক মারফত সরাসরি ভোক্তার নিকট পণ্য বিক্রয় করে। ডিরেক্ট সেলার বা সরাসরি বিক্রেতা হিসেবে যারা পরিচিত তাদের মধ্যে ফেরিওয়ালা, পরিভ্রমনকারী বিক্রেতা ও কাবুলিওয়াল৩দের (উপমহাদেশে) আনাগোনা দেখা যেত বেশি। সাধারণত এরা বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে পণ্য বিক্রয় করতো কেউ কেউ আবার দল বেঁধে গ্রামগঞ্জের হাট বাজারে পণ্য বিক্রয়ের জন্য পসরা সাজিয়ে বসতো।
ঐতিহাসিক বিনিময় প্রথার দিকে দৃষ্টিপাত করলে দেখা যায় একটি পণ্য প্রাপ্তির জন্য অন্য একটি পণ্য প্রদান করার বিধান ছিল যাকে ‘বারটার’ (Barter) বলা হতো। কৃষিজ পণ্যের সাথে গৃহস্থালীর প্রয়োজনীয় পণ্য, বস্ত্র ইত্যাদি বিনিময় করাই ছিল এ বারটার পদ্ধতির উদ্দেশ্য। মুদ্রা প্রথা চালুর পূর্ব পর্যন্ত এ পদ্ধতির প্রচলন ছিল।
সভ্যতার শুরুতে মিশর, সিরিয়া, ব্যবিলনীয়া ও ইন্ডিয়াতে ব্যবসায়িক প্রথা চালু ছিল। প্রাচীন গ্রীকের সাথে এশিয়ার এসব দেশের গৃহস্থালীর যন্ত্রপাতি, রান্নাঘর সামগ্রী, কাপড় ইত্যাদি আদান-প্রদান হতো। বর্তমান তুর্কী ( যা পূর্বে এন্তোনিয়া নামে পরিচিত ছিল) এলাকার লোকজন গাঁধার পিঠে চড়ে কাপড় বিক্রয় করে বেড়াতো।
পাঁচশত খ্রিষ্টাব্দের দিকে এথেন্সে সরাসরি বিপণনের ব্যাপক প্রচলন শুরু হয়। প্রস্তুতকারীরা কোন ধরনের মধ্যস্থকারবারীর সহযোগিতা ব্যতীত তাদের উৎপাদিত পণ্য সরাসরি ক্রেতাদের নিকট বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন উৎসব ও মেলার আয়োজন করতো। খ্রিস্টাব্দে ১০০০ এর দিকে সমত্র বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক সস্ত্র্ত্রসারন হতে শুরু করে, এর ফলে ডিরেক্ট সেলারদের বান্যিজিক কার্যক্রম প্রসার পেতে থাকে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের দরুন বিক্রেতাদের কায্যক্রম আরও সহজতর হতে থাকে। দূর দুরান্ত হতে পণ্য সামগ্রী গ্রামগঞ্জে বিস্তৃতি লাভ করতে শুরু করে। ফ্রান্সে, ডিরেক্ট সেলাররা বড় বড় শহরগুলো থেকে নতুন পণ্য সামগ্রী এনে বাণিজ্য বৃদ্ধি করেছিল মফস্বলে ও গ্রামগঞ্জে পাশাপাশি ডিরেক্ট সেলারদের কাছ থেকে কেনা সুঁতি সিল্কের বেল্ট, মহিলাদের ওড়না, পিতলের দ্রব্যাদি, ইত্যাদির মাধ্যমে বড় বড় দোকানগুলো সজ্জিত হতো।
আমেরিকার বিখ্যাত ইয়াংকিরা ঘোড়ায় চড়ে সুঁই, পিন, কাঁচি, চিরুনী, পারফিউম জাতীয় পণ্য ফেরি করতো। পর্যায়ক্রমে তারা পশ্চিমাঞ্চল ও কানাডায় বিক্রয় কার্যক্রম চালাতে থাকে। ব্যবসার সুবিধার্থে তারা পানিপথ ব্যবহার করতো বেশি। ইউরোপিয়ন যাযাবররা নতুন নতুন স্থানে সরাসরি পণ্য বিক্রয় করতো তাঁরা দল বেঁধে একস্থানে সাময়িক আবাস তৈরি করে এবং কাছাকাছি স্থানে পণ্য বিক্রয় শেষে পুনরায় নতুন স্থানে গিয়ে আবাস গড়তো। সাধারণত ইংল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, জার্মানীসহ বিভিন্ন ইউরোপীয় দেশগুলোতে ইউরোপিয়ান যাযাবরদের বিচরণ ছিল বেশি বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশেই ডিরেক্ট সেল্স এর ছোঁয়া লেগেছিল।*
বাজার প্রথা চালুর পূর্ব পর্যন্ত ডিরেক্ট সেল্স বা সরাসরি বিক্রয় পদ্ধতি ছিল সমগ্র বিশ্বব্যাপী পণ্য বিনিময়ের অন্যতম মাধ্যম এরপর বিপণনের বিবর্তন ঘটতে থাকে, বাজার পদ্ধতি চালূ হওয়ার সাথে সাথে মধ্যস্থ কারবারির সংখ্যা বাড়তে থাকে, ক্রেতা বা ভোক্তারা পূর্বের তুলনায় অধিক মূল্যে পণ্য ক্রয় করতে অনেকটা বাধ্য হলো অর্থাৎ বাজারের নিয়ন্ত্রন পুঁজিবাদী ব্যবসায়ীদের হাতে চলে যায়।
ঊনিশ শতকের শেষ ও বিংশ শতকের শুরুতে পুনরায় ডিরেক্ট সেল্স বা সরাসরি বিক্রয়ের আর্বিভাব হয়। এবং এ পদ্ধতির অনেকটা উন্নতি লক্ষ্য করা যায়। উৎপাদনকারীর কাছ থেকে লোকজন পণ্য ক্রয় করে তা বন্ধু-বান্ধব ও প্রতিবেশিদের কাছে ¯^í লাভে বিক্রয়ের প্রচলন ঘটে। পরবর্তীতে হোম বেইজ বিক্রয় প্রথা চালু হয়।
ঊনিশশত চল্লিশের দিকে সরাসরি বিক্রয় প্রথার এক চমৎকার আর্বিভাব ঘটে।
আমেরিকার বিখ্যাত কেমিস্ট ডঃ কাল রেইন বোর্গ তার উৎপাদিত কৃত্রিম ভিটামিন (যা আয়োডিন ও ভিটামিন ‘ই’ এর সংমিশ্রনে তৈরী) বাজারজাত করনের জন্য সর্বপ্রনম বহুমাত্রিক পদ্ধতি এর ধারনা প্রবর্তন করেন। পাশাপাশি ‘ক্যালিফোনিয়া ভিটামিন, নামে একটি কোম্পানী প্রতিষ্ঠা করেন যা বিশ্বের প্রথম নেটওয়ার্ক মার্কেটিং কোম্পানী বলে স্বীকৃতি পায়। কারন ১৯৪০ সালের শুরুতে এটিই একমাত্র প্রতিষ্ঠান যার বিক্রয় কার্যক্রম ছিল বহুস্তরে বিভক্ত, যে ধারনা) হতে জন্ম নেয় বহুমাত্রিক বিপণন পদ্ধতি বা মাল্টিলেভেল মার্কেটিং পদ্ধতি। ডিরেক্ট সেল্স ও নেটওয়ার্ক মার্কেটিং এ দুটোর সূল পার্থক্য স্পন্সরিং অর্থাৎ ডাউন লাইন হতে প্রাপ্ত কমিশন। বর্তমানে মাল্টিলেভেল কিংবা সিঙ্গেল লেভেল সবক্টিই ডিরেক্ট সেল্স এর অর্ন্তভূক্ত।
১৯৫৯ সালে Nutilite Product Inc. (যার পূর্ব নাম ক্যালিফোনিয়া ভিটামিন, এর দুজন শীর্ষস্থানীয় ডিস্ট্রিবিউটর Amway Corporation নামে নতুন নেটৗয়ার্ক মার্কেটিং কোম্পানী প্রতিষ্ঠা করেন। এমওয়ে কপোরেশন বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় একটি কোম্পানী। ১৯৫৮-৫৯ সালের দিকে আমেরিকান পার্লামেন্টে নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতি আইনগত স্বীকৃতি লাভ করে। ১৯৭৫-৭৯ সনে নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতির বৈধতার প্রশ্ন তোলে আমেরিকান সংস্থা FTC (Federal Trade Commission) নেটওয়ার্ক পদ্ধতির উপর নিষেধাক্তা আরোপ করে। এমওয়ে কপোরেশন এ নিষেধাক্তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আদালতের শরণাপন্ন হয়। FTC ও Amway Corp. এর এই মামলাকে Amway Safeguard বরে বিবেচনা করা হয়। পরবতীতে এ মামলার রায়ে নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতি বৈধতা লাভ করে। মূলত ভোক্তা বা ক্রেতার অধিকার সংরক্ষণ ও পিরামিড স্কীমের ব্যবহার বন্ধের উদ্দেশ্যে FTC এমন পদক্ষেপ গ্রহন করে।
বর্তমানে আমেরিকায় প্রায় দুইশত এর বেশি নেটওয়ার্ক মার্কেটিং কোম্পানী কার্যরত এর প্রতিটি কোম্পানীর শাখা বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত। ২০০০ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী ৫৫ভাগ আমেরিকান নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতিতে পণ্য ক্রয় করে এবং ৫০ ভাগ মানুষ ইন্টারনেট প্রযুক্তি ব্যভহার করে পণ্য ক্রয় করে। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও ১৯৬৩ সালে জাপানে নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতি চালু হয়। বর্তমানে এশিয়াতে প্রায় সব কটি দেশে এ পদ্ধতি বিস্তার লাভ করছে। এমনকি চীনেও এ পদ্ধতির জনপ্রিয়তা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। মালয়শিয়ার প্রতিটি মানুষ কোন কোন এম এল এম প্রতিষ্ঠানের সহিত জড়িত তারা ঘরে বসেই প্লান প্রদর্শন করে ও স্পন্সর তৈরী করে। আমাদের দেশে উদেক্তার অভাব ও সঠিক পদ্ধতি অনুসরনের অভাবে নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতি জনপ্রিয় হয়ে উঠছেনা। এ পদ্ধতির সম্ভাবনা বাংলাদেশে খুবই উজ্জ্বল।
বর্তমানে মোবাইল ও ইন্টারনেট প্রযুক্তি নেটওয়ার্ক মার্কেটিং আরো এক ধাপ এগিয়ে নিয়েছে। সমগ্র বিশ্বকে হাতের মুঠোয় এনে ব্যবসাকে করেছে গতিশীল ও সমৃদ্ধশালী। বিপণন পদ্ধতি নিত্য পরিবর্তিত হচ্ছে সংযোগ ঘটছে নতুন প্রযুক্তির বিপণনের এ বিবর্তন আগামী কাল হয়তো অন্য রূপ ধারন করবে। পুরোনো ধ্যান-ধারনা বা পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে আমাদেরও দৌঁড়াতে হবে সময়ের সাথে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে।
লেখক : এম. রহমান আরিফ
]]>