১) প্রথমে পণ্য সিলেকশন করুন এরপর পণ্যের সাথে সংগতি রেখে কমিশন প্লান ও মার্কেট ষ্ট্রাটেজী নির্ধারন করুন। কারন আমরা দেখেছি সব পণ্য সব প্লানে সফল হয় না। আপনি শুরু করলেন ইউনানী পণ্য দিয়ে এরপর ইলেক্ট্রনিক্স তারপর গার্মেন্টস পণ্য অর্থাৎ যখন যেটা সুবিধা মনে হচ্ছে সেটাই নিয়ে আসলেন এমনটি করা খুবই বিপদজ্জনক। এবং পণ্যের গুনগতমানের সাথে মূল্যের সামঞ্জস্য রাখুন।
২) যদি শতভাগ নেটওয়ার্ক মার্কেটিং কনসেপ্ট নিয়ে এগোতে চান তাহলে মৌলিক বিষয়গুলো থেকে কখনও বিচ্যুত হওয়া যাবে না। আপনার কমিশন সিস্টেম হলো এমএলএম আর আপনি বলছেন এফিলিয়েট মার্কেটিং এমন করা যাবে না। আইনের সাথে সংগতি রেখেই চলতে হবে।
৩) যদি পণ্য ইউনিক না হয় তবে এক ধরনের পরিকল্পনা করুন যদি কমন প্রডাক্ট হয় তবে পরিকল্পনায় ভিন্নতা আনুন।
৪) ১০% এর বেশি বেকার বা ফুলটাইমার নেয়া থেকে বিরত থাকুন। অর্থাৎ মোট পরিবেশকের সর্বোচ্চ ১০% ফুলটাইমার হবে। এতে করে ঝরে যাওয়ার পার্সেন্টেজ কমে যাবে।
৫) যারা অন্য কোন পেশা বা পড়াশুনার (কমপক্ষে উচ্চমাধ্যমিক) পাশাপাশি পার্টটাইম করতে ইচ্ছুক তাদের প্রাধান্য দিন।
৬) লয়েল কাস্টমার বেজ গড়ে তুলুন যার জন্য প্রয়োজন কোয়ালিটি পণ্য ভাল মূল্য।
৭) ছোট পরিসরে হলেও একটা মার্কেটিং রিসার্চ ইউনিট রাখা যেখানে প্রতিটা পরিবেশকের তথ্য, কর্মকান্ড, ভুমিকা বিষয়ে পরিসংখ্যান থাকবে।
৮) প্রতিষ্ঠানের ফুলটাইমার ও পার্টটাইমারগন গড়ে প্রতিমাসে কত টাকা আয় করছেন সে তথ্য সংগ্রহে রেখে কার্যকরী পদক্ষেপ নিন। কারন প্রত্যেক পরিবেশক কোম্পানীর জন্য একেকজন এম্বেসেডর।
৯) কোম্পানীর সামগ্রিক বিষয়ের সাথে সংগতিপূর্ণ বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণ কর্মশালা সাজানো।
১০) শুরুতে আপনার প্রতিষ্ঠানের জন্য কমপক্ষে ৬ মাসের বাজেট রাখুন যাতে দ্রুত সেলস না এলেও লিডারদের উপর চাপ না আসে।
১১) ইকুয়েল অপরচুনিটি প্লান বাস্তবায়ন করুন। প্রত্যেক পরিবেশক ও লিডারদের সমান দৃষ্টিতে দেখুন। যার যতটুকু প্রাপ্য নিশ্চিত করুন।
উদ্যোক্তাদের জন্য সহযোগিতা ও পরামর্শের দ্বার সকল সময়ের উম্মুক্ত থাকবে ইনসাআল্লাহ
লেখক : এম. রহমান আরিফ
]]>সংকটকালীন সময়ে (বর্তমান করোনা) ব্যবসার কৌশলগত কিছু পরিবর্তন অপরিহার্য হয়ে পড়ে যেমন বিষয়গুলো কেমন হতে পারেঃ
১) পণ্য বাছাইয়ের ক্ষেত্রে যেমনঃ যেসব পণ্য ইমিউন সিস্টেম গঠনে সহায়ক, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, সুস্থ রাখতে সহায়তা করে।
২) কম পরিশ্রমের সময়ে যাতে শরীরে ফ্যাট বা চর্বি বেড়ে না যায় সেসব পণ্য অধিক চাহিদা তৈরী হবে
৩) সহজলভ্য পণ্য যেসব পণ্য কম সময়ে ও কোন ধরনের সমস্যা ছাড়া পাওয়া যাবে
৪) এই সংকটকালীন সময়ে টীম ও গ্রুপ সেলের সুযোগ কম তাই ব্যক্তিক বিক্রয় পার্সোনাল সেল বাড়াতে হবে
৫) অনলাইনে সেলের প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে এবং যেহেতু কাস্টমারে লেভেলে পয়েন্ট/পিভি’র প্রয়োজন নেই তাই মূল্যের প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে।
৬) এমএলএম পণ্য ছাড়াও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে অত্যাধিক প্রয়োজনীয় ও জরুরী পণ্য সামগ্রী বিক্রয়ের প্রচেষ্টা করা
৭) একই সাথে টীমের অন্যান্য সদস্যদের একক বিক্রয়ের প্রতি জোর প্রদান করা
৮) ‘বারটার সিস্টেম’ এর কথা মনে আছে, অর্থাৎ যখন টাকার লেনদেন ছিল না, তখন পণ্য বিনিময় প্রথা ছিল। বর্তমান সময়টাকে তেমনই মনে করতে হবে। চারদিকে লক্ষ্য করে দেখুন কার কি প্রয়োজন এবং কোন পণ্যটি বা সেবাটি আপনার দ্বারা সম্ভব। এরপর ব্যবসা নামুন।
৯) কে কিভাবে সময় কাটাচ্ছে এবং তার কাছে সুবিধাজনক কোন ব্যবসা আছে কিনা খোঁজ নিন তবে অবশ্যই মানিগেম বা অবৈধ কোন ব্যবসায় জড়াবেন না।
১০) বর্তমান সময় প্রত্যেক মানুষের জন্য সংকটপূর্ণ তাই ধৈর্য্যহারা হবেন না, একই সাথে এমন কোন ঝুঁকি নিবেন না যা আপনার ও পরিবারের জন্য বিপদজনক হতে পারে।
নিরাপদ থাকুন, সুরক্ষিত থাকুন, সচেতন থাকুন
ধন্যবাদ সবাইকে

লেখক : এম. রহমান আরিফ
]]>একজন নেটওয়ার্কার বা ডিরেক্ট সেলারের জন্য পরিকল্পনা অনুযায়ী পথচলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিশেষ করে যারা নেটওয়ার্ক মার্কেটিংকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করতে চায়। কিভাবে নিজেকে প্রস্তুত করবে তার সংক্ষিপ্ত কয়েকটি ধাপ তুলে ধরলাম, পরবর্তীতে ইনসাআল্লাহ আরো ব্যাপক আকারে লেখার চেষ্টা থাকবে।
বাংলায় অনুবাদকৃত
(এই ওয়েবসাইটের প্রতিটি লেখা সংরক্ষিত, দয়া করে কপি না করে শেয়ার করুন)
লেখক : এম. রহমান আরিফ
]]>সরকার আপনার প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দিয়েছে মানে এই নয় যে আপনি অবৈধ কাজ করবেন। সরকার না বুঝলেও নেটওয়ার্কাররা এতদিনে অন্তত এটুকু বুঝতে পেরেছে কোন পিরামিড স্কীম আর কোনটা মানিগেম। আইনের চোখ ফাঁকি দিয়ে কিছু করলে আইন নিয়ে সংশয় দেখা দিবে সাধারন মানুষের মাঝে। চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখানোর প্রয়োজন নেই কারা অবৈধ কাজ করছে, সময়ের সাথে সাথে সঠিক বিষয়টি প্রত্যেক নেটওয়ার্কারের কাছে পরিস্কার হয়ে যাচ্ছে। যেসব নেটওয়ার্কার ভুল করে সময় ও অর্থ হারিয়ে বুঝতে সক্ষম হয়েছে প্রকৃত মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং আর ফরওয়ার্ড সেলিং এর নামে প্রতারণা মধ্যে পাথর্ক্য। আশা করছি এদের কাছ থেকে অন্যরাও শিখবে। আমাদের লিডাররা পূর্বে শুধু মুটিভেশনই সীমাবদ্ধ ছিল এখন বাস্তবমূখী হচ্ছে, আগে শুধু পড়তো এখন লাইক ও শেয়ার দুটোই করে।
দুঃখজনক হলেও এটাই সত্য মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং এর নামে যে পরিমাণ অবৈধ অর্থ বিগত কয়েক বছরে লেনদেন হয়েছে তা যদি সঠিকভাবে ও সঠিক পথে ব্যয় হতো তবে এই বাংলাদেশের এমএলএম শিল্প সারা বিশ্বে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হতো। একটি বিদেশী প্রতিষ্ঠান যদি বিগত ১২ বছরে ১২০০কোটি টাকার পণ্য বিক্রয় করে সফল হতে পারে বাংলাদেশী কোম্পানীগুলো কেন পারছে না। মূলত বিষয়টি নির্ভর করছে কতটা বাস্তবমূখী আর সঠিক কর্মকান্ড নিয়ে আপনি পরিচালিত হবেন তার উপর।
এই এমএলএম শিল্প কিছু মানুষের জন্য আর্শীবাদ নিয়ে এসেছিল যারা হাজার হাজার কোটি টাকা হাতে পেয়েও কাজে লাগাতে পারেনি। বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ইচ্ছে করলেই মার্কেট থেকে হাজার কোটি টাকা তুলতে পারে না কিন্তু এমএলএম সূত্র দিয়ে অনেকেই শুন্য হাতে এসেও তা পেরেছেন কিন্তু সেই টাকা ইন্ডাষ্টিতে বিনিয়োগ না করে মালা গেঁথেছেন আর নিজের সম্মোহনী ক্ষমতা বাড়িয়েছেন। কিছু অপরিণত ব্যবসায়ী এই এমএলএম সূত্র পেয়ে কোটিপতি বনে গেছে আর লক্ষ লক্ষ তরুনের মর্যাদা আর ভবিষ্যত ধূলোয় মিশিয়ে দিয়েছে। মালয়েশিয়া আর নেপাল বেড়াতে না গিয়ে দেখে আসো কিভাবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জার্মান, জাপান, যুক্তরাজ্য এমএলএম করছে। কিভাবে তারা বিলিয়ন ডলার সেল করছে।
কথায় আছে, “ওদের শিখতে দেয়া যাবে না তাহলে আমাদের ধ্বংস অনিবার্য”। নেটওয়ার্কারদের প্রকৃত এমএলএম শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়া মানে ভুঁইফোড় উদ্যোক্তাদের মাথায় হাত। অশিক্ষা আর অল্প শিক্ষার ভারে ন্যূজ এ জাতির জন্য মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং ততদিন আর্শীবাদ হবে যতদিন সৎ ও দেশপ্রেমিক উদ্যোক্তা এর হাল না ধরে। আমরা যেখানে এখনও সাধারন ক্রেতা-পরিবেশকদের অর্থ ও বিনিয়োগের উপর নির্ভর করে নিজেদের প্রতিষ্ঠান ও সম্পদ গড়তে ব্যস্ত তখন বিশ্বের মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং কোম্পানী সামাজিক দায়িত্ব (Social Responsibility) পালন করে বিশ্বে নিজেদের অবস্থানকে জানান দিয়ে সক্ষম হচ্ছে। সক্ষম হচ্ছে মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং পদ্ধতিকে মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য করে গড়ে তোলার। নিচের ছবিতে এমওয়ে কর্পোরেশন কর্তৃক সামাজিক দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতি প্রাপ্তির নমুনা দিলাম।
আমি অবাক হয়ে যাই কতটা সহজ সরল হলে আমাদের নেটওয়ার্কার ও পরিবেশকগন সালাম দিয়ে হাতখানা বুকের সাথে লাগায়। আমরা হয়তো উন্নত জাতি হতে পারিনি কিন্তু আমাদের মানুষগুলো মাটির মানুষ। যে মানুষগুলো আমাকে আপনাকে শিল্পপতি বানাচ্ছে আমরা তাদের মাথায় আঘাত করছি। যে তরুনগুলো কিছু কথা শোনার জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকে আমরা তাদের জীবনকে চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিচ্ছি। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে- এর বিকল্প পথ নেই।
যখন একটি প্রতিষ্ঠানের সাথে অনেকগুলো মানুষ, অনেকগুলো পরিবার, অনেকগুলো স্বপ্ন আর অনেক প্রাপ্তির সমন্বয় ঘটে তখন তাহাকে এমএলএম বলে। আসুন আমরা সবাই মিলে মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং শিল্প গড়ে তুলি।
লেখক : এম. রহমান আরিফ
