লেখক : এম. রহমান আরিফ
]]>আপনার অভিজ্ঞতা, শিক্ষন, আপ-লাইন ডিস্ট্রিবিউটরদের সহিত আলোচনা এবং এক্সপার্টদের পরামর্শ গ্রহন করবেন উপরোক্ত বিষয়গুলো নির্ধারনের ক্ষেত্রে। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ব্যবসায় এককভাবে কেহ সফল হতে পারে না। অন্যদের সহযোগিতা ব্যতীত উদাহরণ স্বরূপ ধরুন, আপনি আপনার ডাউনলাইনারদের নিয়ে যে দলটি গঠন করেছেন এর নাম দিয়েছেন “বিবর্তন চ্যালেঞ্জ গ্রুপ।” আপনার ঠিক ইমিডিয়েট ডাউনলাইনার (যাকে সরাসরি হাত বলে থাকি) আর একটি দল গঠন করেছে যার নাম “এক্সপার্ট মিশন গ্রুপ” ধরে নিই আপনার ডাউনলাইনের এরূপ দশটি গ্রুপ বা দল কাজ করছে। ডাউনলাইনের প্রত্যেকটি দলের সফলতা আপনার জন্য সফলতা বয়ে আনবে। লক্ষ্য করুন প্রতিটি দলের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে সামঞ্জস্য আছে। দলনেতা হিসেবে আপনার কাজ হবে নীতিমালা ও কার্যক্রম নির্ধারনে সহযোগিতা প্রদান। আপনার ডাউনলাইনের প্রতিটি দল বা গ্রুপই আপনার গ্রুপের সাব-গ্রুপ।
এবার দেখা যাক যাদের নিয়ে দল বা গ্রুপ তৈরী করবেন তাদের কিভাবে বাছাই করবেন। আপনার ডাউনলাইনের প্রত্যেক ডিস্ট্রিবিউটরই আপনার গ্রুপের সদস্য, কিন্তু এদের মধ্যে রয়েছে পরিশ্রমী আবার কেউবা অলস। কারো আগ্রহ বেশি কারও কম। এদের মধ্য হতে বাছাই করতে হবে গ্রুপের দায়িত্বশীল লোকদের। বাছাইয়ের জন্য নিন্মোক্ত ধাপগুলো অনুসরণ করুনঃ
প্রথম ধাপঃ ডাউনলাইন ডিস্ট্রিবিউটরদের জীবন বৃত্তান্ত সংগ্রহ করুন। এবার পরীক্ষা করে দেখুন প্রতিষ্ঠানে কাজ করার মতো তার যোগ্যতা আছে কিনা।
দ্বিতীয় ধাপঃ ব্যক্তির আগ্রহ যাচাই করুন। শখের বসে যারা কাজ করছে তারা যে কোন দলের জন্য উপযুক্ত নয়। যারা এ ব্যবসা সম্পর্কে খুবই আশাবাদী ও ফলাফল প্রত্যাশী তাদের চিহ্নিত করুন। এজন্য দক্ষ দলনেতা হিসেবে আপনাকে আগ্রহী ব্যক্তিদের খুঁজে বের করা আবশ্যক।
তৃতীয় ধাপঃ এধাপে আগ্রহী ব্যক্তিদের প্রতিক্রিয়া যাচাই করুন। কাজের ধরন, নিরলস শ্রম ও ব্যক্তিক উদ্দেশ্যের উপর ভিত্তি করে ডিস্ট্রিবিউটররা ইতিবাচক বা নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া করে। আপনি যাদের নিয়ে দল গঠন করবেন তাদের নিকট হতে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া একান্ত আবশ্যক।
চতুর্থ ধাপঃ এধাপটিতে যাচাই করুন আগ্রহী ব্যক্তি কতটুকু দায়িত্বশীল। নিজেকে নিয়ন্ত্রন করতে ব্যর্থ ব্যক্তিদের দায়িত্বপ্রদান অনুচিত। দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের খুঁজে নেয়ার জন্য প্রথমে তাদের ছোট কাজ দিন এবং সময় বেঁধে দিন। যারা অধিক আগ্রহী কিন্তু দায়িত্বে অবহেলা করে তারা যে কোন দলের জন্য ক্ষতিকর আবার যারা আগ্রহী ও দায়িত্ব পালন করে তারা দলের নেতৃত্বে যোগ্য।
পঞ্চম ধাপঃ বিভিন্ন পেশা ও শ্রেণীর ব্যক্তির আগমন ঘটবে আপনার দলে। কেউবা চাকুরীজিবী, কেউবা ব্যবসায়ী, কেউবা ছাত্র, কেউবা গৃহবধু, কেউবা চাকুরী সন্ধানী, কেউবা পেশাজীবি ইত্যাদি। আপনাকে কিছু বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে যেমনঃ- চাকুরীজিবীরা পূর্ণ সময় প্রদানে অক্ষম, আবার গৃহবধুরা নির্দিষ্ট সময় প্রদান করতে পারবেন না ইত্যাদি।
উপরোক্ত সব বিষয়গুলো বিবেচনা করে দল গঠন করতে হবে। একই দলে বিভিন্ন পেশা ও শ্রেণীর লোকজনের সমাগম ঘটাতে হবে। এতে অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানের সংমিশ্রণ ঘটে। এর ফলাফলও অনেক শ্রেয়।
লেখক : এম. রহমান আরিফ
]]>যে কোন ক্ষেত্রে সাফ্যল্য প্রাপ্তির জন্য প্রয়োজন পূর্ব প্রস্তুতি। অর্থাৎ লক্ষ্য নির্ধারণ, পরিকল্পনা, দৃঢ় মনোবল ও পরিশ্রম। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ব্যবসায় সফলতার জন্য প্রয়োজন-আত্মনির্মাণ। কি করা উচিত, কি অনুচিত, কি করা প্রয়োজন, আর কি প্রয়োজন নহে, কি ভালো আর কি মন্দ এসব বুঝতে পারলেই আপনি আত্মনির্মাণ করতে পারবেন। আত্মনির্মাণে সঠিকপথ খুঁজে নিতে নিমোক্ত বিষয়গুলো সহায়ক হতে পারে।
সুস্পষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করুনঃ জীবনের অনেক পর্যায়ে লক্ষ্য স্থির করলেও তা অর্জন করতে পারেননি। এস এস সি পাশ করে জীবনের লক্ষ্য স্থির করেছিলেন ডাক্তার হবেন, কিন্তু তা হতে পারেননি। মাস্টার্স করে চাকুরীর খোঁজে যখন জুতার নিচের অংশে খসে পড়ল তখন জীবনের লক্ষ্য থাকবেই বা কেন? কিন্তু আত্মনির্মাণে সুস্পষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ অত্যাবশ্যক, আপনার লক্ষ্য অবশ্যই বাস্তব সম্মত হতে হবে, যদি তাই হয় তবে আত্মনির্মাণে একধাপ এগিয়ে গেলেন।
চিন্তা ও কাজের সমন্বয় ঘটানঃ আপনার চিন্তা যতটা গঠনমূলক হবে তেমনি কাজেও গতিশীলতা আনবে। সকালের কাজে যেমনটি চিন্তা করেছেন- সকাল নয়টায় প্রশিক্ষণ গ্রহণ, তারপর প্রেজেন্টেশন, ক্লোজিং, ফলোআপ ও গ্র“প মিটিং ইত্যাদি। যখনই উপরোক্ত কাজগুলো সময় মতো পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করবেন মনে প্রশান্তি আসবে, অর্থাৎ চিন্তা ও কাজের সমন্বয় ঘটাতে আপনি সক্ষম।
পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সজাগ থাকুনঃ যে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন তা অবশ্যই আপনার মঙ্গল বয়ে আনবে। পরিকল্পনার প্রতিটি ধাপ ক্রমান্বয়ে অতিক্রম করতে পারলেন কিনা সেদিকে সজাগ থাকুন। পরিকল্পনায় একধাপ এগিয়ে যাওয়া মানেই আপনার আত্মবিশ্বাস বেড়ে যাওয়া। সুষ্ঠ পরিকল্পনা মানে সাফল্যের পথ অর্ধেক অতিক্রম করা।
অন্যকে জয় করুন, আপনার জয় সুনিশ্চিতঃ অন্যকে জয় করার জন্য নিজেকে সঁপে দিন। এ ব্যবসায় যা খুবই কার্যকর উপায় তা হল আপনি দশজনের কথা ভাবুন, অবশ্যই তারা আপনার জয় নিশ্চিত করবে। কাউকে সাফল্যের চূঁড়ায় পৌঁছে দেয়ার প্রয়োজন নেই, সঠিক পথ ও সঠিক পরামর্শ দিন। আপনাকে তারাই এগিয়ে নেবে যাদের আপনি পথ দেখাবেন।
নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলুনঃ যেখানে আপনার প্রয়োজন নেই সেখানে আপনার সফলতাও নেই। অনেকের মাঝে যখন আপনার গুরুত্ব বেশী তখন আপনার নির্দেশ কিংবা উপদেশ পালন করার মানুষও বেশী। অনেক বড় হয়েও যখন আপনি গুরুত্বপূর্ণ নন ধরে নিন আপনি ব্যর্থ। সাধারণত যে কোন ডিস্ট্রিবিউটরের জন্য তার ডাউনলাইন ক্রেতাগণ অধিক গুরুত্বপূর্ণ । আপনার ডাউনলাইন ডিস্ট্রিবিউটরদের নিকট নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলতে হবে।
ইতিবাচক মনোভাব ও সৃজনশীল ভাবনাঃ আত্মনির্মাণ করতে ইতিবাচক মনোভাব আবশ্যক। ইতিবাচক মনোভাব ছাড়া আপনার কল্পনাশক্তিও কাজ করবে না। এ জন্য নেটওয়ার্ক মার্কেটিং এ নেতিবাচক মনোভাবেন কোন স্থান নেই। ইতিবাচক মনোভাব সেখানেই যেখানে সৃজনশীল চিন্তা-ভাবনার জন্ম হয়। সৃজনশীলতাই সাফল্যের সহজ পথ সৃষ্টি করে।
প্রত্যেকের কথার মূল্যায়ন করুনঃ আমরা সাধারণত বলতে পছন্দ করি, শুনতে নয়। যারা বেশী শুনে বলে কম তারা বুদ্ধিমান। বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের কাছ থেকে বিভিন্ন কিছু শেখার সুযোগ আছে। এজন্য প্রত্যেকের কথার মূল্যায়ন করুন। তাদের বলতে দিন। তাদের দশটি কথার একটি আপনার ভালো লাগতে পারে- তা মনে রাখুন, বাকীটুকু ঝেড়ে ফেলুন।
লেখক : এম. রহমান আরিফ
]]>
লেখক : এম. রহমান আরিফ
]]>প্রথম পদক্ষেপ হলো আপনার প্রতিষ্ঠান ও পণ্য সামগ্রী সম্পর্কে জানুন। পণ্যের গুণাগুণ সম্পর্কে পুরোপুরি নিশ্চিত হউন। পণ্যের মোড়কে যেসব নির্দেশনা দেয়া থাকে তা ভালোভাবে পড়–ন। পণ্যের মূল্য বাজারের সাথে সংগতিপূর্ণ কিনা যাচাই করে নিন।
দ্বিতীয় পদক্ষেপ হলো পণ্যের ব্যবহার ও প্রয়োগ ভালোভাবে জানার জন্য প্রশিক্ষণ গ্রহণ করুন বিক্রয় ও বিপণন কার্যক্রম সঠিকভাবে সম্পাদনের জন্য পণ্য সম্পর্কে ব্যাপক ধারণা আবশ্যক।
তৃতীয় পদক্ষেপ ক্রেতা চিহ্নিতকরণ এ পর্যায়ে আপনাকে উক্ত পণ্যের ক্রেতা বা ভোক্তা চিহ্নিত করতে হবে। হারবাল পণ্য ক্রয়ের জন্য ক্রেতাকে উদ্ধুদ্ধ করতে হবে। “সুস্থ ও নিরাপদ জীবনের জন্য হারবাল ও নিউট্রিশনাল ফুড গ্রহণ প্রত্যেকের জন্য প্রয়োজন” এ স্লোগানটি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ক্রেতা চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে বয়স, আর্থিক অবস্থান, শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করতে হবে। ক্রেতার চাহিদা কি বা কি হতে পারে এবং মনোভাব বিশ্লেষণ করা উচিত। যেমন এমন অনেকেই আছেন যারা হারবাল পণ্যে আস্থা রাখে কিন্তু নির্ভরযোগ্যতা ও সঠিক তথ্যের অভাবে ক্রয় হতে বিরত থাকে। অতএব ক্রেতা চিহ্নিতকরণ সফল বিক্রয় কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
চতুর্থ পদক্ষেপ হলো সেল্স টীম বা বিক্রয় দল গঠন। এমএলএম পদ্ধতিতে সেল্স টীম ব্যতীত এককভাবে পণ্য বিক্রয় করে সাফল্য লাভ অনেক কঠিন। বরং স্পন্সরিং এর মাধ্যমে টীম (দল) গঠন ও সম্মিলিত প্রয়াসই সফলতার মূল ভিত্তি। এজন্য উচ্চকাঙ্খী, আয়প্রত্যাশী, পরিশ্রমী মানুষ বাছাই করুন যারা আপনার সেল্স টীমের সদস্য হবেন।
উপরোক্ত পদক্ষেপ অনুযায়ী এগুলো যে কেহ লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হবে। এমএলএম ব্যবসায় পরিশ্রম নেই এমন ধারণা ভুল। তবে এ সত্য যে অনেক কম পরিশ্রম ও ঝুঁকিবিহীন ব্যবসার মাধ্যমে দ্রুত আর্থিক স্বচ্ছলতা অর্জন করা সম্ভব, স্বাধীন জীবন যাপন সম্ভব। আমরা এমওয়ে কর্পোরেশন, ইউজানা, এভন কিংবা হারলাইফ ইন্টারন্যাশনাল সম্পর্কে জানলে এর সত্যতা অনুধাবন করতে পারব।
লেখক : এম. রহমান আরিফ
]]>খ. কাজের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধিঃ
নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ব্যবসায় বিক্রয়কর্মী বা ডিস্ট্রিবিউটরদের কাজের প্রতি আগ্রহের উপরই নির্ভর করে সাফল্য। দলবদ্ধভাবে কাজ করার মাধ্যমে প্রত্যেকের আগ্রহ অনেকাংশে বেড়ে যায়। দলের অনেকের সফলতা দেখে নতুনরা কাজ করার আগ্রহ প্রদর্শন করে। এ ধরনের পদ্ধতিতে একজনের সফলতা অনেকাংশে অন্যের উপর নির্ভরশীল যার দরুন একে অন্যের সহযোগিতায় এগিয়ে আসে।
গ. মর্যাদা ও তৃপ্তি লাভঃ
নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতিতে দল গঠনের মাধ্যমে ডিস্ট্রিবিউটরগণ সাফল্য অর্জন করে যেমন তৃপ্তিলাভ করে তেমনি বড় দলে কাজ করার দরুন মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। একজন ডিস্ট্রিবিউটর পর্যায়ক্রমে যখন দলের নেতৃত্ব লাভ করে দলের অন্যরাও অধিক পরিশ্রম করে সাফল্য অর্জনের প্রচেষ্ঠা করে।
ঘ. দলীয় শক্তি বৃহৎ শক্তিঃ
একটি দল বা গ্রুপে একাধিক ডিস্ট্রিবিউটর ও লিডার থাকে বিধায় সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্ঠায় একটি বৃহৎ শক্তি গড়ে উঠে। এ শক্তির উপর ভিত্তি করে অনেক জটিল কাজ সহজে সমাধান কার যায়। দলীয় শক্তির উপর ভিত্তি করে তৈরী হয় বড় নেটওয়ার্ক যা সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেয়।
ঙ. সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহনঃ
দলীয় সিদ্ধান্ত নেটওয়ার্ক পদ্ধতিতে খুবই ফলপ্রসু। স্বাভাবিকভাবেই আমরা দেখতে এককভাবে গৃহীত সিদ্ধান্তের চেয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত অনেক বেশি কার্যকর। অনেকগুলো মস্তিষ্ক যখন আলোচনায় বসে কোন সিদ্ধান্তগ্রহন করে তা সফল হয়েই থাকে কারন এক্ষেত্রে অনেক মেধা ও অভিজ্ঞতার সমন্বয় ঘটে।
চ. নিয়ম শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠাঃ
প্রত্যেকটি দল বা গ্রুপের কিছু নিয়ম-নীতি, আচরনবিধি ও দলীয় আদর্শ থাকে। একজন ডিস্ট্রিবিউটর দল ভূক্ত হওয়ার সাথে সাথে ঐ নিয়মনীতি ও বিধিসমূহ মেনে চলে। প্রত্যেক দল বা গ্রুপের দলীয় নিয়ম শৃঙ্খলার দরুন সম্পূর্ন প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয়।
ছ. প্রেষনা বৃদ্ধিঃ
দলে অন্তগত একে অন্যের কাজে সহযোগিতা ও পরামর্শ প্রদানের দরুন কাজের গতি বৃদ্ধি পায়। দলীয় গতিশীলতা ডিস্ট্রিবিউটরদের প্রেষনা যোগায়। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতিতে আপ-লাইন ডিস্ট্রিবিউটর নিজের অগ্রগতির জন্য ডাউন লাইন ডিস্ট্রিবিউটরদের প্রেষনা প্রদান করে। এসব প্রেষনা প্রদানের জন্য বিভিন্ন প্রকার পুরষ্কার ও বোনাস প্রদান করে দলের পক্ষ হতে। পারস্পরিক সম্পর্ক সৃষ্টির জন্যই দলে প্রেষনামূলক পরিবেশ বজায় থাকে।
জ. মনোবল বৃদ্ধিঃ
নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতিতে প্রতিটি গ্রুপ বা দল মনোবল বৃদ্ধির ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করে। এক একটি দলে ডিস্ট্রিবিউটর, সিনিয়র ডিস্ট্রিবিউটর ও নতুনদের সহিত আপ-লাইন লিডারদের যোগাযোগ থাকে বিধায় একের সাফল্য অন্যের মনোবল বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়। স্বাভাবিকভাবেই নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া ও আন্তরিকতা থাকে বিধায় এ পদ্ধতিতে ইতিবাচক মনোভাব গড়ে উঠে যা নতুনদের মনোবল বাড়িয়ে দেয়।
ঝ. যোগাযোগ উন্নয়নঃ
নেটওর্য়াকারদের সহিত ডিস্ট্রিবিউটর ও নতুনদের যোগাযোগ যত সহজতর হয় তত বেশি সফলতা অর্জিত হয়। লিডার ও ডিস্ট্রিবিউটর একে অন্যের সহিত দুরত্ব বা ব্যবধান কমানোর মাধ্যমে দলীয় তৎপরতা বৃদ্ধি ঘটে। এককথায় তথ্যের আদান প্রদান আন্তঃসম্পর্ক তৈরীর জন্য যোগাযোগ অপরিহার্য যা অর্জিত হয় দল গঠনের মাধ্যমে।
ঞ. প্রশিক্ষনঃ
সাধারণত নেটওয়ার্ক মার্কেটিং প্রতিষ্ঠান নানাধরনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহন করে থাকে এ ছাড়াও লিডাররা গ্রুপ বা দলের অভ্যন্তরে বিভিন্ন প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা গ্রহন করে যা দলীয় লক্ষ্য অর্জনে ফলপ্রসু হয়ে থাকে। সার্বিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সফল হওয়ার জন্য কোম্পানী বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করলেও বিভিন্ন দলের সহযোগিতায় প্রশিক্ষণ কর্মসূচী সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
লেখক : এম. রহমান আরিফ
]]>জীবন যাত্রা বদলে ফেলুনঃ নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ব্যবসার প্রাথমিক পর্যায়ের আয় দ্বারা আপনার জীবনযাত্রা বদলে ফেলুন। আপনার পরিবর্তন অন্যদের মধ্যে কৌতুহল সৃষ্টি করবে। আপনার পরিবর্তনে মূল কারণ আয় বৃদ্ধি। আপনার বাড়তি আয়ের জন্য নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ব্যবসা সম্পর্কে জানার পরই ক্রেতারদের আকৃষ্ট করা সহজতর হবে।
সম্পর্ক আরো গভীর করে তুলুনঃ আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও প্রতিবেশীদের সাথে সম্পর্ক পূর্বের চেয়ে গভীরতা করে ফেলুন। তাদের সুখ-দুঃখে, সমস্যাগ্রস্থ অবস্থায় পাশাপাশি থাকার চেষ্টা করুন। তাদের কাছে আপনার গ্রহনযোগ্যতা বেশি হলে আপনার দেখানো পথ-ই তারা অনুসরণ করবে।
টেলিফোনে কুশল বিনিময় করুনঃ প্রত্যেকেই তার আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবের কাছ হতে ফোন প্রত্যাশা করে। সম্ভাব্য ক্রেতার আগ্রহ সৃষ্টির লক্ষ্যে তার সাথে কুশল বিনিময় করুন। তার পরিবার পরিজনের খোঁজ খবর নিন এবং আপনার নতুন ব্যবসা দেখার নিমন্ত্রন করুন। আপনার ইতিবাচক কথোপকথন সম্ভাব্য ক্রেতার মাঝে আগ্রহ তৈরী করবে।
ক্রেতার কর্মদক্ষতার তারিফ করুনঃ প্রত্যেক মানুষ নিজের কর্মদক্ষতা সাফল্যের তারিফ শুনতে পছন্দ করে। নেতিবাচক মানুষগুলো এর পেছনে কোন দূরভিসন্ধি খুঁজে বেড়ায়। যেটুকু তারিফ পাওয়ার যোগ্য সেটুকু করুন। পরিশেষে বলুন, “আপনার দ্বারা আরো চমৎকার কিছু সম্ভব, অবশ্য এজন্য আপনার ইচ্ছাশক্তিই যথেষ্ট” এ বলে আগ্রহ যাচাই করুন।
আপনার সফলতার কথা বলুনঃ পরিচিতজনের সাফল্যের কথা সবাই শুনতে পছন্দ করে। তবে এর পূর্বে প্রমান করতে হবে আপনি সফল। আপনি যত সংক্ষেপে ও সুন্দরভাবে আপনার সফলতার কথা সম্পন্ন করতে পারবেন আপনার সম্ভাব্য ক্রেতা ততই আকৃষ্ট হবেন।
সত্য প্রকাশে অনড় থাকুনঃ আপনি কি করছেন তা অবশ্যই আপনি জানেন। যদি না জেনে করেন তবে আগে জেনে নিন। আপনি যা করছেন তা সত্য, যদি তা অসত্য হয় তবে বিরত থাকুন। সত্য প্রকাশে অনড় থাকুন। আপনার চারপাশের মানুষ আপনার ও আপনার প্রতিষ্ঠান অর্থাৎ আপনার কর্মের প্রতি আগ্রহী হবে। কাল্পনিক কোন বিষয়কে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করবেন না, সত্য আপনাকে সাফল্যের পথে নিয়ে যাবে। অধিকাংশ ক্রেতাই সত্যের পথ খোঁজেন।
কৃত্রিমতা বর্জন করুন ঃ কৃত্রিমতা আপনার নিজস্ব সত্তাকে নষ্ট করবে। স্মার্ট হতে গিয়ে এমন আচরণ করবেন না যা ক্রেতার মনে সন্দেহ সৃষ্টি করে। মনে রাখবেন অধিকাংশ ক্রেতাই বুদ্ধিমান। বুদ্ধিমান ক্রেতা বা প্রসপেক্টদের নিকট বুদ্ধিমত্তার সহিত উপস্থাপন।
লেখক : এম. রহমান আরিফ
]]>বিভিন্ন মাধ্যমে ব্যবহার করে আমরা অতিথি বা নতুন ডিস্ট্রিবিউটরদের সহিত যোগাযোগ করতে পারি। বর্তমান সময়ের সবচেয়ে সহজ ও গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলো টেলিফোন। মনের ভাব প্রকাশ করা ও কুশল বিনিময়ের অন্যতম পন্থা টেলিফোনিক আলাপ। আমরা নিম্নোক্ত কিছু বিষয়ের প্রতি অবশ্যই লক্ষ্য রাখব যা পরবর্তীতে সফলতা অর্জনে সহায়ক হবে।
নিজেকে তৈরী করে নিনঃ মানসিকভাবে নিজেকে প্রথমে প্রস্তুত করে নিন যা আপনাকে একধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং এ আত্ববিশ্বাসী না হলে আপনার ব্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যাবে বেশি কি ধরনের প্রশ্নের সম্মুখীন হতে পারেন তার একটি সম্ভাব্য তালিকা প্রস্তুত করুন এবং তা চর্চা করুন।
সঠিকভাবে স্ক্রিপট তৈরী করুনঃ টেলিফোনিক আলোচনার পূর্বে একটি স্ত্রিপট তৈরী করে হাতে রাখুন। টেলিফোনে আলোচনার সময় অনেক কিছু তাৎক্ষণিক আপনার মনে নাও আসতে পারে। এজন্য স্ক্রিপট উল্লেখিত পয়েন্টগুলো আলোচনায় সহায়ক হবে। সঠিকও নির্ভুল তথ্য দিয়ে স্ত্রিপট তৈরী করুন যাতে গ্রহীতা বিভ্রান্ত না হন।
গ্রহীতার মনোযোগের প্রতি লক্ষ্য রাখুনঃ উদ্দেশ্যে ফোন করেছেন তা যেন কোন অবস্থাতেই ভেস্তে না যায় সেদিকে লক্ষ্য রাখুন। এজন্য গ্রতীতা কতটুকু আগ্রহ বা মনোযোগ গিয়ে আপনার কথাগুলো শুনছে তার প্রতি সজাগ থাকুন। সাধারণত গ্রহীতা কোন কাজে ব্যস্ত থাকলে আপনার সুন্দর কথাগুলো ও তার নিকট বিরক্তিকর মনে হবে ফলে ব্যবসার ইতিবাচক দিকগুলো সে ভালোভাবে গ্রহন লাভ করতে পারে। এক্ষেত্রে আপনি প্রসঙ্গ পাল্টিয়ে নিন এবং পরবর্তীতে আলোচনার প্রস্তাব জানিয়ে সৌজন্যতার সহিত বিদায় নিন। টেলিফোনে কথা বলার সময় গ্রহীতাকে আগ্রহী মনে হবে যখন তখন সামনা সামনি আলোচনার প্রতিশ্রুতি আদায় করে নিন।
শুনতে অভ্যস্ত হউনঃ নিজেকে ভালো শ্রোতা হিসেবে তৈরী করে নিন। আপনার পরিচিতজনের নিকট ফোন করার পর খুব স্বাভাবিক যে তিনি আপনার ব্যাপারে জানতে চাইবেন এবং তার নিজের সাফল্য ও সমস্যা আপনাকে শুনাতে চাইবেন। এতে তিনি দীর্ঘ সময় নিলেও তা আপনাকে ধৈর্য্য সহকারে শুনতে হবে। আপনার শোনার অনাগ্রহ তিনি যাতে কোন অবস্থায় বুঝতে না পারেন। সাধারণত মানুষ শোনার চেয়ে বলতে অভ্যস্ত, কিন্তু আপনাকে শুনার অভ্যস্ত হতে হবে। দ্বিমুখী আলোচনায় কোন প্রকার নেতিবাচক মনোভাব আপনার সাফল্যের অন্তরায়। এজন্য ইতিবাচক মনোভাব ও আলোচনা একান্ত প্রয়োজন।
ধৈর্য্যশীল হউনঃ সম্ভাবনাময় ক্রেতার নিকট ফোন করার সময় ধৈর্য্যশীল হতে হবে। সাধারণত প্রথমবার ব্যবসার বিষয় সম্পর্কে আপনি আলোচনার সুযোগ নাও পেতে পারেন। পূণরায় সময় চেয়ে নিন এবং সুযোগ বুঝে ব্যবসার সম্ভাবনার কথা বলুন। মনে রাখবেন যে শ্রোতা যত বেশি সময় নিবে আর কার্যক্রম তত ইতিবাচক হবে।
কণ্ঠস্বর স্বাভাবিক রাখুনঃ বিক্রয়কর্মীদের ন্যায় কথাবার্তা থেকে বিরত থাকুন এক কণ্ঠস্বর স্বাভাবিক রাখুন। গ্রহীতা (অতিথি) কে সুযোগ প্রদান করবেন এমন ধারনার চেয়ে তাকে সম্ভাবনাময় ব্যবসার পরামর্শ দিচ্ছেন প্রথম আচরন করুন আপনার কণ্ঠস্বর ও কথাবার্তার- মাধ্যমে সম্ভাবনাময় গ্রাহক হয়তো বুঝে নিতে পারেন আপনি কোন ব্যবসার কথা বলছেন, এক্ষেত্রে আপনি ইতিবাচক মনোভাব প্রদর্শন করুন এবং আপনার কার্যক্রম দেখার আমন্ত্রন করুন।
পূনঃপূনঃ ফোন করবেন নাঃ আপনি প্রথমবার ফোন করে ব্যর্থ হওয়ার পর অর্থাৎ গ্রাহক সম্পূর্ণ নেতিবাচক মনোভাব প্রদর্শনের পর আপনি পূনরায় ফোন করবেন না। আপনি দ্বিতীয় কোন মাধ্যম ব্যবহার করে তার সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলুন এবং এমন পরিবেশ তৈরী করুন যাতে গ্রাহক নিজেই আপনাকে ফোন করে। এবার গ্রাহকের আগ্রহ যাচাই করে আলোচনায় বসুন। সম্ভাবনাময় গ্রাহকের সাথে আলোচনার পূর্বে প্রয়োজনে আপনার দলনেতার সহিত আলোচনা করে নিন।
নেতিবাচক কথা বলবেন নাঃ নেতিবাচক কথোপকখন আপনার সাফল্যের অন্তরায়। যখনি গ্রাহক নেতিবাচক মনোভাব পোষন করবেন তখনি যুক্তি দিয়ে তাকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করুন। সাধারণত নেটওয়ার্ক মার্কেটিং সম্পর্কে না জেনে শুধু লোকমুখে শুনে অনেকে মন্তব্য করে। আপনি তাকে সচক্ষে দেখার ও বুঝার আমন্ত্রণ করুন তাতে গ্রাহক অধিকতর পজেটিভ হবেনা।
লেখক : এম. রহমান আরিফ
]]>