বেশ কিছু কোম্পানি নিজেদের এমএলএম সিস্টেম বলে স্বীকার করতে চায় না এরা কখনো অ্যাফিলিয়েট আবার কখনো ই-কমার্স বলে চালিয়ে দেয়।
বেশ কিছু কোম্পানি নিজেদের এমএলএম সিস্টেম বলে স্বীকার করতে চায় না এরা কখনো অ্যাফিলিয়েট আবার কখনো ই-কমার্স বলে চালিয়ে দেয়। কেউ আইনের ভয়ে আবার কেউ কৌশলে এমন করে থাকে। যেকারনেই করুক না কেন এটা অনিয়মের পর্যায়ে পড়ে।
এসব কোম্পানি একসময় মানিগেম এর আশ্রয় নেয় তাছাড়া এদের কোন উপায় থাকে না। কারন ব্যয়বহন করার মতো কোন উপায় থাকে না।
মূলত এসব কোম্পানির নিজস্ব কোন পণ্য থাকে না ইউনিক পণ্যতো থাকেই না, ধার করা পণ্য অথবা পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্য বাড়িয়ে টিকে থাকা অসম্ভব। ডিরেক্ট সেলিং বা এমএলএম পদ্ধতিতে ব্যবসা করতে হলে পণ্যের উপর শতভাগ নিয়ন্ত্রণ থাকা আবশ্যক। তাহলে কোন কারনে সিস্টেম থেকে বের হলেও কোম্পানী টিকে থাকবে। সাথে কোম্পানীর কিছু পরিবেশকও টিকে থাকতে পারেন।
ই-কমার্স বা অ্যাফিলিয়েট এর চেয়ে মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং অনেক বেশি জটিল এবং চ্যালেঞ্জিং। একথাটি অনেকবার বলেছি। প্রথমদিকে এমএলএম বা ডিরেক্ট সেলিং সহজ মনে হলেও আসলে তা নয়। কারন এখানে অনেকগুলো মানুষের জীবিকার প্রশ্ন চলে আসে। পৃথীবীতে অনেক বড় বড় কোম্পানীও এই সিস্টেমে এসে মানিয়ে নিতে পারেনি। এ কারণে নিজস্ব পণ্য বা সেবা ব্যতীত কোন প্রতিষ্ঠানে ক্যারিয়ার ভাবনা নিছক আত্মহত্যার শামিল।
আবার শুধু পণ্য থাকলেই হবে না ওটার দীর্ঘমেয়াদী বাজার সম্ভাবনাও যাচাই করতে হবে। যেমন ধরুন আপনার কোম্পানী একটি পণ্য বাজারজাত করলো যেটা ৬ মাসের মধ্যে ফুটপাতে বিক্রয় শুরু হয় অর্ধেকেরও কম দামে। তাহলে কি দাঁড়ালো আপনার তৈরী করা কাস্টমার বেইজটা নস্ট হয়ে গেল সাথে ইমেজও নষ্ট হলো। এজন্য পণ্যের উপর নিয়ন্ত্রণ বলতে ভবিষ্যতে কি কি পরিবর্তন আসতে পারে এবং এটা অন্যরা করতে গেলে কতটা সহজবোধ্য তাও বিবেচনায় রাখতে হবে। ডাইভারসিফিকেশন অব প্রডাক্ট বা পণ্যের বৈচিত্র্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যেটার কারনে আপনার পণ্য দীর্ঘদিন ইউনিক থাকবে।
আমার কোন লেখা কোন কোম্পানীকে টার্গেট করে নয়, অভিজ্ঞতা আর অধ্যয়নের আলোকে আলোচনা করা। দেখুন না একটা কোম্পানী মাত্র ১টা পণ্য দিয়ে দীর্ঘ ৪ বছর ব্যবসা করছে এখনও এই পণ্যটি কেউ নকল করতে পারছে না কিংবা নকল করে লাভ হবে না এমন।তাহলে ধরে নিন আপনি আরও ৩/৪ বছর এই পণ্যটি বিক্রয় করতে পারবেন। এখন যদি পণ্যটির ভ্যালু তার মূল্যের সমান বা বেশি হয় তাহলে মানুষ এটিকে চেয়ে নিবে। ইউনিক হলেই ইচ্ছেমত মূল্য নিবেন তাও নয়, পণ্যের মূল্যের সাথে এর কার্যকারিতা, প্রয়োজনীয়তা এসবও বিবেচ্য বিষয়।
ডিরেক্ট সেলিং বলুন আর এমএলএম, কিছু ভাল পণ্য আপনাকে টিকিয়ে রাখবে। যদিও বিষয়টি গ্রহণযোগ্য নয় তবুও দেখুন বেশকিছু কোম্পানীর কার্যক্রম তেমন জোড়ালো না হলেও তাদের পণ্য বিক্রয় করে কিছু পরিবেশক ঠিকই আয় করছে কারন তাদের পণ্য বৈচিত্র্যময় এবং মানুষ এসব সাদরে গ্রহণ করে।
টেকনিক্যাল বিষয়গুলো স্টাডি করবেন কারন ক্যারিয়ার হিসেবে যে পেশাই যাবেন আদ্যপ্রান্ত জানা জরুরী।
যারা মনে করছেন এমএলএম শেষ তারা প্রকৃত বিষয়ই জানেন না তারা হয় মানিগেমে ছিলেন অথবা সেটআপে। আপনি যখন এমএলএম ছেড়ে অন্য কোন পেশায় যাবেন তখন এটিকে খারাপ আর নতুনটি ভাল এমন যারা বলেন তাদের মধ্যে শুরু থেকেই সততার অভাব ছিল।
আস্তে আস্তে আরও খুঁটিনাটি বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলবো ইনসাআল্লাহ।
ধন্যবাদ
লেখক : এম. রহমান আরিফ

Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.