ইতিবাচক মনোভাব ও নেতিবাচক মনোভাব সম্পন্ন মানুষ সম্পর্কে আমরা প্রত্যেকে কম বেশী অবগত। আরেকটু পরিষ্কার হওয়ার জন্য বলা যায় – ইতিবাচক মনোভাব সম্পন্ন মানুষ ধৈর্য্যশীল, আত্নবিশ্বাসী, নৈতিক মূল্যবোধ সম্পন্ন, পরের সাফল্যে সদা সন্তুষ্ট। অন্যদিকে নেতিবাচক মনোভাব সম্পন্ন মানুষ পরশ্রীকাতর, অহংকারী, নেতিবাচক মনোভাব সম্পন্ন মানুষ সব সময় সমালোচনা করার জন্যে প্রস্তুত থাকে, কারো সফলতাকে সহজভাবে মেনে নেয় না বরং বির্তকিত কথাবার্তায় জড়িত হয়।
চার পাঁচজন লোকের কোন আলোচনা পর্যবেক্ষণ করলেই সহজে নেতিবাচক ও ইতিবাচক মানুষগুলোকে পৃথক করতে পারবেন। নেতিবাচক মনোভাব সম্পন্ন মানুষ কোন সমাধানে সন্তুষ্ট হননা, অন্যদের চেয়ে বেশী কথা বলতেই তাদের বেশী পছন্দ। অন্যদিকে ইতিবাচক মনোভাবের কিছু বাড়তি সুবিধা পাওয়া যায়। যে কোন কাজে অন্যদের সহযোগিতা পাওয়া যায়। একজন ইতিবাচক মনোভাব সম্পন্ন মানুষ অনেকগুলো মানুষের মাঝে কর্মস্পৃহা তৈরী করতে পারে। বেশ কিছুদিন আগের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ এলাকাগুলোর খবর নিত্য পড়ে আসছিলাম। এবার বেশ কিছু ব্যতিক্রম উদ্যোগ নজরে এলো যা অনেকেরই নজর কেড়েছে কয়েকটি এলাকার মানুষ নিজেদের উদ্যোগে প্রায় আট কি:মি: বাঁধ নির্মাণ করেছে। এমন নির্মাণের উদ্যোক্তা ও অংশগ্রহণকারীরা ইতিবাচক মনোভাব সম্পন্ন যা সকলকে সংঘবদ্ধ হতে সাহায্য করেছে। আমাদের ইতিবাচক ভাবনা আমাদেরকে প্রাকৃতিক ঝুঁকি থেকেও রক্ষা পেতে সাহায্য করে এর প্রমাণ যথেষ্ট রয়েছে। প্রাপ্তি যত ক্ষুদ্র্র হোক না কেন ইতিবাচক মনোভাব ভবিষ্যতে বড় প্রাপ্তির জন্য প্রত্যাশা বাড়িয়ে তোলে।
মানসিক গঠন যেমন হবে মনোভাব সেরুপ ফল প্রদান করবে। নেতিবাচক মনোভাব সম্পন্ন মানুষ অতীতের কর্মকান্ড ও অবস্থাকে দায়ী করে। যেমন – বখে যাওয়া তরুণ তার পরিনতির জন্য মাতা পিতাকে দায়ী করে। ইতিবাচক মনোভাব সম্পন্ন তরুণ অতীতকে দায়ী না করে অতীতের ভুল- ভ্রান্তি হতে শিক্ষাগ্রহণ করে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যায়।
সমাজের অল্প শিক্ষিত মানুষ সমস্যা তৈরী করে বেশী। তারা নিজেদের শিক্ষাগত যোগ্যতাকে অধিক মূল্যায়ন করে বেছে কাজ করতে চায়। পাঠ্যপুস্তক ছাড়াও পরিবেশ থেকে শিক্ষাই মানুষের মনোভাব পরিবর্তনে ভূমিকা রাখে। এছাড়াও ইতিবাচক মনোভাব গঠনে আপনি কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেনঃ
® আপনি সর্বদা ভাল ও মঙ্গলজনক চিন্তায় মগ্ন থাকুন। একটি ভাল কাজ অন্যএকটি ভাল কাজের পথ তৈরী করে।
® সব শ্রেণী ও পেশার মানুষের সাথে সহজে মিশে যাওয়ার অভ্যাস করুন।
® পারিবারিক ও সামাজিক কাজে পূর্বের চেয়ে বেশি অংশ গ্রহণ করুন।
® সব সময় সৃষ্টিশীল কাজে ব্যস্ত থাকুন।
® অন্যের সাফল্যে উৎসাহিত করুন, এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা দিন।
® আপনার অধঃস্তন ও উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে সুসর্ম্পক বজায় রাখুন। সময় ও কাজের প্রতি গুরুত্ব দিন।
® নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি সম্পন্ন মানুষগুলোকে এড়িয়ে চলুন যতটা সম্ভব।
® নিজের ভুলের জন্য অনুশোচনা করুন। পূনরায় ভুল না করার জন্য সর্তক থাকুন।
® কাজ দ্রুত শেষ করার অভ্যাস করুন। দীর্ঘসূত্রীতা নেতিবাচক মনোভাবের জন্ম দেয়।
® অন্যের সমালোচনা থেকে বিরত থাকুন। অন্যের ভুল সহজভাবে দেখিয়ে দিন।
® যারা সমাজ ও দেশের অকল্যাণ করছে তাদের বাধা দিন। কারন তারা এখন অন্যের ক্ষতি করছে। আগামী দিন আপনারও ক্ষতি করবে নিশ্চিত।
যে কোন কাজে সফলতার জন্য ইতিবাচক মনোভাব বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ নেটওয়ার্ক মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে যা শতভাগ সত্য। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ব্যবসায় জড়িত সকল লিডার ও ডিষ্টিবিউটর ইতিবাচক মানসিকতা ধারন করে পরিবেশ থেকে শিখে এবং নিয়মিত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে। অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার জন্য ইতিবাচক এমএলএম পরিবেশ অপরিহার্য।
(প্রথম প্রকাশ অক্টোবর ৭, ২০১৬)
লেখক : এম. রহমান আরিফ

Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.