বাংলাদেশে মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং বা নেটওয়ার্ক মার্কেটিং এর বয়স প্রায় বিশ বছর। অর্জন তেমন কিছু না হলেও সম্ভাবনা এখনও উজ্জ্বল। মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং-কে ঘিরে আমরা এখনও শিল্প গড়ার স্বপ্ন দেখি। সে স্বপ্নটা আরেকটু জোরালো হয়েছিল যখন মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং কার্যক্রম (নিয়ন্ত্রণ) অাইন হলো। কিন্তু এখন সব কিছুই অস্পষ্ট, বুঝার উপায় নেই কি হচ্ছে। আমরা যদি সমগ্র বিশ্বের দৃশ্যপট দেখি তবে সেখানকার বিষয়গুলো ভিন্ন মনে হবে। মনে হবে তারা এমএলএম করছে না, এমএলএম করছি আমরা কারণ এমএলএম মানে আমরা বুঝি মানুষ ঢুকানো, এমএলএম মানে বিনিয়োগ করে অর্থ উর্পাজন, ফরওয়ার্ড সেলিং, এমএলএম মানে পার্চেজ কার্ড সেল, এমএলএম মানে পিন সেল। আমি কখনও কোন প্রতিষ্ঠানকে উদ্দেশ্য করে কিছু লেখিনি, যারা এমএলএম পদ্ধতির অপব্যবহার করে তারা টিকে থাকতে পারবে না এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ফরওয়ার্ড সেলিং বা পিন নিয়ে যারা কাজ করছে তারা মূলত সম্ভাবনাটিকে আরো একটু পিছিয়ে দিচ্ছে।
সরকার আপনার প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দিয়েছে মানে এই নয় যে আপনি অবৈধ কাজ করবেন। সরকার না বুঝলেও নেটওয়ার্কাররা এতদিনে অন্তত এটুকু বুঝতে পেরেছে কোন পিরামিড স্কীম আর কোনটা মানিগেম। আইনের চোখ ফাঁকি দিয়ে কিছু করলে আইন নিয়ে সংশয় দেখা দিবে সাধারন মানুষের মাঝে। চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখানোর প্রয়োজন নেই কারা অবৈধ কাজ করছে, সময়ের সাথে সাথে সঠিক বিষয়টি প্রত্যেক নেটওয়ার্কারের কাছে পরিস্কার হয়ে যাচ্ছে। যেসব নেটওয়ার্কার ভুল করে সময় ও অর্থ হারিয়ে বুঝতে সক্ষম হয়েছে প্রকৃত মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং আর ফরওয়ার্ড সেলিং এর নামে প্রতারণা মধ্যে পাথর্ক্য। আশা করছি এদের কাছ থেকে অন্যরাও শিখবে। আমাদের লিডাররা পূর্বে শুধু মুটিভেশনই সীমাবদ্ধ ছিল এখন বাস্তবমূখী হচ্ছে, আগে শুধু পড়তো এখন লাইক ও শেয়ার দুটোই করে।
দুঃখজনক হলেও এটাই সত্য মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং এর নামে যে পরিমাণ অবৈধ অর্থ বিগত কয়েক বছরে লেনদেন হয়েছে তা যদি সঠিকভাবে ও সঠিক পথে ব্যয় হতো তবে এই বাংলাদেশের এমএলএম শিল্প সারা বিশ্বে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হতো। একটি বিদেশী প্রতিষ্ঠান যদি বিগত ১২ বছরে ১২০০কোটি টাকার পণ্য বিক্রয় করে সফল হতে পারে বাংলাদেশী কোম্পানীগুলো কেন পারছে না। মূলত বিষয়টি নির্ভর করছে কতটা বাস্তবমূখী আর সঠিক কর্মকান্ড নিয়ে আপনি পরিচালিত হবেন তার উপর।
এই এমএলএম শিল্প কিছু মানুষের জন্য আর্শীবাদ নিয়ে এসেছিল যারা হাজার হাজার কোটি টাকা হাতে পেয়েও কাজে লাগাতে পারেনি। বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ইচ্ছে করলেই মার্কেট থেকে হাজার কোটি টাকা তুলতে পারে না কিন্তু এমএলএম সূত্র দিয়ে অনেকেই শুন্য হাতে এসেও তা পেরেছেন কিন্তু সেই টাকা ইন্ডাষ্টিতে বিনিয়োগ না করে মালা গেঁথেছেন আর নিজের সম্মোহনী ক্ষমতা বাড়িয়েছেন। কিছু অপরিণত ব্যবসায়ী এই এমএলএম সূত্র পেয়ে কোটিপতি বনে গেছে আর লক্ষ লক্ষ তরুনের মর্যাদা আর ভবিষ্যত ধূলোয় মিশিয়ে দিয়েছে। মালয়েশিয়া আর নেপাল বেড়াতে না গিয়ে দেখে আসো কিভাবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জার্মান, জাপান, যুক্তরাজ্য এমএলএম করছে। কিভাবে তারা বিলিয়ন ডলার সেল করছে।
কথায় আছে, “ওদের শিখতে দেয়া যাবে না তাহলে আমাদের ধ্বংস অনিবার্য”। নেটওয়ার্কারদের প্রকৃত এমএলএম শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়া মানে ভুঁইফোড় উদ্যোক্তাদের মাথায় হাত। অশিক্ষা আর অল্প শিক্ষার ভারে ন্যূজ এ জাতির জন্য মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং ততদিন আর্শীবাদ হবে যতদিন সৎ ও দেশপ্রেমিক উদ্যোক্তা এর হাল না ধরে। আমরা যেখানে এখনও সাধারন ক্রেতা-পরিবেশকদের অর্থ ও বিনিয়োগের উপর নির্ভর করে নিজেদের প্রতিষ্ঠান ও সম্পদ গড়তে ব্যস্ত তখন বিশ্বের মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং কোম্পানী সামাজিক দায়িত্ব (Social Responsibility) পালন করে বিশ্বে নিজেদের অবস্থানকে জানান দিয়ে সক্ষম হচ্ছে। সক্ষম হচ্ছে মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং পদ্ধতিকে মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য করে গড়ে তোলার। নিচের ছবিতে এমওয়ে কর্পোরেশন কর্তৃক সামাজিক দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতি প্রাপ্তির নমুনা দিলাম।
আমি অবাক হয়ে যাই কতটা সহজ সরল হলে আমাদের নেটওয়ার্কার ও পরিবেশকগন সালাম দিয়ে হাতখানা বুকের সাথে লাগায়। আমরা হয়তো উন্নত জাতি হতে পারিনি কিন্তু আমাদের মানুষগুলো মাটির মানুষ। যে মানুষগুলো আমাকে আপনাকে শিল্পপতি বানাচ্ছে আমরা তাদের মাথায় আঘাত করছি। যে তরুনগুলো কিছু কথা শোনার জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকে আমরা তাদের জীবনকে চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিচ্ছি। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে- এর বিকল্প পথ নেই।
যখন একটি প্রতিষ্ঠানের সাথে অনেকগুলো মানুষ, অনেকগুলো পরিবার, অনেকগুলো স্বপ্ন আর অনেক প্রাপ্তির সমন্বয় ঘটে তখন তাহাকে এমএলএম বলে। আসুন আমরা সবাই মিলে মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং শিল্প গড়ে তুলি।
লেখক : এম. রহমান আরিফ


Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.