Deprecated: Calling get_class() without arguments is deprecated in /home/marketb1/mrarif.sellerhaat.com/wp-content/plugins/slider-image/includes/class-hugeit-slider-frontend-scripts.php on line 9
১০০ নেটওয়ার্ক মার্কেটিং টিপস্ – M Rahman Arif

১০০ নেটওয়ার্ক মার্কেটিং টিপস্

১০০ নেটওয়ার্ক মার্কেটিং টিপস্



এম. রহমান (আরিফ)



ডোরস্ পাবলিকেশন
ঢাকা ট্রেড সেন্টার, ৯৯ কাওরানবাজার, ঢাকা
ফোনঃ ০১৭৮৯ ১১০০৪৮, ০১৮১৯ ৫২০০০৯



প্রথম প্রকাশ ২০০৭
দ্বিতীয় প্রকাশ ২০০৮
তৃতীয় প্রকাশ ২০১০
চতুর্থ প্রকাশ ২০১৪

পূণঃ প্রকাশঃ মে, ২০১৫ইং
প্রকাশকঃ মোঃ মাহমুদুর রহমান
ডোরস্ পাবলিকেশন কর্তৃক প্রকাশিত
প্রচ্ছদঃ- মুনতাসির
মুদ্রণেঃ- শৈল্পিক মিডিয়া, ঢাকা
মূল্য-৪০.০০ টাকা


facebook.com/doorspublication

৪

ভূমিকা


নেটওর্য়াক মার্কেটিং ব্যবসায় সফল হওয়ার অনেক পথ রয়েছে, কিন্তু কোন পথটি আপনার জন্য সঠিক তা খুঁজে না পাওয়া পর্যন্ত এমন হতে পারে সাফল্যের দেখা পেলেন না। সঠিক পথের সন্ধান নিজেকেই করতে হয় এবং এজন্য আয়োজন সঠিক দিক নির্দেশনা।
সময়ের সাথে সাথে মানুষ অনেক বেশী ব্যস্ত হয়ে পড়ছে। মানুষের আকাঙ্খা এখন অল্পতে অধিক। অনেকগুলো বই পড়ে দিক নির্দেশনা অনেকেই অনাগ্রহী। এই বইটি অল্পতে অনেকে দিক নির্দেশনা দিতে সহায়ক হবে। তবে অবশ্যই যেটুকু পড়বেন তার সার কথা বুঝার চেষ্ঠা করতে হবে। বইটির প্রথম অংশ অর্থাৎ একশ নেটওয়ার্ক মার্কেটিং টিপ্স আপনাকে অনেকগুলো প্রশিক্ষণের ন্যয় সাহায্য করবে। যেখানে বিশ্বখ্যাত দুজন এম.এল.এম পন্ডিতের পরামর্শও তুলে ধরা হয়েছে। বইটির দ্বিতীয় অংশ পড়ে বুঝতে পারবেন একজন সফল নেটওর্য়াকের সাফল্যের রহস্য ও চলার পথ এবং বইটির তৃতীয় অংশটি পরিকল্পনা গঠন ও সে অনুযায়ী ফলাফলের মূল্যায়নে সহজতর হবে। বিশেষ করে যারা অনেক নেটওয়ার্ক মার্কেটিং সম্পর্কিত বই পড়েও দ্বিধাগ্রস্থ কিংবা সিদ্ধান্ত গ্রহনে ব্যর্থ তারা এই বইটিতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ লেখা পাবেন যা নিজের চিন্তা চেতনার সাথে মিলে যাবে।
এ দেশে একদিন ঘরে ঘরে নেটওয়ার্ক মার্কেটিং চর্চা হবে এবং প্রতিটি মানুষ নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ব্যবসায় অংশগ্রহনের মাধ্যমে স্বচ্ছলতা লাভ করবে এ প্রত্যাশায়।
এম, রহমান (আরিফ)

৫







উৎসর্গ
যারা এদেশে নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ব্যবসা
স¤প্রসারনে আন্তরিক সেসব নেটওয়ার্কারদের উদ্দেশ্যে।


৬

সূচীপত্র


বিষয় পৃষ্ঠা

প্রথম অংশ
১০০ নেটওয়ার্ক মার্কেটিং টিপস্ ০৮
দ্বিতীয় অংশ
একজন সফল নেটওর্য়াকারের সাক্ষাৎকার। ২৬
তৃতীয় অংশ
সাফল্য অর্জনের ৫টি ধাপ ৩১
চতুর্থ অংশ
আপনি কেন নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ব্যবসা করবেন? ৩৫
নেটওয়ার্ক মার্কেটিং-এ সফলতার জন্য চাই-আত্মনির্মাণ। ৩৭
যেভাবে নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ব্যবসা করবেন। ৩৯
নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ব্যবসায় ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার কৌশল। ৪১

৭

প্রথম অংশ

১০০ নেটওয়ার্ক মার্কেটিং টিপস

টিপস্ একঃ
আপনি যখনই নিশ্চিত হলেন, আপনি নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ব্যবসা আরম্ভে আগ্রহী তাহলে প্রথমে নেটওর্য়াক মার্কেটিং ব্যবসা সম্পর্কে নূন্যতম জ্ঞানার্জন করুন। এজন্য অভিজ্ঞদের সহায়তা নিন, বই পুস্তক পড়ুন এবং কোম্পানী কর্তৃক আয়োজিত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করুন।
টিপস্ দুইঃ
নেটওয়ার্ক মার্কেটিং যেহেতু মার্কেটিং বা বিপণনের সাথে সংশ্লিষ্ট সেহেতু আপনাকে প্রথমে হতে হবে একজন আদর্শ বিক্রয়কর্মী। কারণ একজন সফল বিক্রয়কর্মীই একজন সফল নেটওয়ার্কার।
টিপস্ তিনঃ
প্রথমে লক্ষ্য স্থির করুন এরপর পরিকল্পনা গ্রহন করুন এবং পরিকল্পনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহন করে তা বাস্তবায়ন করুন।

৮

টিপস্ চারঃ
নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ব্যবসায় সফল হতে চাই অধ্যবসায়, অনুশীলন বুদ্ধিমত্তা, নিয়ম-নিষ্ঠা ও পরিশ্রম। রুটিন মাফিক ও সঠিক সময়ানুযায়ী কার্য সম্পাদন করুন।
টিপস্ পাঁচঃ
আজ রাতে বসে আগামী দিনের কর্ম-পরিকল্পনা প্রস্তুত করে ফেলুন, কাজগুলো সময়মত ও সঠিকভাবে সম্পাদনের জন্য মানসিক প্রস্তুতি নিন।
টিপস্ ছয়ঃ
আপলাইন কিংবা ডাউন লাইন এমন কি অন্য গ্রুপের সদস্যদের সাথেও বিনয়ী আচরণ করুন, কারণ বিনয় মানুষকে মহৎ করে।
টিপস্ সাতঃ
প্রত্যেকের সাথে কুশল বিনিময় করুন এবং পরিবারের খোঁজ খবর নিন। অনুরূপ অন্যরাও আপনার সুখ-দুঃখের সাথী হবে। এভাবে পারস্পরিক সর্ম্পকের ভিত্তিতে বৃহৎ ব্যবসা গড়ে উঠবে।
টিপস্ আটঃ
শতভাগ সঠিক কোন নেটওর্য়াক মার্কেটিং প্রতিষ্টানে কাজ করতে গিয়ে নিজেকে নিয়ে গর্ব বোধ করুন এবং সহজভাবে প্রতিষ্টান সর্ম্পকে অন্যদের তথ্য সরবরাহ করুন।
টিপস্ নয়ঃ
কাউকে সাহায্য করছেন এমন মনোভাব দেখাবেন না বরং প্রমান করুন এটি একটি সম্মিলিত প্রয়াস ।
টিপস্ দশঃ
সর্বদা হাসি-খুশী প্রানবন্ত আচরন প্রদর্শন করুন । প্রানবন্ত পরিবেশ অন্যদের মাঝে ইতিবাচক মনোভাব তৈরী করে।

৯

টিপস্ এগারঃ
আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমে সবকিছু শুরু করুন। আপনার আত্মবিশ্বাস যত দৃঢ় হবে আপনি নেটওর্য়াক ব্যবসায় তত সফল হবেন।
টিপস্ বারঃ
স্বেচ্ছায় শেখার মানসিকতা আপনার থাকতে হবে। বিভিন্নভাবে ও বিভিন্ন উৎস হতে আপনি যত বেশি শিখবেন তত বেশি এগোতে সক্ষম হবেন।
টিপস্ তেরঃ
নেটওর্য়াক মার্কেটিং ব্যবসাকে ঝুঁকিমুক্ত বলা হয় কারণ এতে তেমন কোন বিনিয়োগ নেই এবং খরচও বেশি। কিন্তু শ্রম ও সময়ের যে বিনিয়োগ তা যাতে ব্যর্থ না হয় সেদিকে নজর রাখুন।
টিপস্ চৌদ্দঃ
নেটওয়ার্ক মার্কেটিং একটি নতুন মার্কেটিং সিস্টেম এবং অবিশ্বাস্য আয়ের পথ, এজন্য প্রাথমিক অবস্থায় নতুন ক্রেতা (প্রসফেক্ট) এ পদ্ধতি গ্রহণ নাও করতে পারে। এ সময় আপনাকে অধ্যবসায়ী হতে হবে। প্রতিটি ব্যর্থতাকে এক একটি অভিজ্ঞতা হিসেবে মেনে নিন।
টিপস্ পনেরঃ
সময়োচিত ও যথাযথ ফলো-আপের মাধ্যমে দক্ষ ডিস্ট্রিবিউটর গড়ে তোলা সম্ভব। নেটওয়ার্ক ব্যবসায় হাজারও ডিস্ট্রিবিউটর প্রয়োজন হয় না বরং কিছু সংখ্যক দক্ষ ডিস্ট্রিবিউটর বড় দল গঠনের জন্য যথেষ্ঠ।
টিপস্ ষোলঃ
প্রাথমিক পর্যায়ে কমিশন নতুনদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়, এজন্য নতুনরা যাতে স্বল্প সময়ে কমিশন লাভে সক্ষম হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখুন।
টিপস্ সতেরঃ
আপনার ডাউনলাইন ডিস্ট্রিবিউটরদের সাথে আপনার গাঠনিক দুরত্ব যাই হোক না কেন তার সহিত সুম্পর্ক গড়ে তুলুন এবং সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নিন।

১০

টিপস্ আঠারঃ
ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তিকে ভিন্ন ভিন্নভাবে ফলোআপ করুন। কারণ প্রত্যেকের মনোভাব ভিন্ন। এক্ষেত্রে নিজেকে ধৈর্য্যশীল ও অনুপম ব্যক্তিত্বের অধিকারী হতে হবে।
টিপস্ ঊনিশঃ
এমন দু’ধরনের লোককে একত্রে সেমিনারে বসাবেন না। যাদের একজন অস্থির প্রকৃতির অন্যজন স্থির। ফলে একজনের কারণে দু’জনের সম্ভাবনা নষ্ট হবে।
টিপস্ বিশঃ
দীর্ঘসময় সেমিনার দেখানোর পর ক্লোজিং এ বসিয়ে পূণরায় ব্রেইন ওয়াশের প্রয়োজন নেই যদি না অতিথির আগ্রহ দেখা যায়।
টিপস্ একুশঃ
ক্লোজিং এর সময় অধিক আন্তরিক হোন, অতিথির আগ্রহের প্রতি লক্ষ্য রাখূন, নিজের দূর্বলতা প্রকাশ করবেন না, সর্বোপরি কোন নেতিবাচক আলোচনা তুলে আনবেন না।
টিপস্ বাইশঃ
আপনার ডাউনলাইন ডিস্ট্রিবিউটরদের কখনো প্ররোচিত করবেন না মিথ্যে আশ্বাস দিয়ে, বরং পরিশ্রম করে নেটওয়ার্র্ক ব্যবসার মাধ্যমে সাফল্যের স্বর্ণ শিখরে পৌছাঁনোর সুনির্দিষ্ট উদাহারণ দিন।
টিপস্ তেইশঃ
পরিবারের সদস্য, প্রতিবেশী ও বন্ধু বান্ধবদের সাথে নিয়ে নেটওর্য়াক মার্কেটিং ব্যবসার ভিত্তি রচনা করুন। এ ব্যবসায় প্রিয়জনদের সান্নিধ্য আপনাকে অনুপ্রেরণা যোগাবে।

১১

টিপস্ চব্বিশঃ
বিনিময় নিশ্চিত করুন যেমন- অর্থের বিনিময়ে পণ্য ও সেবা, শ্রমের বিনিময়ে পারিশ্রমিক এবং সুপরিকল্পনা ও সময়ের বিনিময়ে সাফল্য।
টিপস্ পঁচিশঃ
ঘর হতে বের হওয়ার পূর্বেই পরিকল্পনা তৈরী করে ফেলুন। রাস্তায় বের হয়ে পরিকল্পনা গ্রহন করা থেকে বিরত থাকুন।
টিপস্ ছাব্বিশঃ
প্রথমে নিশ্চিত হউন, কোন রকম বেঁচে থাকতে চান না সম্পদ গড়তে চান। যদি প্রথমটি হয় তবে চাকুরীতে অধিক মনোযোগ দিন আর যদি দ্বিতীয়টি চান তবে নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ব্যবসায় লেগে পড়–ন।
টিপস্ সাতাশঃ
আপনার ডাউনলাইন ডিস্ট্রিবিউটর আপনার জন্য সম্পদ স্বরূপ এদের মাঝ থেকে যতবেশি সম্ভব আপনার ডুপ্লিকেট তৈরী করুন।
টিপস্ আটাশঃ
নেটওয়ার্ক মার্কেটিং এ কি করা উচিত ও কি অনুচিত জানা প্রয়োজন। কারণ যা উচিত তা আপনাকে একশ ভাগ এগিয়ে দিবে এবং যা অনুচিত তা আপনাকে দুইশ ভাগ পিছিয়ে দেবে।
টিপস্ উনত্রিশঃ
শৈশব হতে অদ্যবধি আমরা মানুষের সহযোগিতা গ্রহন করি এবং নিজেরাও অন্যদের সহযোগিতা করে থাকি। নেটওর্য়াক মার্কেটিং ব্যবসায় পারস্পরিক নির্ভরশীলতার উপর গুরুত্ব দিন।
টিপস্ ত্রিশঃ
অন্যের প্রাপ্য মর্যাদা দিন, অন্যের যোগ্যতার সঠিক মূল্যায়ন করুন।
টিপস্ একত্রিশঃ
অন্যদের বক্তব্য ধৈর্য্য সহকারে শুনুন। অন্যদের বলার সুযোগ প্রদান করলে আপনার উপর আস্থা বেড়ে যাবে।

১২

টিপস্ বত্রিশঃ
কোম্পানীর কমিশন প্ল্যান ভালভাবে জানা ও এর প্রতি পূর্ণ আস্থা না থাকলে অন্যদেরকে এ ব্যবসায় আকৃষ্ট করাতে ব্যর্থ হবেন। এজন্য কোম্পানীর কমিশন প্ল্যান, বন্টন প্রনালী ও প্রমোশন পদ্ধতির বিষয়ে ভালো ধারণা থাকা আবশ্যক।
টিপস্ তেত্রিশঃ
নিজে যতবেশি জানবেন ও ব্যক্তিত্বের অধিকারী হবেন ততবেশি অন্যদের প্রভাবিত করতে পারবেন।
টিপস্ চৌত্রিশঃ
সফলতার জন্য আপনাকে প্রাথমিক অবস্থায় পূর্ণ সময় কাজ করতে হবে। সাফল্য লাভের পর নিজেই নির্ধারণ করে নিন কখন ও কিভাবে সময় প্রদান করবেন।
টিপস্ পঁয়ত্রিশঃ
নেটওয়ার্ক ব্যবসায় নিজেকে প্রকাশ করার যথেষ্ঠ সুযোগ থাকে, প্রশিক্ষণ ও মোটিভেশনের মাধ্যমে চারিত্রিক উৎকর্ষক সাধন ও দক্ষ নেতৃত্ব প্রদান করে নিজেকে অনেকের মধ্যে অন্যতম করে তুলুন।
টিপস্ ছত্রিশঃ
নতুন ও একক বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন পণ্যের জন্য প্রশিক্ষন গ্রহন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পণ্যের গুনাগুন, পন্যের বৈশিষ্ট্য ও বিশেষত্ব সম্পর্কে ধারণা লাভের জন্য প্রশিক্ষণ গ্রহন করুন।
টিপস্ সাইত্রিশঃ
উন্নত ব্যক্তিত্ব শুধু নেতৃত্ব প্রদানে ভূমিকা রাখে না বরং সাফল্যের শীর্ষ বিন্দুতে পৌছাঁতেও সাহায্য করে। অনুপম ব্যক্তিত্ব অর্জনের জন্য প্রশিক্ষণ নিন।
টিপস্ আটত্রিশঃ
নেটওর্য়াক মার্কেটিং ব্যবসায় আপনার পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রশিক্ষণগুলো বেছে নিন। কোন প্রশিক্ষণই বৃথা যায় না।

১৩

টিপস ঊনচল্লিশঃ
প্রশিক্ষণ গ্রহণের পূর্বে ও পরে কাজের তফাৎ পরখ করে দেখুন। কাজের মূল্যায়ন করার মাধ্যমে প্রশিক্ষনের তাৎপর্য অনুধাবন করা সম্ভব।
টিপস চল্লিশঃ
সবসময় কাজে সম্পৃক্ত থাকুন। আপনার কাজের প্রতি আগ্রহ ও উদ্দীপনা দেখে অনেকেই উৎসাহী হবে।
টিপস একচল্লিশঃ
সময়ের অভাব বা চাহিদা সৃষ্টি করুন। অর্থাৎ প্রথমে একটি ভাল কাজ খুঁজে বের করুন। কাজটিকে এতটাই গুরুত্বপূর্ণ মনে করুন যেন যে কোন উপায়ে তা সম্পন্ন করতে হবে, দেখবেন সময় ঠিকই আপনি বের করে নিয়েছেন।
টিপস বিয়াল্লিশঃ
পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য নির্দিষ্ট পরিমান বাজেট নির্ধারন ও নতুনদের মাঠ পর্যায়ে কাজ করানোর জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করুন।
টিপস তেতাল্লিশঃ
টেলিফোনে আলোচনার পূর্বে বা আমন্ত্রনের পূর্বে একটি স্ত্রিপট তৈরী করে হাতে রাখুন। লক্ষ্য রাখুন যাতে কোন তথ্য ভুল দেয়া না হয়। সম্ভাব্য প্রশ্নোত্তর সম্বলিত স্ক্রিপট তৈরী করুন।
টিপস চুয়াল্লিশঃ
নিজেকে ভালো শ্রোতা হিসেবে তৈরী করে নিন। গ্রহীতা বা সম্ভাবনাময় ক্রেতাকে বলার সুযোগ নিন। ফোনালাপে গ্রহীতা আপনার উপর যত আগ্রহী হবে আপনার সম্ভাবনা তত উজ্বল হবে। মনে রাখবেন যে, শ্রোতা যত বেশি সময় নিবে তার কার্যক্রম তত ইতিবাচক হবে।
টিপস পঁয়তাল্লিশঃ
বিক্রয়কর্মীদের ন্যয় কথার্বাতা থেকে বিরত থাকুন এবং কন্ঠস্বর স্বাভাবিক রাখুন। গ্রহীতা (অতিথি) কে সুযোগ প্রদান করছেন এমন ধারনার চেয়ে তাকে সম্ভাবনাময় ব্যবসার পরামর্শ দিচ্ছেন এমন আচরন করুন।

১৪

টিপস্ ছেচল্লিশঃ
কোন একজন ক্রেতার আচরনে বিষন্ন হয়ে ব্যবসার প্রতি নেতিবাচক মনোভাব পোষন করবেন না। আপনার সফলতার জন্য দু’চারজন উদ্যোমী ক্রেতাই যথেষ্ঠ। আপনার ডাউনলাইনার একজন হলেও তার সঠিক যতœ নিন। এখান থেকেই আপনার সাফল্যের পথ সৃষ্টি হবে।
টিপস্ সাতচল্লিশঃ
যে যেই বিষয়ে পারদর্শী সে সেই বিষয়ে সফলতা অর্জন করে, বিষয় ভিত্তিক পারদর্শীতার জন্য প্রয়োজন নিয়মিত অধ্যায়ন ও অনুশীলন।
টিপস্ আটচল্লিশঃ
প্রতিটি আবিষ্কারের পেছনে আত্মবিশ্বাস অন্যতম প্রেরনা হিসেবে কাজ করে, নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ব্যবসায় যতটা বিশ্বাসী হবেন ততই সফল হবেন।
টিপস্ উনপঞ্চাশঃ
নিজের অভাবটুকু অনুধাবন করুন। যে নিজের অভাব অনুধাবন করতে পারে সে তা পূরন করতে সমর্থ হয় এবং যে অভাব পূরনে সমর্থ হয় সে সাফল্যের পথ খুঁজে পায়।
টিপস্ পঞ্চাশঃ
যে কাজ অসঠিক মনে হয় তা থেকে বিরত থাকুন। সঠিক কাজ আন্তরিকতার সাথে করুন নিশ্চিত সফল হবেন।
টিপস্ একান্নঃ
মনে রাখবেন, বেশী সহযোগিতা অনেক সময় শিশুর মুখে তুলে খাইয়ে দেয়ার মতো হয়। ডাউনলাইনকে সার্বিক সহযোগিতা করুন। কিন্তু গুরুত্ব সহকারে তাদের নিজস্ব ব্যবসা গড়ে তুলতে সহযোগিতা করুন।
টিপস্ বায়ান্নঃ
প্রাথমিক র্পযায়ে আয়ের সর্ম্পুনটাই নিজের প্রয়োজনে ও ডাউনলাইন গঠনে ব্যয় করুন । প্রবৃদ্ধি স্তরে আপনার যে আয় অর্জিত হবে তা থেকে সঞ্চয় করুন এবং রয়্যালটি স্তরে সম্পদ গড়ুন।

১৫

টিপস্ তিপান্নঃ
কাউকে অবাস্তব বা অলীক স্বপ্ন দেখাবেন না। যা সম্ভব তা যত কঠিন হোক না কেন অধিকাংশ মানুষ তা গ্রহন করে।
টিপস্ চুয়ান্নঃ
অন্যদের ভুলগুলো কৌশলে ধরিয়ে দিন। অনেকের সম্মুখে লজ্জিত না করে ইশারায় তা শুধরানোর সুযোগ দিন।
টিপস্ পঞ্চান্নঃ
এমন প্রতিশ্রুতি দিন যা বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হবেন, মিথ্যে প্রতিশ্রুতি কখনও দিবেন না।
টিপস্ ছাপ্পান্নঃ
নিজের ডাউনলাইনে যতবেশী ডুপ্লিকেট তৈরী করতে সক্ষম হবেন তত বেশী অর্থোপার্জনে সক্ষম হবেন।
টিপস্ সাতান্নঃ
অতিরিক্ত মূল্যে পণ্য বিক্রয় করবেন না। কমিশন লাভের আশায় যারা অতিরিক্ত মূল্যে পণ্য বিক্রয় করে অথবা অপ্রদর্শিত পণ্য বিক্রয় করে তারা মূলত পিরামিড স্কীমের মাধ্যমে ব্যবসা করে।
টিপস্ আটান্ন**ঃ
নেটওয়ার্ক ব্যবসায় নিয়মিত ও পরিকল্পিত কাজের মাধ্যমে পণ্য ও সেবা স¤প্রসারনের মাধ্যমে আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। কিন্তু দ্রæত ধনী হওয়া যায় না।
টিপস্ ঊনষাট*ঃ
আপনি কি নিশ্চিত আপনার প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকার মত সামর্থ রয়েছে। যদি তাই হয় তবে আত্মবিশ্বাসের সাথে প্রত্যেকের সাথে ব্যবসা বিষয়ক আলোচনা করুন। গর্ববোধ করুন আপনার প্রতিষ্ঠান নিয়ে।

১৬

টিপস্ ষাটঃ
মূল্যবান সময়কে কে কতটা কাজে লাগাতে পারে তা নির্ভর করে তার মনোভাবের উপর। ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তুলুন অন্যদের চেয়ে সাফল্যের পথে একধাপ এগিয়ে থাকুন।
টিপস্ একষট্টিঃ
আপনার চারপাশের নেতিবাচক বিষয়গুলো আপনার মনোভাবে যাতে প্রভাব ফেলতে না পারে এজন্য সেগুলোকে ক্ষনস্থায়ী মনে করুন এবং এগিয়ে চলুন।
টিপস্ বাষট্টিঃ
কারো প্রচেষ্টাকে খাটো করে না দেখা বরং সহযোগিতামূলক আচরণ প্রদর্শন করুন এবং প্রত্যেকের কাজের স্বীকৃতি প্রদান করুন।
টিপস্ তিষট্টিঃ
আপনার প্রতিষ্ঠানের কমিশনপ্ল্যানটি যদি বাইনারী বা মেট্টিক্স হয় তবে সেল্স ও স্পন্সরিং দুটোতেই জোর দিন। যদি ইউনিলেভেল বা হাইব্রিড হয় তবে সেল্সের প্রতি কিছু বেশী গুরুত্ব দিন।
টিপস্ চৌষট্টিঃ
নেটওর্য়াক ব্যবসায় যত সময় ব্যয় করবেন তত সফল হবেন। পর্যবেক্ষণ করে নয় বরং কাজে লিপ্ত থেকে এ ব্যবসা শিখতে হবে।
টিপস্ পঁয়ষট্টিঃ
প্রশিক্ষণ গ্রহন করুন সঠিক পথের জন্য। বই পড়ুন জ্ঞানের জন্য এবং টীম গঠন করুন রেসিডিউয়্যাল আয়ের জন্য।
টিপস্ ছিষট্টি*ঃ
যদি আপনার লোকজন ব্যবসা সৃষ্টির জন্য সচেষ্ঠ না হন তাহলে তাদের নিয়ে আপনার সময় নষ্ট করা উচিত নয়। তদ্পরিবর্তে যারা ব্যবসা সৃষ্টিতে আগ্রহী তাদেরকে সময় দিন এবং ভবিষ্যতে অন্যদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখুন।

১৭

টিপস্ সাতষট্টিঃ
আপ-লাইন লিডার ও ডাউনলাইন ডিস্ট্রিবিউটরদের নিয়ে গঠিত দলে প্রত্যেকের বিশ্বাস আবশ্যক এবং প্রত্যেকে মিলে লক্ষ্যস্থির করতে হবে যেখানে কারো জন্য অপেক্ষা করা অনুচিত।
টিপস্ আটষট্টিঃ
দলে অর্ন্তগত একে অন্যের কাজে সহযোগিতা ও পরামর্শ গ্রহন ও প্রদান করুন। প্রত্যেকে দলীয় শৃঙ্খলা ও নীতিমালা মেনে চলুন।
টিপস্ ঊনসত্তরঃ
জ্ঞাত কর্মফল আপনাকে সফলতা এনে দেবে না। আপনাকে প্রতিশ্রæত সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজে নামতে হবে।
টিপস্ সত্তরঃ
একজন সফল ব্যক্তি ঐ ব্যক্তি যিনি নিজের ভুল হতে শিক্ষা গ্রহন করেন। কিন্তু একজন অতি সফল ব্যক্তি ঐ ব্যক্তি, যিনি অন্যের ভুল হতে শিক্ষা গ্রহন করেন।
টিপস্ একাত্তর*ঃ
প্রত্যেকে নিজ নিজ আপ-লাইন ও ডাউন-লাইনের সহিত যোগাযোগ রাখুন। দলীয় সংহতি বজায় রাখার জন্য, দলীয় লক্ষ্য অর্জনের জন্য এবং ব্যক্তিগত সাফল্য অর্জনের জন্য যোগাযোগ অপরিহার্য।
টিপস্ বাহাত্তরঃ
অনেক লোক নেটওর্য়াক মার্কেটিং ব্যবসার উন্নয়নে ব্যর্থ হন। এটা হয়ে থাকে চেষ্টার অভাবে নয় বরং চেষ্টাকে কোন খাতে নিয়োজিত করবেন তার কারনে।
টিপস্ তিয়াত্তরঃ
আপনি কিংবা আপনার ডাউন-লাইন কর্তৃক আহবানকৃত সভার সফল সমাপ্তির জন্য প্রয়োজনীয় সব কিছু করুন এবং আপ-লাইন লিডারদের নিমন্ত্রণ করে ব্যবসা উন্নয়নের উপায় বের করুন।
টিপস্ চুয়াত্তর*ঃ
টীম বা দলের আদর্শ, নীতি ও মূল্যবোধ আপনি যেমন মেনে চলবেন তেমনি অন্যরা যাতে মেনে চলে লক্ষ্য রাখুন।

১৮

টিপস্ পচাঁত্তরঃ
নিজেকে নেতা হিসেবে প্রমাণের প্রয়োজন নেই, আপনার মোহনীয় ব্যক্তিত্ব, দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের সচেতনতা, সিদ্ধান্ত গ্রহন ও নির্দেশনায় দূরদর্শিতা, আত্মনিয়ন্ত্রণ, সৎ উদ্যেগ, ন্যয় ও পরায়নতা, সৃজনশীলতা ও প্রেরণা আপনাকে সফল নেতার স্থানে আসীন করবে।
টিপস্ ছিয়াত্তরঃ
অনুমান করবেন না। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং-এ ক্রমাগত নতুন লোক ব্যক্তিগতভাবে স্পন্সর করার উপর যদি আপনার ভবিষ্যতের আয় নির্ভর করে অথবা যদি আপনাকে পার্সোনাল সেল্স ভলিউম কোটা অনুসরণ করতে হয় সেটা আপনার ব্যক্তিগত গড় ভোগ অপেক্ষা অনেক বেশী, তবে সাবধান, পরে আপনার আর ছেড়ে পালাবার সুযোগ থাকবে না।
টিপস্ সাতাত্তরঃ
কিছুদিন পূর্বে একটা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক অনেক মানুষ প্রতারিত হয়েছিল এমন ধারণা মনে পোষবেন না বরং ধরে নিন নতুন অনেক প্রতিষ্ঠান বৈধ উপায়ে কাজ করছে যারা মানুষের কল্যাণে নিবেদিত-তাদের খুঁজে নিন।
টিপস্ আটাত্তরঃ
যদি সফলতার জন্য নেটওর্য়াক ব্যবসা আমার অগ্রাধিকার তালিকায় না আসে তাহলে এজন্য কখনো সময় বরাদ্দ করবো না। তাই সম্ভাব্য ক্রেতাকে এমনভাবে এ ব্যবসার সুবিধা প্রদর্শন করতে হবে যাতে তার জীবনের লক্ষ্যর্জন এবং স্বপ্নপূরণে এটি সহায়ক হয়। যার জন্য তিনি এ ব্যবসায় সামান্যতম সময় হলেও বরাদ্দ করেন।
টিপস্ ঊনআশিঃ
নেটওর্য়াক মার্কেটিং এ রাতারাতি ধনী হতে শেখায় না কিন্তু ধনী হওয়ার সহজ পথের সন্ধান দেয়। যারা প্রকৃতপক্ষে ধনী হতে চায় তারা এ পথ খুঁজে নেন।
টিপস্ আশিঃ
প্রশ্নের দ্বৈততা এড়িয়ে চলুন। সম্ভাব্য ক্রেতা যদি ব্যবসায় যোগদানে সম্মত হন, তাহলে আলোচনা দীর্ঘায়িত করবেন না। আলোচনা তাৎক্ষনিক বন্ধ করে আবেদন ফরম পূরণ করতে দিন। বহু নেটওর্র্য়াক ব্যবসায়ী দীর্ঘায়িত আলোচনার প্রেক্ষিতে সম্ভাব্য ক্রেতা না বলার সুযোন পান।

১৯

টিপস্ একাশিঃ
নেটওর্য়াক মার্কেটিং ব্যবসায় তিনটি বিষয়ের প্রাধান্য প্রদানের মাধ্যমে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করা যায়। ক) উপস্থাপনের যোগ্যতা বাড়াতে হবে। খ) নেতৃত্ব প্রদানের ক্ষমতা বাড়াতে হবে। গ) বিক্রয় বৃদ্ধির কৌশল আয়ত্ত করতে হবে।
টিপস্ বিরাশিঃ
লোকজন আপনাকে বিভিন্ন প্রশ্ন করবে এটাই স্বাভাবিক। তবে আপনি সঠিক প্রশ্নের সঠিক উত্তর প্রদান করুন।
টিপস্ তিরাশিঃ
অনেকের মধ্যে তিনিই সেরা যিনি বেশী শোনেন অথচ কম বলেন, এক উত্তরের মাধ্যমে অনেকেই প্রশ্নের জবাব পেয়ে যান।
টিপস্ চুরাশিঃ
সফলতার জন্য আপনি কতটা সন্তুষ্ট হতে পারলেন তা নয় বরং ক্রেতারা আপনার মতো এটি করার জন্য কতটা সন্তুষ্ট হতে পারলো সেটাই মূখ্য বিষয়। একেবারে তাদেরকে সমস্ত বিষয়গুলো বলে দেওয়ার প্রবনতাই তাদের জন্য কঠিন কাজ হতে পারে। সুতরাং “Keep it Simple and Duplicate”.
টিপস্ পচাঁশিঃ একজন অপরাধীর নিকট হতে সুযোগ গ্রহন করা এবং নিজে অপরাধ করা সমান। পিরামিড স্কীমের সুযোগ গ্রহন করে অন্যকে ঠকানো আত্মহত্যার শামিল। যা আপনার বিবেককে ধ্বংস করবে। অতএব সাবধানে পা ফেলুন, সত্যের পথ কঠিন হলেও শান্তিময়।
টিপস্ ছিয়াশিঃ
প্রশ্নোত্তরে অধিক আন্তরিক হোন কিন্তু তোষামোদ করবেন না। প্রসপেক্টকে যদি গুরু-গম্ভীর মনে হয়, তাহলে তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে দিন। তাকে যোগদানে বাধ্য করার প্রচেষ্ঠা থেকে বিরত থাকুন।

২০

টিপস্ সাতাশিঃ
সময়ের সাথে সাথে আমাদের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়ছে-বিষয়টি সত্য। আবার এও সত্য যে কঠিনতম জীবনযাত্রা সহজ করার অনেক পন্থা আবি®কৃত হচ্ছে যার একটি নেটওর্য়াক মার্কেটিং অতএব আস্থা হারাবেন না।
টিপস্ আটাশিঃ
কেন কিছু লোকজন এ ব্যবসায় আসছে এবং কেন কিছু লোকজন এ ব্যবসায় আসতে চায় না। এর দশটি করে উত্তর লিপিবদ্ধ করুন, অনেক কিছুর উত্তর পেয়ে যাবেন যা আপনার অজানা ছিল।
টিপস্ ঊননব্বইঃ অনেক লোকই নেটওর্য়াক মার্কেটিংয়ের সিস্টেম অনুসরণ করতে অনিচ্ছুক। কারণ, নিয়ম-শৃঙ্খলা ছাড়াও এখানে ব্যক্তিগত শ্রম ও টাকা ইনভেষ্ট করার প্রয়োজন হয়।
টিপস্ নব্বইঃ
উপলব্ধি করুন আপনার অভাব, উপলব্ধি করুন আপনার কর্মক্ষেত্রের, উপলব্ধি করুন আপনার উপর নির্ভরশীলদের, উপলব্ধি করুন আপনার প্রচেষ্ঠার, উপলব্ধি করুন ভবিষ্যত পরিকল্পনা।
টিপস্ একানব্বইঃ আপনার প্রত্যাশা মোতাবেক নেটওর্য়াক ব্যবসা যদি বৃদ্ধি না পায় তাহলে আপনার ফলো-আপের ধরন সঠিক করুন। আপ-লাইন লিডারের অভিজ্ঞতার নিরিখে আপনার ফলোআপ পর্যালোচনা করুন এবং তাদের পরামর্শ নিন। টিপস্ বিরানব্বইঃ
টীমওর্য়াক হলো আপনার নিজ হাতে লাগানো গাছে পানি দেওয়ার মতো। গাছের যত পরিচর্যা তত পুষ্টতা লাভ করে বেড়ে উঠবে। আর যদি পরিচর্যা না করেন তবে তা হবে রাস্তার ধারে অপরিকল্পিতভাবে লাগানো গাছের ন্যয়।

২১

টিপস্ তিরানব্বইঃ
কর্ম পরিকল্পনা আপনার চিন্তা ও কাজের মধ্যে সেতু বন্ধন তৈরী করে। এটা অনেকটা যাত্রাপথের ম্যাপ হাতে রাখার মতো।
টিপস্ চুরানব্বইঃ
নতুন আবিষ্কারের প্রতি নমনীয় ধারনা পোষন করুন। কারন প্রতিটি আবিষ্কারেরই একটা কল্যানকর দিক রয়েছে যা আপনি সহজে গ্রহন করতে পারেন।
টিপস্ পচাঁনব্বইঃ
কিছু লোক স্বপ্ন দেখতে ভালবাসে, কিছু লোক কাজ করতে ভালবাসে। এবং কিছু লোক কথা বলতে ভালবাসে। আপনি বেছে নিন যে স্বপ্নকে বাস্তবে রূপান্তরে ভালবাসে তাকে। টিপস্ ছিয়ানব্বইঃ
যার হাত ধরে আপনি এ ব্যবসায় এসেছেন তাকে সম্মান করুন কিন্তু পুঁজো নয়। কারন আপনার সাফল্যে সেও সফলতা পাবে এবং প্রতিষ্ঠানের কাজে আন্তরিক হোন কিন্তু কর্তৃপক্ষের কাছে আপনি ঋণী এমন ভাববেন না।
টিপস্ সাতানব্বই* ঃ
মেকী আচরন না করে অনেকের নিকট দৃষ্টান্ত হয়ে থাকার চেষ্টা করুন। আপনার কর্মফল আপনাকে অন্যদের থেকে পৃথক ও একক বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন করে তুলবে।
টিপস্ আটানব্বইঃ
আপনার টীমে যতবেশী লিডার থাকবে ততই প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী হবে এবং সফলতাও মধুর হবে। অতএব লিডার খুঁজে বের করার জন্য আপনাকেই প্রথমে লীডার হতে হবে। টিপস্ নিরানব্বইঃ
ঐ প্রতিষ্ঠানই সেরা যেখানে পণ্য বিক্রয় ছাড়াও সিস্টেম বিক্রয়ের সুযোগ রয়েছে। রয়্যালটি আয়ের জন্য আপনাকে সিস্টেম বিক্রয়ের প্রতিই অধিক গুরুত্ব দিতে হবে। অতএব সেই প্রতিষ্ঠানটি বেছে নিন।

২২

টিপস্ একশ*ঃ
যারা নেটওর্য়াক মার্কেটিং ব্যবসাকে এখনও সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখে তাদের বলুন অসংখ্য মানুষের ভাগ্য যেখানে জড়িয়ে যায় সেখানে মন্দটিও ভালো হয়ে যায়। মানুষ জানে মন্দ কখনও দীর্ঘস্থায়ী হয় না।

যেসব বই হতে সহায়তা নেওয়া হয়েছে।
* বিপণন বিবর্তন ও নিজস্ব গবেষণা -এম, রহমান আরিফ
** The Insider Secrets to Network Marketing -H.H. Queck
*** Thing Network Marketing And Grow Reach -Major C. Mohan

২৩

দ্বিতীয় অংশ

একজন সফল নেটওয়ার্কারের সাক্ষাৎকার

প্রশ্নঃ কেন আপনি নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ব্যবসা করছেন?
উত্তরঃ এটি একটি স্বাধীন ব্যবসা যেখানে আর্থিক স্বচ্ছলতা লাভ করা যায়। কিছু সময় পরিশ্রম করে দ্রুত অবসর নেয়া যায় এবং মানুষের ভালবাসা অর্জন করা যায়- এজন্য।
প্রশ্নঃ নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ব্যবসায় আপনার উদ্দেশ্য কি?
উত্তরঃ আমার ডাইনলাইনের প্রত্যেক ডিস্ট্রিবিউটরকে সমৃদ্ধশালী করে তোলতে সাহায্য করা।

২৪

প্রশ্নঃ আপনি এখানে মূলত কি কাজ করেন?
উত্তরঃ আমি এখানে তিনটি কাজ করি এক- সেল্স ভলিউম বাড়াতে পণ্য বিক্রয় করি, দুই- আমার টিমে মেম্বার সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা করি, তিন- প্রত্যেককে আমার কাজগুলো নকল করতে পরামর্শ দেই।
প্রশ্নঃ ব্যবসারম্ভের শুরু থেকেই কি আপনি ফুল টাইম সময় দিচ্ছেন?
উত্তরঃ ব্যবসারম্ভের প্রাক্কালে চাকুরীর পাশাপাশি এখানে পার্ট টাইম সময় দিয়েছি, এখানে এসে জেনেছি, শিখেছি এবং স্পন্সর করিয়েছি। এখন ফুলটাইমার কারন আর্থিক স্বচ্ছলতা লাভ করেছি পরিবারকে সময় দিতে পারছি এবং স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছি।
প্রশ্নঃ আপনার মতো কি আমার পক্ষে সম্ভব হবে?
উত্তরঃ আমাকে ডুপ্লিকেট করুন হয়তো আমার চেয়ে বেশী সফল হবেন।
প্রশ্নঃ এখানে একসাথে এত লোক কাজ করে আপনার সমস্যা হয়না?
উত্তরঃ না, কারন এখানে প্রত্যেক নিজের জন্য কাজ করে, প্রত্যেকে প্রত্যেককে সহযোগিতা করে এবং প্রত্যেকে এক প্রতিষ্ঠানে কাজ করে।
প্রশ্নঃ আপনার মতে, প্রাথমিক পর্যায়ে কাউকে স্পন্সর করতে ব্যর্থ হলে কি করা উচিত?
উত্তরঃ প্রাথমিক পর্যায়ে পণ্যসামগ্রী ক্রয় ও বিক্রয়ের মাধ্যমে কমিশন অর্জন করে ধৈর্য্য ধারন করা উচিত।
প্রশ্নঃ কোনটি আপনার নিকট গুরুত্বপূর্ণ পণ্য বিক্রয় না কি স্পন্সরিং?
উত্তরঃ দুটোই, তবে কমিশন প্ল্যানের ধরন অনুযায়ী দীর্ঘমেয়াদে সফলতার জন্য স্পন্সরিং অধিক গুরুত্বর্পূন যেমন- বাইনারিতে।
প্রশ্নঃ আপনি কিভাবে টিম্ওয়ার্ক করবেন?
উত্তরঃ আমার ডাউনলাইনের প্রত্যেক ডিস্ট্রিবিউটর আমার টিমের সদস্য,
এ ক্ষেএে আমি যা করি তা হলো-
ক. প্রত্যেক সদস্যকে লক্ষ্য নির্ধারন করতে বলি ।
খ. সপ্তাহে বা মাসে লক্ষ্যার্জন করতে কতটুকু সমর্থ হলো তা লিপিবদ্ধ করতে পরামর্শ দেই।
গ এরপর প্রত্যেককে তার দলের লক্ষ্য নির্ধারন করার পরামর্শ দেই।
ঘ. অতপর প্রত্যেককে এবং প্রত্যেক গ্রুপের কাজের মূল্যায়ন করি। প্রতিটি গ্রুপ লক্ষ্য পূরন করতে কতটুকু সমর্থ হলো এবং লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হলে সমস্যা চিহ্নিত করে তা সামাধানের পথে এগোই। এক্ষেএে আমার আপলাইনারও আমার পরামর্শক।
গ এরপর প্রত্যেককে তার দলের লক্ষ্য নির্ধারন করার পরামর্শ দেই।
ঘ. অতপর প্রত্যেককে এবং প্রত্যেক গ্রুপের কাজের মূল্যায়ন করি। প্রতিটি গ্রুপ লক্ষ্য পূরন করতে কতটুকু সমর্থ হলো এবং লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হলে সমস্যা চিহ্নিত করে তা সামাধানের পথে এগোই। এক্ষেএে আমার আপলাইনারও আমার পরামর্শক।

২৫

প্রশ্নঃ নেটওর্য়াক মাকেটিং ব্যবসা হতে কত সময় পর্যন্ত আয় করা যায়?
উত্তরঃ একমাএ নেট্ওয়ার্ক মাকেটিং ব্যবসায় দীর্ঘ সময় আয় করা সম্ভব এমনকি মূত্যর পর নমিনী এ আয় ভোগ করতে পারে ।
প্রশ্নঃ আপনার মতে নেট্ওর্য়াক মাকেটিং কি আত্নকর্মসংস্থানের উপায় ?
উত্তরঃ নেট্ওয়ার্ক মাকেটিং একটি বিনিয়োগবিহীন ব্যবসা । পেশা হিসেবে নেয়ার সুযোগ রয়েছে বিধায় এ পদ্ধতিকে আত্নকর্মসংস্থানের উপায় বলতে পারি।
প্রশ্নঃ নেট্ওর্য়াক মাকেটিং এ আপনার স্লোগান কি?
উত্তরঃ সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে র্শীষে উত্তোরণ ।
প্রশ্নঃ আপনি কি নিজেকে সফল মনে করেন ।
উত্তরঃ যেদিন এ প্রতিষ্টানে জয়েন করি সেদিন হতে আমি সফল, এখন সফলতম হওয়ার চেষ্টা করছি।
প্রশ্নঃ আপনার অনুপ্রেরনা কি?
উত্তরঃ আমার সততা ।
প্রশ্নঃ একজন মানুষকে সুখী হতে হলে কি করা উচিত?
উত্তরঃ সুখের সন্ধান করা উচিত ।
প্রশ্নঃ আপনি শুরুতে কেমন আর এখন কেমন আছেন?
উত্তরঃ শুরুতে ছিলাম আত্মকেন্দ্রিক, আশাহত আর সুযোগ সন্ধানী এখন উন্মুক্ত, স্বপ্নে বিভোর আর অকৃত্রিম সহযোগী।
প্রশ্নঃ আপনার আপ-লাইন কি আপনাকে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করেন?
উত্তরঃ আমার আপ-লাইন আরো অনেকেরই আপ-লাইন সেজন্য সার্বক্ষণিক তদারকি করতে পারেন না তবে যখনই আমার প্রয়োজন হয় তখনই আমাকে তারা সহযোগিতা করেন।
প্রশ্নঃ আপনি কিভাবে প্রমান করবেন আপনার কোম্পানী শতভাগ সঠিক?
উত্তরঃ আমাদের কোম্পানী পণ্য বিপণন করে। যেহেতু অর্থের বিনিময়ে
দৃশ্যমান পণ্য বিক্রয় করে এবং লভ্যাংশ ডিস্ট্রিবিউটরদের মাঝে বন্টন করে সুতরাং এটি শতভাগ বৈধ।

২৬

প্রশ্নঃ আপনার মতে পিরামিড স্কীম ও নেটওর্য়াক মার্কেটিং এ দুটোর তফাৎ কি?
উত্তরঃ সংক্ষেপে বলা যায় প্রথমটিতে কাগজ বিনিময় হয় দ্বিতীয়টিতে পণ্য বিনিময় হয়।

প্রশ্নঃ বহিবিশ্বে এমএলএম এত জনপ্রিয় হলেও আমাদের দেশে মোট জনসংখ্যার পাঁচ ভাগ মানুষ এখনো এ ব্যবসায় আসেনি কেন?
উত্তরঃ প্রথমে দেখা যাক কারা এমএলএম ব্যবসায় আসে না-
ক) যারা নতুনত্ব বিশ্বাস করে না।
খ) যারা এত সহজ আয়কে অবিশ্বাস্য মনে করে।
গ) যারা পিরামিড স্কীম দ্বারা প্রতারিত।
ঘ) এবং যারা শুনে বিশ্বাস করে, দেখার প্রয়োজন মনে করেন না।
এবার দেখা যাক কারা এমএলএম ব্যবসায় আসে ঃ
ক) যারা ইতিবাচক মনোভাব সম্পন্ন।
খ) যারা নিজের অবস্থানকে আরো সুদৃঢ় করতে চায়, এবং
গ) যারা অন্যের সাফল্যে আনন্দ লাভ করে।

প্রশ্নঃ একজন চাকুরীজীবি ও একজন নেটওয়ার্কারের মধ্যে পার্থক্য কি?
উত্তরঃ প্রথমজন আয় অনুযায়ী ব্যয় করেন ও দ্বিতীয়জন ব্যয় অনুযায়ী আয় করেন। প্রথমজন জীবনভর পরিচালিত হয় ও একজন নেটওর্য়াকার নিজেই পরিচালক।
প্রশ্নঃ আপনার সাফল্যের পেছনে কারণগুলো কি?
উত্তরঃ আত্মবিশ্বাস, দৃঢ়তা, পরিকল্পনা ও সময় সচেতনতা।
প্রশ্নঃ নতুনদের প্রতি আপনার পরামর্শ কি?
উত্তরঃ যা করবেন বুঝে করুন, যা করবেন আন্তরিকতার সহিত করুন, যা আশা করেন তা বান্তবায়নের জন্য অন্তত একবার প্রাণপন চেষ্টা করুন।

২৭

তৃতীয় অংশ

সাফল্য অর্জনের ৫টি ধাপ

সাফল্যের আকাঙ্খা প্রত্যেকের মাঝেই থাকে। তম্মধ্যে নেটওর্য়াকারদের মাঝে সাফল্যের আকাঙ্খা তীব্রতর কারণ নেটওয়ার্কারগণ স্বপ্ন দেখতে ভালবাসে। কিন্তু শুধু উচ্চাকাঙ্খা থাকলে চলবেনা কিংবা শুধু স্বপ্ন দেখলেই সাফল্য ধরা দিবে না। এ জন্য চাই সঠিক পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ব্যবসায় নিন্মোক্ত পাঁচটি ধাপ পর্যায়ক্রমে সফলভাবে অতিক্রমের মাধ্যমে সাফল্য ত্বরান্বিত হবে। এজন্য ১ বছর মেয়াদী একটি পরিকল্পনা গ্রহন করতে পারি।

১ম ধাপ (১ম ও ২য় মাস)ঃ
নতুন ডিস্ট্রিব্উিটরগণ এ ধাপে অবস্থান করে। এ ধাপে আয়ের সুযোগ সীমিত। এ সময় কালকে শিক্ষানবীশকাল ধরে নিতে হবে।

28

২য় ধাপ (৩য় ও ৪র্থ মাস) ঃ
এ ধাপে নেটওর্য়াকারগণ দৃঢ় মনোভাবের পরিচয় দেন। যারা অঙ্গীকার করে এ ব্যবসায় টিকে থাকার তারাই এগিয়ে যেতে পারে।

তৃতীয় ধাপ (৫ম, ৬ষ্ঠ ও ৭ম মাস) ঃ
এ ধাপটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ ধাপে এসে অনেক নেটওয়ার্কার ঝরে পড়ে কারণ অনেক মনোবল হারিয়ে ফেলে। মূলত এ ধাপ হতেই মোড় নেয় গতিপথ সাফল্য কিংবা ব্যর্থতার দিকে।

29

৪র্থ ধাপ (৮ম, ৯ম ও ১০ম মাস) ঃ
এ ধাপে নেটওয়ার্কারগণের আয় নিশ্চিত হয়। তারা দ্রুত অধিকতর সাফল্যের দিকে এগোয়।

৫ম ধাপ (১১তম ও ১২তম মাস) ঃ
এ ধাপে ডাউনলাইনে নতুন লিডার সৃষ্টি হয় এবং এসব লিডাররা স্ব স্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী টীম বিল্ডিং এ পারদর্শী হয়। এটি রয়্যালটি আয়ের প্রাথমিক ধাপ। এ পর্যায়ে দল স্বয়ংসম্পূর্ণতা লাভ করে।

৩০

চতুর্থ অংশ

আপনি কেন নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ব্যবসা করবেন?

অর্থনীতির ভাষায় মানুষের অভাব অসীম। প্রাপ্তির আকাঙ্খা বা তাড়না থেকে সৃষ্টি হয় অভাবের। অভাবের থেকে সৃষ্টি হয় চাহিদা, আমাদের মৌলিক চাহিদাগুলো হলো- অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা ও বাসস্থান, এ চারটি মৌলিক অধিকার সংস্থান করতে গিয়েই আমাদের হিমশিম খেতে হয় বিশেষভাবে আমাদের

মতো উন্নয়নশীল দেশের মানুষদের। অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা ও বাসস্থানের জন্য প্রয়োজন নূন্যতম আয়। কিন্তু বর্তমানে আমাদের দেশে ৪/৫ ভাগ মানুষ ছাড়া বাকীরা অর্থসংস্থানে ব্যর্থ হচ্ছে যা দ্বারা স্বচ্ছন্দে মৌলিক চাহিদা মেটানো সম্ভব। এর মূল কারণ হিসেবে ধরতে পারি উৎপাদনমুখী খাত অপেক্ষা সেবামুখীখাতে অধিক বিনিযোগ, কৃষি নির্ভর অর্থনীতি হলেও কৃষি জমির পরিমাণ হ্রাস, প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও অনিয়ম দুর্নীতি। উপরোক্ত কারণগুলো জাতীয়ভাবে মোকাবেলা করতে হবে। পাশাপাশি ব্যক্তি পর্যায়ে আমাদের কিছু করণীয় আছে। যেমন বিগত চার পাঁচ বছর পূর্বে আপনি সাত-আট হাজার টাকা মাইনে পেয়ে স্বাচ্ছন্দে জীবন নির্বাহ করতে সক্ষম হলেও এখন বার পনের হাজার টাকায় অনুরূপ পারছেন না, পূর্বের চেয়ে ব্যয় কমাতে সক্ষম হলেও তা বাদ দিতে পারছেন না। এর অন্যতম উপায় হলো আপনাকে আয় বাড়াতে হবে, এবং বাড়তি আয়ের অন্যতম আকর্ষণীয় উৎস ধরা হয় নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ব্যবসাকে। আমাদের মৌলিক চাহিদা পূরণ কিংবা স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ব্যবসা অন্য যে কোন ব্যবসা অপেক্ষা অধিক ফলপ্রসু, কারণ-

৩১

আর্থিক স্বচ্ছলতা ঃ আপনার চাকুরী বা ব্যবসাটুকু পূর্বে আপনার আর্থিক স্বচ্ছলতার জন্য যথেষ্ট হয়ে থাকলেও বর্তমানে তা নয়। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং এর ক্রমবর্ধমান আয় দীর্ঘমেয়াদী, যা আমাদের আর্থিক স্বচ্ছলতা প্রদানে সক্ষম। কারণ প্রথম বছর যা আয় করবেন পরবর্তী বছরগুলোতে এর চেয়ে বেশী আয় করতে পারবেন নিশ্চিত।
পারিবারিক নিরাপত্তা ঃ প্রত্যেক মানুষ তার পরিবারকে নিরাপদ রাখতে চায় অন্তত আর্থিক ও সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, প্রত্যেকে স্ত্রী, পুত্র, কন্যা বা ভাই বোনের জন্য ডি.পি.এস. বা এফ.ডি.আর করেন। কিন্তু এসব সঞ্চয় নির্দিষ্ট সময় ও নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থের জন্য। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ব্যবসা দীর্ঘমেয়াদী ও রেসিডিউয়্যাল আয়ের যোগান দেয় যা অনেক বেশী গ্রহনযোগ্য। এ ধরনের আয়ের জন্য অর্থ সঞ্চয়ের প্রয়োজন হয় না। প্রয়োজন, পরিকল্পনা অনুযায়ী বিপণন ও পরিশ্রমের।
সম্মান ও প্রতিপত্তি ঃ ডাউনলাইন ডিস্ট্রিবিউটরদের সহযোগিতা প্রদান ও সঠিক পথ প্রদর্শনের মাধ্যমে তাদের সম্মান অর্জন করা যায়। এছাড়াও প্রশিক্ষণ প্রদান করে যা সঠিক নেতৃত্বদানের মাধ্যমে সকলের সম্মান অর্জন সম্ভব। অন্যদিকে ডুপ্লিকেশনের মাধ্যমে নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ব্যবসায় যে অর্থোপার্জন করা যায় তা অন্য ক্ষেত্রে সফল হওয়া দুষ্কর। আর্থিক ও সামাজিক প্রতিপত্তি অর্জনের জন্য নেটওয়ার্ক মার্কেটিং অন্যতম সহজ পথ।
বিশ্ব ভ্রমনের সুযোগ ঃ আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে বিশ্বভ্রমনের সুযোগ খুব অল্প সংখ্যাক মানুষ লাভ করতে পারে। অধিকাংশ নেটওয়ার্ক মার্কেটিং কোম্পানী ইনসেনটিভ স্বরূপ ডিস্ট্রিবিউটরদের বিদেশ ভ্রমনের সুযোগ প্রদান করে। কোম্পানী কর্তৃক ব্যবস্থা না থাকলেও আপনি নিজেও বিদেশ ভ্রমন করতে পারেন কারন আপনার হাতে সময় ও অর্থ দুই’ই থাকবে।
প্রশিক্ষণ ও জ্ঞানার্জনের সুযোগ ঃ নেটওয়ার্ক মার্কেটিং প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন প্রকার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে এর মধ্যে অন্যতম বিক্রয় প্রশিক্ষন, আত্মোন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ, লিডারশীপ প্রশিক্ষণ, এসব প্রশিক্ষনের মাধ্যমে বিভিন্ন কৌশল ও জ্ঞানার্জন করা অনেক সহজ। আমরা শিক্ষা জীবন শেষে যে বিষয়টির অভাববোধ করি তা হলো প্রশিক্ষণ। কারণ প্রশিক্ষণ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গীর পরিবর্তন ঘটাতে পারে এবং বাস্তব বিষয়গুলো মোকাবেলা করতে শেখায়।
বস্তুত নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ব্যবসার প্রয়োজনীয়তা আপনি তখনি অনুভব করতে পারবেন যখন আপনি বিষয়টির প্রতি মনোনিবেশ করবেন এবং এর বৃহত্তর পরিবেশে প্রবেশ করবেন।

32

নেটওয়ার্ক মার্কেটিং-এ সফলতার জন্য চাই- আত্মনির্মাণ

যে কোন ক্ষেত্রে সাফ্যল্য প্রাপ্তির জন্য প্রয়োজন পূর্ব প্রস্তুতি। অর্থাৎ লক্ষ্য নির্ধারণ, পরিকল্পনা, দৃঢ় মনোবল ও পরিশ্রম। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ব্যবসায় সফলতার জন্য প্রয়োজন-আত্মনির্মাণ। কি করা উচিত, কি অনুচিত, কি করা প্রয়োজন, আর কি প্রয়োজন নহে, কি ভালো আর কি মন্দ এসব বুঝতে পারলেই আপনি আত্মনির্মাণ করতে পারবেন। আত্মনির্মাণে সঠিকপথ খুঁজে নিতে নিমোক্ত বিষয়গুলো সহায়ক হতে পারে।
সুস্পষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করুনঃ জীবনের অনেক পর্যায়ে লক্ষ্য স্থির করলেও তা অর্জন করতে পারেননি। এস এস সি পাশ করে জীবনের লক্ষ্য স্থির করেছিলেন ডাক্তার হবেন, কিন্তু তা হতে পারেননি। মাস্টার্স করে চাকুরীর খোঁজে যখন জুতার নিচের অংশে খসে পড়ল তখন জীবনের লক্ষ্য থাকবেই বা কেন? কিন্তু আত্মনির্মাণে সুস্পষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ অত্যাবশ্যক, আপনার লক্ষ্য অবশ্যই বাস্তব সম্মত হতে হবে, যদি তাই হয় তবে আত্মনির্মাণে একধাপ এগিয়ে গেলেন।
চিন্তা ও কাজের সমন্বয় ঘটানঃ আপনার চিন্তা যতটা গঠনমূলক হবে তেমনি কাজেও গতিশীলতা আনবে। সকালের কাজে যেমনটি চিন্তা করেছেন- সকাল নয়টায় প্রশিক্ষণ গ্রহণ, তারপর প্রেজেন্টেশন, ক্লোজিং, ফলোআপ ও গ্রুপ মিটিং ইত্যাদি।
যখনই উপরোক্ত কাজগুলো সময় মতো পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করবেন মনে প্রশান্তি আসবে, অর্থাৎ চিন্তা ও কাজের সমন্বয় ঘটাতে আপনি সক্ষম।
পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সজাগ থাকুনঃ যে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন তা অবশ্যই আপনার মঙ্গল বয়ে আনবে। পরিকল্পনার প্রতিটি ধাপ ক্রমান্বয়ে অতিক্রম করতে পারলেন কিনা সেদিকে সজাগ থাকুন। পরিকল্পনায় একধাপ এগিয়ে যাওয়া মানেই আপনার আত্মবিশ্বাস বেড়ে যাওয়া। সুষ্ঠ পরিকল্পনা মানে সাফল্যের পথ অর্ধেক অতিক্রম করা।
অন্যকে জয় করুন, আপনার জয় সুনিশ্চিতঃ অন্যকে জয় করার জন্য নিজেকে সঁপে দিন। এ ব্যবসায় যা খুবই কার্যকর উপায় তা হল আপনি দশজনের কথা ভাবুন, অবশ্যই তারা আপনার জয় নিশ্চিত করবে। কাউকে সাফল্যের চূঁড়ায় পৌঁছে দেয়ার প্রয়োজন নেই, সঠিক পথ ও সঠিক পরামর্শ দিন। আপনাকে তারাই এগিয়ে নেবে যাদের আপনি পথ দেখাবেন।

৩৩

নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলুনঃ যেখানে আপনার প্রয়োজন নেই সেখানে আপনার সফলতাও নেই। অনেকের মাঝে যখন আপনার গুরুত্ব বেশী তখন আপনার নির্দেশ কিংবা উপদেশ পালন করার মানুষও বেশী। অনেক বড় হয়েও যখন আপনি গুরুত্বপূর্ণ নন ধরে নিন আপনি ব্যর্থ। সাধারণত যে কোন ডিস্ট্রিবিউটরের জন্য তার ডাউনলাইন ক্রেতাগণ অধিক গুরুত্বপূর্ণ । আপনার ডাউনলাইন ডিস্ট্রিবিউটরদের নিকট নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলতে হবে।
ইতিবাচক মনোভাব ও সৃজনশীল ভাবনাঃ আত্মনির্মাণ করতে ইতিবাচক মনোভাব আবশ্যক। ইতিবাচক মনোভাব ছাড়া আপনার কল্পনাশক্তিও কাজ করবে না। এ জন্য নেটওয়ার্ক মার্কেটিং এ নেতিবাচক মনোভাবেন কোন স্থান নেই। ইতিবাচক মনোভাব সেখানেই যেখানে সৃজনশীল চিন্তা-ভাবনার জন্ম হয়। সৃজনশীলতাই সাফল্যের সহজ পথ সৃষ্টি করে।
প্রত্যেকের কথার মূল্যায়ন করুনঃ আমরা সাধারণত বলতে পছন্দ করি, শুনতে নয়। যারা বেশী শুনে বলে কম তারা বুদ্ধিমান। বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের কাছ থেকে বিভিন্ন কিছু শেখার সুযোগ আছে। এজন্য প্রত্যেকের কথার মূল্যায়ন করুন। তাদের বলতে দিন। তাদের দশটি কথার একটি আপনার ভালো লাগতে পারে- তা মনে রাখুন, বাকীটুকু ঝেড়ে ফেলুন।

34

যেভাবে নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ব্যবসা করবেন

নেটওয়ার্ক মার্কেটিং সংক্রাস্ত যেটুকু জানা প্রয়োজন প্রাথমিক পর্যায়ে তা জেনে ও যাচাই করার পরই আপনি সিদ্ধাস্ত নিয়েছেন এ ব্যবসা করবেন কিনা। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতির সুবিধাসমূহ অনুধাবন করার পর যে কেহ কাজ করতে আগ্রহী হবেন। মনে রাখতে হবে যে যত বেশী জানবে সে তত বেশী সফল হবেন। প্রাথমিক পর্যায়ে সফলতার জন্য পণ্য ক্রয় ও বিক্রয়, ক্রেতা সংগ্রহ ও তথ্য বিনিময় করতে হবে। দীর্ঘমেয়াদী সফলতার জন্য নিম্নোক্ত কাজসমূহ করে অভ্যস্থ হতে হবে।

১। পণ্য ক্রয় ও ব্যবহার- নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতি অনুসরণকারী প্রতিষ্ঠান সমূহের মূলভিত্তি আকর্ষনীয় পণ্য ও কমিশন প্ল্যান। সকল পণ্যই এসব প্রতিষ্ঠানে অন্তর্ভূক্তির সুযোগ রয়েছে। নেটওয়ার্কার হিসেবে আপনিও এসব পণ্য স্বাচ্ছন্দে ক্রয় করতে পারেন। প্রাথমিক অবস্থায় নিজের ও পরিবারের প্রয়োজনীয় এবং প্রতিবেশীদের পণ্য ক্রয় করে আপনি ব্যবসারম্ভ করতে পারেন।
২। পণ্য ক্রয়ে উদ্ধুদ্ধ করা- নিজে পণ্য ক্রয়ের পাশাপাশি অন্যদেরও পণ্য ক্রয়ে উদ্ধুদ্ধ করতে হবে। যেহেতু আপনার স্পন্সরকৃত ক্রেতা যত পণ্য ক্রয় করবেন তা থেকে আপনিও কমিশন অর্জন করতে পারবেন এজন্য ডাউনলাইনারদেরও পন্য বিক্রয়ে উদ্ধুদ্ধ করুন।

35

৩। তথ্য বিনিময় করা ঃ নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ব্যবসায় দীর্ঘমেয়াদী কমিশন প্রাপ্তির জন্য সেল্স টীম গঠন করতে হবে, যা গঠিত হয় ডাউনলাইন ডিস্ট্রিবিউটরদের সহযোগিতায়। ডাউনলাইনে ডিস্ট্রিবিউটর সংখ্যা বাড়ানোর অন্যতম সহজ উপায় তথ্য বিনিময় করা। কৌশলগত তথ্য বিনিময় করে রুচীশীল ক্রেতা সংগ্রহ করে শক্তিশালী গ্রæপ বা দল গঠন করা যায়, যা মজবুত ভিত্তি হিসেবে ভবিষ্যতে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
৪। প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা ঃ যে কোন কাজে সফলতা অর্জনের জন্য প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতি যেহেতু আমাদের দেশে একটি নতুন পদ্ধতি সেহেতু এর সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য এবং-দলীয় কার্যক্রম সুচারুভাবে সম্পাদন করার জন্য প্রশিক্ষণ গ্রহণ জরুরী। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ব্যবসায় বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয় যেমন- পণ্য সংক্রান্ত বিক্রয় সংক্রান্ত, কমিশন প্ল্যান সংক্রান্ত ইত্যাদি। এছাড়াও আত্মোন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ব্যবসায় সফল হওয়া যায়।
৫। প্রয়োজন অনুপাতে মজুদ করা ঃ এম.এল.এম. পদ্ধতিতে পণ্য বিক্রয় জড়িত বিধায় পণ্য মজুদের বিষয়ও অর্ন্তভূক্ত। তবে অবশ্যই প্রয়োজন অনুপাতে মজুদ করা উচিত। ডাউন-লাইন ক্রেতাদের পণ্য মজুদের পাশাপাশি দ্রæত বিক্রয়ের উপর জোর দিতে হবে। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ব্যবসায় পণ্য মজুদের বিষয়টি অনেকটা পুশ সেল (চঁংয ঝধষব) এর জন্য।
৬। সময় প্রদান করা ঃ যে কোন কাজে সফলতার জন্য শ্রম ও সময় দুই’ই প্রদান করতে হয়। পূর্ণ সময় কিংবা খন্ডকালীন যেভাবেই এ ব্যবসা করুন না কেন সময় প্রদানের বিষয়টি অবশ্যই পরিকল্পিত ও নিয়মিত হতে হবে। নির্দিষ্ট সময় অফিসে হাজির হওয়া, গ্রæপের অন্য সদস্যের সাথে মিটিং করা কিংবা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা এসব বিষয়ে সময় সচেতন হলে নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ব্যবসায় সফলতা সুনিশ্চিত।
নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ব্যবসায় প্রথম তিন থেকে ছয় মাস নতুনদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় অর্থোপার্জন থেকেও প্রশিক্ষণ ও শিখনের প্রতি মনোযোগী হওয়া উচিত। অল্প সময়ে যারা টিম গঠনে ব্যর্থ হয় তারা হতাশ না হয়ে ধৈর্য্যরে পরিচয় দিতে হবে। অনেক পরে শুরু করে অনেক বেশী সফল হয়েছেন এমন উদাহরণ এ ব্যবসায় যথেষ্ট আছে। একারণে নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ব্যবসা আরম্ভ করেই মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন।

36

নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ব্যবসায় ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার কৌশল

য কোন ব্যবসার মূল লক্ষ্য ক্রেতাদের আকৃষ্ট করা অর্থাৎ বিক্রয় বৃদ্ধি করা। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ব্যবসায় বিষয়টি আরো গুরুত্বপূর্ণ কারণ এম.এল.এম. খুচরা বিক্রয়ের উপর নির্ভরশীল। খুচরা বিক্রয়ে সরাসরি সম্পৃক্ত ক্রেতাগণ। একজন ডিস্ট্রিবিউটর হিসেবে পণ্য ক্রয় করার পাশাপাশি নতুন ক্রেতাদের স্পন্সর করাতে পারলেই দীর্ঘমেয়াদী কমিশন অর্জন সহজতর হয়। নতুন ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার কৌশল এমন হতে পারে-
জীবন যাত্রা বদলে ফেলুন ঃ নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ব্যবসার প্রাথমিক পর্যায়ের আয় দ্বারা আপনার জীবনযাত্রা বদলে ফেলুন। আপনার পরিবর্তন অন্যদের মধ্যে কৌতুহল সৃষ্টি করবে। আপনার পরিবর্তনে মূল কারণ আয় বৃদ্ধি। আপনার বাড়তি আয়ের জন্য নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ব্যবসা সম্পর্কে জানার পরই ক্রেতারদের আকৃষ্ট করা সহজতর হবে।
সম্পর্ক আরো গভীর করে তুলুন ঃ আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও প্রতিবেশীদের সাথে সম্পর্ক পূর্বের চেয়ে গভীরতা করে ফেলুন। তাদের সুখ-দুঃখে, সমস্যাগ্রস্থ অবস্থায় পাশাপাশি থাকার চেষ্টা করুন। তাদের কাছে আপনার গ্রহনযোগ্যতা বেশি হলে আপনার দেখানো পথ-ই তারা অনুসরণ করবে।
টেলিফোনে কুশল বিনিময় করুনঃ প্রত্যেকেই তার আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবের কাছ হতে ফোন প্রত্যাশা করে। সম্ভাব্য ক্রেতার আগ্রহ সৃষ্টির লক্ষ্যে তার সাথে কুশল বিনিময় করুন। তার পরিবার পরিজনের খোঁজ খবর নিন এবং আপনার নতুন ব্যবসা দেখার নিমন্ত্রন করুন। আপনার ইতিবাচক কথোপকথন সম্ভাব্য ক্রেতার মাঝে আগ্রহ তৈরী করবে।

37


ক্রেতার কর্মদক্ষতার তারিফ করুনঃ প্রত্যেক মানুষ নিজের কর্মদক্ষতা সাফল্যের তারিফ শুনতে পছন্দ করে। নেতিবাচক মানুষগুলো এর পেছনে কোন দূরভিসন্ধি খুঁজে বেড়ায়। যেটুকু তারিফ পাওয়ার যোগ্য সেটুকু করুন। পরিশেষে বলুন, “আপনার দ্বারা আরো চমৎকার কিছু সম্ভব, অবশ্য এজন্য আপনার ইচ্ছাশক্তিই যথেষ্ট” এ বলে আগ্রহ যাচাই করুন।
আপনার সফলতার কথা বলুন ঃ পরিচিতজনের সাফল্যের কথা সবাই শুনতে পছন্দ করে। তবে এর পূর্বে প্রমান করতে হবে আপনি সফল। আপনি যত সংক্ষেপে ও সুন্দরভাবে আপনার সফলতার কথা সম্পন্ন করতে পারবেন আপনার সম্ভাব্য ক্রেতা ততই আকৃষ্ট হবেন।
সত্য প্রকাশে অনড় থাকুন ঃ আপনি কি করছেন তা অবশ্যই আপনি জানেন। যদি না জেনে করেন তবে আগে জেনে নিন। আপনি যা করছেন তা সত্য, যদি তা অসত্য হয় তবে বিরত থাকুন। সত্য প্রকাশে অনড় থাকুন। আপনার চারপাশের মানুষ আপনার ও আপনার প্রতিষ্ঠান অর্থাৎ আপনার কর্মের প্রতি আগ্রহী হবে। কাল্পনিক কোন বিষয়কে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করবেন না, সত্য আপনাকে সাফল্যের পথে নিয়ে যাবে। অধিকাংশ ক্রেতাই সত্যের পথ খোঁজেন।
কৃত্রিমতা বর্জন করুন ঃ কৃত্রিমতা আপনার নিজস্ব সত্তাকে নষ্ট করবে। স্মার্ট হতে গিয়ে এমন আচরণ করবেন না যা ক্রেতার মনে সন্দেহ সৃষ্টি করে। মনে রাখবেন অধিকাংশ ক্রেতাই বুদ্ধিমান। বুদ্ধিমান ক্রেতা বা প্রসপেক্টদের নিকট বুদ্ধিমত্তার সহিত উপস্থাপনা করুন, দয়া করে কখনও ক্রেতাদের বোকা বানানোর চেষ্টা করবেন না।

বইটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ

Leave a Reply