পিরামিড স্কীম এর প্রথম বৈশিষ্ট্য হলো এর কোন আইন সিদ্ধ পণ্য বা সেবা থাকে না। যেসব পণ্য আনা হয় তা মূলত লোকদেখানো।
দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য হলো ক্রেতা-পরিবেশকগণ ততক্ষণ পর্যন্ত কোন আর্থিক সুবিধা (যেমন-বোনাস, কমিশন) পাননা যতক্ষন নতুন কোন ক্রেতা-পরিবেশক স্পন্সর করতে পারে না।
পিরামিড স্কীম আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে ব্যবসা কার্যক্রম পরিচালনাকে সার্পোট করে।
পিরামিড স্কীমে সাধারনত টপ লেভেলে যারা অবস্থান করে তারাই প্রচুর অর্থ লাভ করে অন্যদিকে ডাইনলাইনে যারা তারা সব কিছুই পাননা।
পিরাডিম স্কীম অনুসরনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো আকর্ষনীয়, দামী ও অযাচিত পণ্য বাছাই করে নেয় সাধারন ক্রেতা-পরিবেশকদের তেমন প্রয়োজন হয় না তবুও ক্রয় করতে হয়।
পিরামিড স্কীমকে মূলত ‘জুয়া’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন অনেকে কারণ এখানে স্বল্পমেয়াদে বিনিয়োগ করে দীর্ঘমেয়াদে আয় করা যায় যেখানে একটি শ্রেণী বিনিয়োগ কিছুই ফেরত পায় না।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশন পিরামিড স্কীম ও সঠিক এমএলএম প্রতিষ্ঠানসমূহ চিহ্নিত করার জন্য যেসব গাইডলাইন প্রদান করেছে, যেমনঃ ১) সর্বশেষ ক্রেতা বা ভোক্তার নিকট সর্বাধিক পণ্য বা সেবা বিক্রয় করতে হবে। ২) কমিশন প্রদান করা হয় শুধু পণ্য বা সেবা বিক্রয়ের ওপর, নতুন ক্রেতা অর্ন্তভূক্তির জন্য নহে। ৩) বাইব্যাক পলিসি কার্যকর করা।
বাংলাদেশের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ব্যতীত যত্রতত্র জন্ম নেয়া সবগুলো প্রতিষ্ঠানই পিরামিডের আর্কষনীয় উদাহরণ। সবচেয়ে মজার বিষয় হলো যেসব উদ্যোক্তাগণ এমএলএম প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন তারাই পিরামিড স্কীম বুঝেন না।
পিরামিড স্কীমের উত্থানই মূলত এদেশের এমএলএম ধ্বংসের জন্য দায়ী।
লেখক : এম. রহমান আরিফ

Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.