Deprecated: Calling get_class() without arguments is deprecated in /home/marketb1/mrarif.sellerhaat.com/wp-content/plugins/slider-image/includes/class-hugeit-slider-frontend-scripts.php on line 9
মন্তব্য করার পূর্বে আসুন মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) বিষয় তথ্য জেনে নিই-১ – M Rahman Arif

মন্তব্য করার পূর্বে আসুন মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) বিষয় তথ্য জেনে নিই-১

মানুষ সবজান্তা হতে পারে না, সব বিষয় সম্পর্কে জানা মানুষের পক্ষে অনেকটাই অসম্ভব।
মানুষ নিজ নিজ প্রয়োজনে জানার চেষ্টা করে- শেখার জন্য, কাজের জন্য, লেখার জন্য অথবা কথা বলার জন্য মানুষ অজানাকে জানার চেষ্টা করে। কোন বিষয়ে মন্তব্য/কমেন্ট করার পূর্বে অথবা ঐ বিষয়ে আলোচনার পূর্বে জেনে নিতে হবে বিস্তারিত যাতে নিজেদের অজ্ঞতা প্রকাশ না পায়।

আমরা আজকে মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং বা এমএলএম বিষয় জানার চেষ্টা করবো
কমবেশি বিষয়টা সম্পর্কে পত্র-পত্রিকায় যতটুকু জেনেছি আরেকটু জানলে আমরা বিষয়টি নিয়ে কারো সাথে কথা বলতে পারবো। আসুন জেনে নিইঃ

মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং হলো একটি বিপণন পদ্ধতি, এর মূল ধারা হলো ডিরেক্ট সেলিং বা সরাসরি বিপণন পদ্ধতি। কমিশন পদ্ধতির ভিন্নতার জন্য এটিকে বিভিন্ন উপশাখায় বিভক্ত করা হয়। কম্পেন্সেশন প্লানের উপর ভিত্তি করে এটিকে সিঙ্গেল লেভেল ও মাল্টি-লেভেল ইত্যাদি উপশাখায় বিভক্ত করা হয়েছে।

বাংলাদেশে মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং বা নেটওয়ার্ক মার্কেটিং এর বিষয়ে ব্যাপক সমালোচনা রয়েছে এর কারনও আছে যেটা আমরা পর্যায়ক্রমে আলোচনা করবো।

গতানুগতিক বা কনভেনশনাল পদ্ধতির সাথে নেটওয়ার্ক মার্কেটিং বা মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং এর মৌলিক কিছু পার্থক্য বিদ্যমান যার দ্বারা সহজে আমরা এমএলএম-কে পৃথক করতে পারি।

  • ১) এখানে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান অথবা আমদানীকারক পণ্যটি ক্রেতার নিকট সরাসরি পৌঁছানোর ব্যবস্থা করেন। অর্থাৎ মধ্যস্বত্বভোগী বা পাইকারী, ডিলার, এজেন্ট, খুচরা বিক্রেতা এসব থাকে না।
  • ২) এখানে প্রতিষ্ঠান নিজ উদ্যোগে পরিবেশক (প্রতিনিধি)-দের প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করেন। যেমন- পণ্য সম্পর্কিত প্রশিক্ষণ, বিক্রয় কৌশল সম্পর্কিত প্রশিক্ষণ, টীমওয়ার্ক সম্পর্কিত প্রশিক্ষণ ইত্যাদি
  • ৩) এখানে পরিবেশকগণ দীর্ঘমেয়াদে কাজ করে নিজেদের আয়ের ব্যবস্থা করতে পারেন এবং ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নিতে পারেন। এখানে পার্টটাইম ও ফুলটাইম দুভাবেই কাজের সুযোগ রয়েছে।
  • ৪) এখানে পরিবেশক বা ক্রেতারা সরাসরি কোম্পানীকে পণ্য ও সেবা বিষয়ে অভিযোগ প্রদান করতে পারেন, পরামর্শ দিতে পারেন। উদ্যোক্তারা পরিবেশকদেরকে প্রতিষ্ঠানের ভিত্তি মনে করেন।
  • ৫) এটি ক্রেতা-পরিবেশকদের জন্য একটি স্বাধীন ব্যবসা হিসেবে গণ্য করা হয়

আশা করি সচরাচর/গতানুগতিক বা কনভেশনাল পদ্ধতির সাথে মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং বা নেটওয়ার্ক মার্কেটিং অথবা ডিরেক্ট সেলিং এর পার্থক্য কিছুটা পরিস্কার। ধীরে ধীরে আরো ভাল ধারণা পাব আমরা।

এবার বিশ্বব্যাপী মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং বা ডিরেক্ট সেলিং এর কিছু তথ্য জেনে নিইঃ
২০২০ সালে বিভিন্ন দেশের বিক্রয়ের পরিমাণ-

  • যুক্তরাষ্ট্র- ৪০.১ বিলিয়ন ইউএস ডলার
  • চীন- ১৯.১৮ বিলিয়ন ইউএস ডলার
  • জার্মানী- ১৭.৯৭ বিলিয়ন ইউএস ডলার
  • কোরিয়া- ১৭.৭৫ বিলিয়ন ইউএস ডলার
  • জাপান- ১৫.৪১ বিলিয়ন ইউএস ডলার
  • ব্রাজিল- ৮.২৫ বিলিয়ন ইউএস ডলার
  • মালয়েশিয়া- ৬.৯৮ বিলিয়ন ইউএস ডলার
  • মেক্সিকো- ৫.২৮ বিলিয়ন ইউএস ডলার
  • ফ্রান্স- ৫.১৩ বিলিয়ন ইউএস ডলার
  • তাইওয়ান- ৪.৪৬ বিলিয়ন ইউএস ডলার
    (তথ্যসূত্রঃ © Statista 2021)


এবার জেনে নিই সারা বিশ্বে কত সংখ্যক স্বাধীন পরিবেশক বা Independent Representative কাজ করেনঃ

  • যুক্তরাষ্ট্র-  ১ কোটি ৬৬ হাজার ৭০০
  • চীন- ৩৫ লক্ষ ৭০ হাজার
  • জাপান- ২৭ লক্ষ ৭৫ হাজার
  • কোরিয়া- ৮১ লক্ষ ৭১ হাজার
  • মালয়েশিয়া- ৪০ লক্ষ ৩৯ হাজার
  • থাইল্যান্ড-  ১ কোটি ১০ লক্ষ
  • কানাডা- ১৩ লক্ষ ৮৬ হাজার
  • ব্রাজিল- ৫২ লক্ষ ৯০ হাজার
  • মেক্সিকো- ৩৩ লক্ষ
  • ভারত- ৭৪ লক্ষ ৩২ হাজার
  • ইন্দোনেশিয়া- ১ কোটি ৭৫ লক্ষ
  • ফিলিপাইন- ৬৪ লক্ষ ৭ হাজার
    (তথ্যসূত্রঃ https://wfdsa.org)

এই পরিসংখ্যানে আমরা নেই, এর পেছনেও অনেক কারন আছে। কথায় বলে খালি কলসের শব্দ বেশি আমাদের অবস্থাও এমনি। কোটি টাকার কোম্পানী হওয়ার আগে শতকোটির বুলি ছড়াই।
এখানে শুরুতেই কিছু ভুল মানুষের হাত ধরে বাংলাদেশে নেটওয়ার্ক মার্কেটিং এর যাত্রা শুরু হয়েছিল। অনেক বলেন তাদের হাত ধরেই এদেশে এমএলএম। প্রযুক্তির যুগে কোন কিছুই অচেনা বা অজানার সুযোগ নেই। দু’দিন আগে পরে ঠিকই বিশ্বের সকল কিছুই আমাদের হাতে পৌঁছায়।
সমস্যা হলো যে মহারথীগন এই সিস্টেমকে বাংলাদেশে আমদানী করেছেন তাদের অজ্ঞতা ছিল, এনালাইটিক্যাল পাওয়ার কম ছিল। ব্যাপক মুটিবেশন ছিল কিন্তু প্রপার এডুকেশন ছিল না।  হুজুগে বাঙালী হুমড়ি খেয়ে পড়ে সবই হারায়। এজন্য আরো কিছু দিন আমাদের ভুগতে হবে।

 

২০১৩ সালে অক্টোবর মাসে বাংলাদেশে মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং নিয়ন্ত্রণ আইন হলো। দুঃখজনক ব্যাপার হলো সাধারন মানুষতো বটে, যারা বিভিন্ন কোম্পানীতে কাজ করে তারাও বিষয়টি জানেন না এদেশে এমএলএম বৈধ আইনের মাধ্যমে।
আমাদের চর্চার কারনে এমএলএম যতটা বিপদজনক তার চেয়ে বেশি বিপদজনক করে তুলেছে আমাদের পত্রিকাগুলো। আমাদের পত্রিকাগুলো কখনোই সমাধানের পথ বাতলে দেয় না বরং উস্কে দেয়, মুখরোচক সংবাদ পরিবেশনের জন্য সত্য-মিথ্যেকে এক করে ফেলে।
তথ্য ও পরিসংখ্যান ভিত্তিক এই ধারাবাহিক লেখাটি চলতে থাকবে, সবাই শেয়ার করবেন কারন আমাদের হাতে কোন মিডিয়া নেই। এই ফেসবুকই আমাদের শেষ ভরসা।

চলবে ………

লেখক : এম. রহমান আরিফ

Leave a Reply