আপনি প্রথমবার কারো না কারো হাত ধরে কিংবা নিজেই কৌতুহলবশত কোন এম.এল.এম কোম্পানীর সেমিনারে অংশ নিয়েছেন। সেমিনারে আপনি উক্ত প্রতিষ্ঠানের পণ্য সামগ্রী, কমিশন প্ল্যান, ভবিষ্যত পরিকল্পনা এবং আয়ের উৎস সম্পর্কে বিস্তর ধারণা লাভ করেছেন। কিন্তু পরিসংখ্যানে দেখা যায় শতকরা মাত্র পনের থেকে বিশ ভাগ লোক সেমিনারে বসে কোম্পানী ও কমিশন প্ল্যান সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা লাভ করতে সক্ষম হয়। সেমিনার চলাকালীন সময় কিংবা সেমিনারের পর আপনার মনে যেসব প্রশ্ন জাগতে পারে তা আপনার আপলাইন বা কাউন্সিলরের কাছ থেকে জেনে লিখে রাখুন। সম্ভাব্য প্রশ্ন সমূহঃ
এ ব্যবসাটি কি প্রত্যেকের পক্ষে সম্ভব?
এ ব্যবসায় প্রতিদিন কত সময় ব্যয় করতে হবে?
এ প্রতিষ্ঠান হতে কতদিন আয় করা সম্ভব?
সর্বোচ্চ কত টাকা ইনভেষ্ট করতে হবে এ ব্যবসায়?
আমি নিয়মিত আসতে পারবনা, তবে কি এ ব্যবসা করা সম্ভব হবে?
নতুন অতিথিকে কিভাবে দাওয়াত করব?
আমার পরিবর্তে আমার পরিবার এ ব্যবসা করতে পারবে কি?
কোম্পানীর লাভ কি এ টাকা বন্টন করে?
কতদিন পর্যন্ত এ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম অব্যহত থাকবে?
নির্দিষ্ট সময়ের পর কাজ করার প্রয়োজন নেই কি?
স্পন্সরিং ছাড়া আয়ের উপায় আছে কি?
ব্যক্তিগত স্পন্সরিং এর কোন সীমা বদ্ধতা আছে কি?
নেটওয়ার্ক মার্কেটিংকে পেশা হিসেবে নেয়ার সুযোগ আছে কি?
প্রতিষ্ঠানের পণ্য বিক্রয় করে আয়ের সুযোগ আছে কি?
পণ্যের মূল্য বাজারের সাথে সংগতিপূর্ণ কি?
আপনার প্রথম কাজ
এম.এল.এম ব্যবসা শুরুর সাথে সাথেই প্রত্যেকের জানার কৌতুহল থাকে কিংবা যে প্রশ্নটি মাথায় ঘুরপাক খায় তা হলোঃ “আমার কাজ কি?”
নেটওয়ার্ক মার্কেটিং এর প্রথম কাজ হলো নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ব্যবসা বা এম.এল.এম ব্যবসা সম্পর্কে জ্ঞানার্জন, যে প্রতিষ্ঠানে আপনি কাজ করতে সম্মত হয়েছেন সে প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জানা।
কি বিষয়গুলো সম্পর্কে জানা প্রয়োজন তা ব্যবসার শুরুতেই আপনার চিন্তায় আসবে না। এক্ষেত্রে নিম্নোক্ত প্রশ্নোত্তরগুলো আপনার সঠিক জ্ঞানার্জনে সহায়ক হবে।
ক) নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ব্যবসা কি?
খ) অন্যান্য মার্কেটিং পদ্ধতির সাথে এ পদ্ধতির পার্থক্য কি?
গ) নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতির সম্ভাবনা কতটুকু?
ঘ) এ মার্কেটিং পদ্ধতিতে প্রত্যেকের কাজ করার সুযোগ আছে কি না?
ঙ) এ প্রতিষ্ঠানের পণ্য ও সেবা সমূহ কি?
চ) এ প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?
ছ) কমিশন প্ল্যানের মাধ্যমে কত সময় আয় করা সম্ভব?
জ) এ প্রতিষ্ঠানের পণ্যের গুণগত মান কেমন?
ঝ) বিশ্বব্যাপী যেসব এম.এল.এম প্রতিষ্ঠান ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে সেসব প্রতিষ্ঠানের বর্তমান অবস্থা কেমন?
ঞ) এ বিপণন পদ্ধতিকে মানুষ কিভাবে গ্রহণ করছে?
ট) আমাদের দেশের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানীগুলো এ পদ্ধতি অনুসরণ করবে কিনা?
ঠ) বাংলাদেশে এ পদ্ধতির সম্ভাবনা কেমন?
উপরোক্ত প্রশ্নগুলোর উত্তর আপনার আপ-লাইন বা যার হাত ধরে এ প্রতিষ্ঠানে এসেছেন তার কাছে কিংবা বইয়ের মাধ্যমে জানতে পারবেন। এটিই আপনার প্রথম কাজ।
লেখক : এম. রহমান আরিফ

Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.