যে চারটি কোম্পানী প্রথমবারের মত মাল্টিলেভেল মার্কেটিং লাইসেন্স পেয়েছে তম্মধ্যে দুটিই হলো বাইনারী এবং অন্য দুটি ইউনিলেভেল প্লান অনুসরণকারী। বাইনারী নিয়ে শঙ্কা থাকলেও প্রথমে বাইনারী প্রতিষ্ঠানগুলোই এগিয়ে গেল। ‘শঙ্কা’ শব্দটি উচ্চারণ করেছি এজন্য যে বাইনারী প্লান অনুসৃত প্রতিষ্ঠানগুলো বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিতর্কের জন্ম নিয়েছে। এমনকি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও সরাসরি বাইনারী প্লান নিষিদ্ধ। যাই হোক আমরা অনেক ক্ষেত্রেই ব্যতিক্রম আর এজন্যই বাইনারী নিয়েও আমাদের কাজ করতে হবে। ইউক্লিপ্টাস গাছ যেমন তরতর করে উপরের দিকে বাড়তে থাকে তেমনি বাইনারীও তরতর করে নিচের দিকে নামতে থাকে। আমার লেখা অনেকের অপছন্দ কারণ সোজাসাপ্টা লিখতে আমার পছন্দ। আমার ফেসবুক ফ্রেন্ডলিস্টে অন্তত কয়েক’শ পরিবেশক ও লিডার ছিলেন এখন কয়েকদিন তেমন লেখালেখি চোখে পড়ছে না। সবাই একযোগে আমাকে আনফ্রেন্ড করলো কিনা বুঝতে পারছিনা। ২০০৯ সালের শেষের দিকে আমি একটা এমএলএম (বাইনারী প্লান)কোম্পানীতে যোগদান করি চাকুরীসূত্রে। এর পূর্বেও বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান নিয়ে কাজ করেছি কিন্তু কোনটিরই স্থায়ীত্ব ছিলনা। যখন যে প্রতিষ্ঠানই কাজ করেছি চেষ্টা করেছি সঠিক লাইন অনুসরণ করানোর। আমি এমএলএম পন্ডিত নই কিন্তু যা শিখেছি ও জেনেছি তা বাস্তবায়নের জন্য শেয়ার করতে প্রস্তুত ছিলাম। তবে আমার কোন গুরু ছিল না, যার হাত ধরে এমএলএম পথে এসেছিলাম সে যে কখন এমএলএম ছেড়ে দিয়েছে জানিই না। বাইনারীকে ঘিরে পদচারণা বেশি হলেও ব্যক্তিগতভাবে বাইনারীর পরামর্শ কেউ চাইলে তাকে নিষেধ করতাম, এখনো করি। আমি আমার বই ও বিভিন্ন লেখায় বহুবার লিখেছি বাইনারী খুব ঝুঁকিপূর্ণ, অনেকে তা মানতে নারাজ। এটা সত্য যে বাইনারীর হাত ধরেই এমএলএম জগতে এসেছি কিন্তু এই প্লানটিকে কখনোই দীর্ঘস্থায়ী মনে হয়নি। বাংলাদেশে যে কয়টি এমএলএম কেলেংকারী হয়েছে প্রায় সবক’টিই বাইনারী প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে। তবুও বাইনারী ছাড়ার সুযোগ নেই কারণ বাইনারীতেই জন্ম বেশির ভাগ পরিবেশক ও লিডারের। আমি একটা কথা প্রায় সময় বলে থাকি যে, বাইনারী প্লান দিয়ে পকেট মারার সুযোগ থাকলে ইউনিলেভেল দিয়ে চুরি করার সুযোগ রয়েছে। কথার পিছনের যুক্তি হলো, যে মোবাইল সেট দশ হাজার টাকায় বাজারে বিক্রয় করে বাইনারী প্লানে হয়তো তা এগার হাজার টাকা বিক্রয় হয় যদিও সেটা উচিত নয়। কিন্তু পয়েন্ট আর জয়েনিং বুঝে নিতে পারবেন। বাইনারীকেই বোকা বানানোর হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছে অনেকে যা ছিল দুঃখজনক। অন্যদিকে ইউনিলেভেল প্লান অনুসরণকারী কিছু প্রতিষ্ঠান ১৯০টাকার এক কৌটা ট্যাবলেট বিক্রয় করে ৫২০টাকায় এবং ৯৫% পয়েন্ট আপনাকে দিয়ে দিলো আপনাকে। কিন্তু আগেই যে ২০০% মূল্য বাড়িয়ে রেখেছে তা নিয়ে কথা বলার সুযোগ নেই। আমি দুঃখিত সত্য বলার জন্য। চেষ্টা করেছিলাম আইন হওয়ার পূর্বে স্যারদের বুঝানোর লাভ হয়নি। আমাদের এমএলএম আইনে মূল্য সম্পর্কিত বিষয়গুলো আরো ইতিবাচক হতে হবে। সব প্রতিষ্ঠান কখনো মন্দ হতে পারে না যদি তাই হতো তবে এমএলএম আইনই হতো না। বাইনারী প্লানগুলো মৌচাকের মতো যখন মৌমাছি চলে যায় মধু নিয়েই যায় কিন্তু জমাতে অনেক কাঠখড় পোঁড়াতে হয়। বিষয়টিকে মাথায় রেখে বাইনারী প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনাকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। একবার মিছিল ভাঙলে যেমন তা সংগঠিত করা কঠিন তেমনি একবার বাইনারী কোম্পানী পেছনে পড়লে তা সংঘঠিত করা কঠিন।
দু’একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য সারা দেশে এখনো এমএলএম পরিস্থিতি নাজুক। কিভাবে আবার ঐসব প্রতিষ্ঠান লাইসেন্সের জন্য আবেদন করার সাহস পায় বুঝে উঠতে পারিনা। আপনি যখনই সত্য বলবেন তখনই আপনার মা-বোন দিয়ে শুরু করবে। দূর্বল চিত্তের মানুষ এক জায়গা্য় সবল আর তা হলো মানুষের সাথে মন্দ ব্যবহার ও গালি দেয়া। মানসিকতার পরিবর্তন টাই পড়লেই বদলায় না, প্রয়োজন ইতিবাচক সুশিক্ষার।
অন্যদিকে সরে যাচ্ছি মূল আলোচনা থেকে যা হোক মূল আলোচ্য বিষয় ছিল ‘লাইসেন্স পরবর্তি বিক্রয় বৃদ্ধিতে লিডারদের করণীয়’। জয়েনিং বিষয়টি কিছু দিনের জন্য হলেও ভুলে যান কারণ ঐ পোঁকা (জয়েনিং)সব খেয়ে শেষ। নিজে ও সব ডাউনলাইন পরিবেশকদের নিয়ে প্যাকেজ পণ্য ও প্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রয়ে নেমে পড়ুন। ১৫ সেন্টার নিয়ে অমুক জয়েন করেছে, ৩০ সেন্টার নিয়ে তমুক জয়েন করেছে এসব ভুলে যান। এসব পিরামিডের ভাষ্য। প্রতিটি পরিবার প্রতি সপ্তাহে অন্তত একটি প্যাকেজ বা সমমানের পণ্য ক্রয় করবে কিভাবে তা নিশ্চিত করুন। একজন বললো, আমার ডাউনে পঞ্চাশ হাজার লোক কিন্তু গত তিনমাস একটাকাও ইনকাম নাই আমার। আমি বলি, কিভাবে হবে? সোনার ডিম পাড়া হাঁসতো একবারেই খেয়ে ফেলেছো। বলি, ঐ মানুষগুলো কি বাজার করে না, কাপড় পড়ে না, বিয়ের নিমন্ত্রনে যায় না, ছয়মাসেও এন্ড্রয়েড মোবাইল কিনেনি। তাহলে তাদের দোষ দিব কি, দোষতো আপনার তাদের বাজার করা শিখাননি। তমুক কোম্পানীর পরিবেশকরা উন্নতমানের! দামী টুথপেস্ট কত সহজে বিক্রয় করে স্টার হয় আর আপনি প্রয়োজনীয় পণ্যও বিক্রয় করতে পারেন না। শুধু জোড়া মিলানো শিখেছেন বা শিখিয়েছেন। এবার প্যাকেজ ও পণ্য দিয়ে জোড়া মেলাতে হবে। এটাই এখন চ্যালেঞ্জ।
আমার অনেক পরিচিত নেটওয়ার্কার, বন্ধু যারা মাল্টিলেভেল মার্কেটিং ব্যবসায় কখনো সফল হয়েছেন আবার কখনো ব্যর্থ। কিন্তু বিগত কয়েক বছরের এমএলএম দৈন্য দশায় অনেক নেটওয়ার্ক ও লিডার দূরে সরে গিয়েছেন। আমি তাদের আহবান করছি এমএলএম পথে আসার এবং সঠিকভাবে ফেরার। মাল্টিলেভেল মার্কেটিং ব্যবসায় গোঁড়ামির স্থান নেই, এটি একটি চমৎকার মসৃণ পথ। যারা এমএলএম এর ক্ষতি করেছে তারা কখনো পূর্বের স্থান ফিরে পাবে না, যারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে তাদের ফিরিয়ে আনতে হবে সঠিক পথে। আপনি পূর্বে ইউক্লিপ্টাস ছিলেন সেটি বিবেচ্য বিষয় নয় আপনাকেও নতুন শস্য বুনতে হবে হোক সে শস্য-বীজ নতুন বা পুরোনো।
লেখক : এম. রহমান আরিফ

Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.