ভোগের সাথী হলেও আমরা কেউ বিপদের সাথী হই না, দায়িত্ব নিতে চাই না। এমএলএম ব্যবসার নামে লুটেপুটে খাওয়া মানুষের অভাব ছিল না। বড় ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে প্রশাসনের মানুষ কিংবা সামরিক বাহিনীর অবসর প্রাপ্ত ষ্টাফ সকলেরই পদচারণা ছিল এমএলএম-এর দরজায়। শিক্ষক থেকে শুরু করে ডাক্তার সকলের পাঁয়ের ধুলো পড়ে ধন্য হয়েছিল এমএলএম ব্যবসা। ধনী হওয়ার নেশায় সবাই যখন উম্মত্ত তখনও কেউ ভাবেনি এই মাল্টিলেভেল মার্কেটিং ব্যবসার কি হবে। যারা আইনের জন্য গলা চেঁচিয়ে বলেছিল তাদেরও অনেকে এখন শ্রীঘরে। আমরা কেউ শিখতে চাই না সবাই শেখাতে চাই। অজ্ঞ লোকের চেয়েও বিশেষজ্ঞরা যে বিশেষ বিশেষ জায়গায় ধরা খেয়ে যাচ্ছে তা আর বলাই বাহুল্য। যারা আমাদের বিশ্বাস করে নিজের সব জ্ঞান, বুদ্ধি বিলিয়ে কাজ করে, যাদের ওপর অবলম্বন করে উদ্যোক্তারা বেঁচে থাকে তাদেরই খোঁজ নেয়ার কেউ নেই, কারো দায়িত্ব নেই। তুমি ইনভেস্ট করিয়েছো তুমি বুঝ, তুমি পরিবেশক বানিয়েছ তুমি সামলাও।এই হলো আমাদের এমএলএম শিক্ষা। যেখানে টাকা উড়ে সেখানে মহারথীদের ভিড় লেগে যায়, যখনই কোম্পানীর বিরুদ্ধে লেখালেখি শুরু তখনই মহারথীদের খুঁজে পাওয়া যায় না। যে আইন নিয়ে আমরা স্বপ্ন দেখেছি সে আইনও এখন প্রশ্নের সম্মুখীন। এখন আর কাউকে হাটেও পাওয়া যায়না ঘাটেও পাওয়া যায়না। সুশিক্ষিত ছেলেগুলোর চেয়েও বিনয়ী ছেলেগুলো আছে বেশি বিপদে। কি হবে, কিভাবে হবে কিছুই তারা জানেনা কিন্তু প্রতিদিন মুখোমুখি হতে হচ্ছে বিনিয়োগকারীদের/পরিবেশকদের। একটা সময় স্বপ্ন দেখানো মানুষের অভাব ছিলনা, চা’য়ের দোকানেও স্বপ্ন ঘুরে বেড়াতো কিন্তু এখন সেই স্বপ্নগুলো অভিশপ্ত হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তবুও একটা স্বপ্ন এখনো জেগে আছে যে স্বপ্নটা তাই সবাই মিলে গড়তে হবে।
লেখক : এম. রহমান আরিফ

Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.