ডিরেক্ট সেলিং, মাল্টিলেভেল মার্কেটিং, নেটওয়ার্ক মার্কেটিং যে নামেই ডাকা হোক না কেন মূলত বিষয়বস্তু একটি। সবক’টি একটিরই শাখা তাহলো ডিরেক্ট সেলিং। এই ডিরেক্ট সেলিং এর স্বাদ অনেক প্রতিষ্ঠানই গ্রহণ করে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যেমন সবচেয়ে সহজ উদাহরণঃ ইন্সুরেন্স কোম্পানীগুলো। কাগজে কলমে তারা লেভেলও মেন্টেইন করে কিন্তু সেখানে যেহেতু সেমিনার, ক্লোজিং ও ফলোআপ নেই এজন্য উহা নেটওয়ার্ক মার্কেটিং নহে। বস্তুতপক্ষে জীবনবীমার বিপণন কৌশল সর্ম্পূণভাবে ডিরেক্ট সেলিংকে সার্পোট করে। যাই হোক প্রথমে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাতে হবে। সত্যকে মেনে নেয়ার মতো মানসিকতার অভাবে বলেই আমরা এখনো পিছিয়ে আছি জাতি হিসেবে।
যারা গুনের নামতা পড়ার জন্য এমএলএম করতে এসেছিলেন তাদের কাছে বিষয়টি পীড়াজনক হলেও যারা মাঠ-ঘাট প্রান্তর ঘুরে এমএলএম করেছেন তাদের কাছে কখনোই এমএলএম অপ্রিয় হবে না। এমন অনেক নেটওয়ার্কার আছেন যারা পেট ও পরিবারের তাগিদে এমএলএম থেকে কিছু দূরে সরে রুটি-রোজগারের অন্বেষনে নামলেও তাদের মন প্রান জুড়ে এখনো এমএলএম। আমার মতে বিষয়টি দুটি কারণে প্রথমতঃ এমএলএম অর্থনৈতিক মুক্তির পথ দেখায় এবং দ্বিতীয়তঃ মানুষের অকৃত্রিম ভালবাসা ও শ্রদ্ধা অর্জন করা যায়।
কথায় আছে- এমএলএম মানুষকে ধনী বানায় না বরং ধনী হওয়ার পথ দেখায়। বলা বাহুল্য এসব ধনীরা আয়ের শুরুতেই আয়কর দিয়ে যাত্রা শুরু করে। যা রাষ্ট্র বিবেচনা করা উচিত।
আমার বিশ্বাস নেটওয়ার্কারগণ প্রশিক্ষনের ধাপে ধাপে বিশুদ্ধ বিবেকের চর্চা করেন কারণ মানুষের বিশ্বাস, আন্তরিকতা আর একাগ্রতাই মানুষকে সফল করে তোলে। আপনি ডায়মন্ড হওয়ার পর যদি পালিয়ে বেড়াতে হয় তবে সেই সাফল্য আপনার জন্য যতটুকু তিক্ত তার চেয়েও বেশি আত্নঘাতি পুরো এমএলএম সিস্টেমের জন্য। আমরা তেমন ডায়মন্ড বা হীরের টুকরো হতে চাই না।
আমি বিশ্বাস করি পৃথিবীতে সবচেয়ে শক্তি মানুষের ঐক্যের শক্তি। আপনার অধিকার আদায়ের জন্য সে ঐক্য আজ ভীষন দরকার, এর কোন বিকল্প নেই। আজ ডেসটিনিকে রক্ষার জন্য শুধু ডেসটিনির সদস্যরাই মানব বন্ধন করে। কিন্তু ফলাফল প্রায় শুণ্য কারণ রাষ্ট্রের কাছে ডেসটিনি একটি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু যদি মাল্টিলেভেল মার্কেটিং আইনের সঠিক বাস্তবায়ন ও সংশোধনের এর জন্য মানববন্ধন করা হতো তবে অন্য সবক’টির ন্যায় ডেসটিনিও রক্ষা পেত। চারটির পরিবর্তে যদি চারশো’টি প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স পেত তবে এক বছরের মাথায় সরকার কখনোই এতগুলো প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করে নিজেদের ব্যর্থতা প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপাতো না।
আমাদের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগীতায় ব্যস্ত যার প্রয়োজন নেই অন্তত এমএলএম পদ্ধতিতে। ৩২ কোটি জনসংখ্যার যুক্তরাষ্ট্রে যেখানে ২০০টির বেশি কোম্পানী নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে সেখানে ১৬ কোটির বাংলাদেশে কি ১০০টি কোম্পানী অনায়াসে কাজ করতে পারে না। সঠিক এমএলএম চর্চা করলে ৫০০টি প্রতিষ্ঠানও এদেশে কাজ করতে পারবে।
এখন আমাদের মধ্যে সেই ঐক্যের প্রয়োজন যা আমাদের মাল্টিলেভেল মার্কেটিং অধিকার নিশ্চিত করবে। ওয়ান-টু-ওয়ান ঐক্য। যা সবার জন্য মঙ্গলজনক তা অবশ্যই আমার জন্যও মঙ্গলজনক হবে এই বিশ্বাস নিয়ে এগোতে হবে। আপনার বন্ধু যদি অন্য প্রতিষ্ঠানে কাজ করে তাকে সহযোগিতা করুন প্রয়োজনে তার প্রতিষ্ঠানে আপনিও কাজ করুন তবে নিশ্চয়ই সে আপনার প্রতিষ্ঠানেও কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করবে। এতে করে দুজনেরই সমৃদ্ধি হবে কারো কমবে না। আপনি যখন মনে করবেন অথবা আপনার মাথায় যখন ঢুকিয়ে দেয়া হবে আপনার প্রতিষ্ঠানের চেয়ে কোন প্রতিষ্ঠান ভাল হতে পারে না তবে নিশ্চিত থাকুন আপনার ভরাডুরি হবেই। প্রতিযোগীতা হবে পণ্য নিয়ে কখনও মানুষ নিয়ে নয়।
আমাদের কিছু সুক্ষ ভুলের জন্য আজ পুরো সিস্টেমটি বন্ধ হওয়ার পথে, হাইকোর্টের কোরামিন দিয়ে আপনি সিস্টেম টিকিয়ে রাখতে পারবেন না। এর জন্য প্রয়োজন কঠিন শপথ ও জোরালো ঐক্য।
এ সময় আমাদের প্রতিটি মূহুর্ত গুরুত্বপূর্ণ, প্রতিটি নেটওয়ার্কারকে জাগিয়ে তুলুন, প্রতিটি টীম, গ্রুপ বা প্রতিষ্ঠানের মাঝে ঐক্য গড়ে তুলুন। একজনের চিন্তা-চেতনা অন্যের সাথে শেয়ার করুন। ভাল বিষয়গুলোর জন্য প্রশংসা করুন আর ভুলগুলোর সমাধানের সুযোগ দিন।
আমাদের ঐক্যের উদ্দেশ্য সংশোধিত আইন চাই, বিপণনের অধিকার ফিরে পেতে চাই।
ধন্যবাদ
লেখক : এম. রহমান আরিফ

Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.