যে কোন ক্ষেত্রে সাফ্যল্য প্রাপ্তির জন্য প্রয়োজন পূর্ব প্রস্তুতি। অর্থাৎ লক্ষ্য নির্ধারণ, পরিকল্পনা, দৃঢ় মনোবল ও পরিশ্রম। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ব্যবসায় সফলতার জন্য প্রয়োজন-আত্মনির্মাণ। কি করা উচিত, কি অনুচিত, কি করা প্রয়োজন, আর কি প্রয়োজন নহে, কি ভালো আর কি মন্দ এসব বুঝতে পারলেই আপনি আত্মনির্মাণ করতে পারবেন। আত্মনির্মাণে সঠিকপথ খুঁজে নিতে নিমোক্ত বিষয়গুলো সহায়ক হতে পারে।
সুস্পষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করুনঃ জীবনের অনেক পর্যায়ে লক্ষ্য স্থির করলেও তা অর্জন করতে পারেননি। এস এস সি পাশ করে জীবনের লক্ষ্য স্থির করেছিলেন ডাক্তার হবেন, কিন্তু তা হতে পারেননি। মাস্টার্স করে চাকুরীর খোঁজে যখন জুতার নিচের অংশে খসে পড়ল তখন জীবনের লক্ষ্য থাকবেই বা কেন? কিন্তু আত্মনির্মাণে সুস্পষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ অত্যাবশ্যক, আপনার লক্ষ্য অবশ্যই বাস্তব সম্মত হতে হবে, যদি তাই হয় তবে আত্মনির্মাণে একধাপ এগিয়ে গেলেন।
চিন্তা ও কাজের সমন্বয় ঘটানঃ আপনার চিন্তা যতটা গঠনমূলক হবে তেমনি কাজেও গতিশীলতা আনবে। সকালের কাজে যেমনটি চিন্তা করেছেন- সকাল নয়টায় প্রশিক্ষণ গ্রহণ, তারপর প্রেজেন্টেশন, ক্লোজিং, ফলোআপ ও গ্র“প মিটিং ইত্যাদি। যখনই উপরোক্ত কাজগুলো সময় মতো পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করবেন মনে প্রশান্তি আসবে, অর্থাৎ চিন্তা ও কাজের সমন্বয় ঘটাতে আপনি সক্ষম।
পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সজাগ থাকুনঃ যে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন তা অবশ্যই আপনার মঙ্গল বয়ে আনবে। পরিকল্পনার প্রতিটি ধাপ ক্রমান্বয়ে অতিক্রম করতে পারলেন কিনা সেদিকে সজাগ থাকুন। পরিকল্পনায় একধাপ এগিয়ে যাওয়া মানেই আপনার আত্মবিশ্বাস বেড়ে যাওয়া। সুষ্ঠ পরিকল্পনা মানে সাফল্যের পথ অর্ধেক অতিক্রম করা।
অন্যকে জয় করুন, আপনার জয় সুনিশ্চিতঃ অন্যকে জয় করার জন্য নিজেকে সঁপে দিন। এ ব্যবসায় যা খুবই কার্যকর উপায় তা হল আপনি দশজনের কথা ভাবুন, অবশ্যই তারা আপনার জয় নিশ্চিত করবে। কাউকে সাফল্যের চূঁড়ায় পৌঁছে দেয়ার প্রয়োজন নেই, সঠিক পথ ও সঠিক পরামর্শ দিন। আপনাকে তারাই এগিয়ে নেবে যাদের আপনি পথ দেখাবেন।
নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলুনঃ যেখানে আপনার প্রয়োজন নেই সেখানে আপনার সফলতাও নেই। অনেকের মাঝে যখন আপনার গুরুত্ব বেশী তখন আপনার নির্দেশ কিংবা উপদেশ পালন করার মানুষও বেশী। অনেক বড় হয়েও যখন আপনি গুরুত্বপূর্ণ নন ধরে নিন আপনি ব্যর্থ। সাধারণত যে কোন ডিস্ট্রিবিউটরের জন্য তার ডাউনলাইন ক্রেতাগণ অধিক গুরুত্বপূর্ণ । আপনার ডাউনলাইন ডিস্ট্রিবিউটরদের নিকট নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলতে হবে।
ইতিবাচক মনোভাব ও সৃজনশীল ভাবনাঃ আত্মনির্মাণ করতে ইতিবাচক মনোভাব আবশ্যক। ইতিবাচক মনোভাব ছাড়া আপনার কল্পনাশক্তিও কাজ করবে না। এ জন্য নেটওয়ার্ক মার্কেটিং এ নেতিবাচক মনোভাবেন কোন স্থান নেই। ইতিবাচক মনোভাব সেখানেই যেখানে সৃজনশীল চিন্তা-ভাবনার জন্ম হয়। সৃজনশীলতাই সাফল্যের সহজ পথ সৃষ্টি করে।
প্রত্যেকের কথার মূল্যায়ন করুনঃ আমরা সাধারণত বলতে পছন্দ করি, শুনতে নয়। যারা বেশী শুনে বলে কম তারা বুদ্ধিমান। বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের কাছ থেকে বিভিন্ন কিছু শেখার সুযোগ আছে। এজন্য প্রত্যেকের কথার মূল্যায়ন করুন। তাদের বলতে দিন। তাদের দশটি কথার একটি আপনার ভালো লাগতে পারে- তা মনে রাখুন, বাকীটুকু ঝেড়ে ফেলুন।
লেখক : এম. রহমান আরিফ

Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.