অপ্রিয় হলেও সত্য যে আমরা সাহস হারিয়ে ফেলছি, আমরা নিজেদের যোগ্যতা আর বিশ্বাসের ওপর আস্থা রাখতে পারছি না। এর চেয়ে বড় বিষয় হলো আমরা অন্যদেরও বিশ্বাস করতে পারছিনা। অন্য কোম্পানীর পরিবেশকদের বিশ্বাস করার প্রশ্নই আসে না এমন মনোভাব যেন খুবই স্বাভাবিক। আমি বিভিন্ন কোম্পানীর পরিবেশকদের মাঝে প্রতিহিংসাপরায়ণ মনোভাব দেখতে পেয়েছি। এবং অবাক হয়ে যাই যারা এমএলএম-কে ‘স্বাধীন ব্যবসা’ বলে কোরাস গায় তারাই একটা নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বৃত্তের বাইরে যখন আসতে পারে না। এটা কি অপরাধ যে একজন পরিবেশক কয়েকটি এমএলএম প্রতিষ্ঠানে কাজ করে আয়ের পথ বেছে নিয়েছে। যদি এমএলএম স্বাধীন ব্যবসা হয়ে থাকে তবে কেন একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির জন্য কেন কোরাস গাওয়া হচ্ছে। আমরা কেন এমন হীনমন্যতায় ভুগছি? কোথায় আমাদের পিছুটান। আপনি যদি মন্দ কিছু করেন তবে আপনার সীমাবদ্ধতার ক্ষেত্র তৈরী হবে আর আপনার এমন সব গোপনীয়তা তৈরী হবে যা অন্যরা জানলে আপনার কিছু অবশেষ থাকবে না।
নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ব্যবসায় অনেকটা শেয়ার বাজারের ন্যায় কিছু আইপিও ব্যবসায়ী থাকে যারা ইনভেস্ট প্লান, সমিতি অথবা ইন্টারনেট গেম এর জন্য অপেক্ষা করে কারণ তারা গেম মেকার। যারা মাল্টিলেভেল মার্কেটিংকে পেশা হিসেবে মেনে নিয়েছে তারা রেগুলার শেয়ার ইনভেস্টরের ন্যায় ও প্লে মেকার। যাই হোক আমরা আশা করবো ঐসব জুয়াড়িরা যেন আর নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ব্যবসায় ঢুকতে না পারে।
এদেশে যেমন রবীন্দ্রনাথ এসেছিল তেমনি এসেছিল নজরুল, জসীম উদ্দিন ও জীবনানন্দ দাশ প্রমূখ। সাহিত্যের প্রয়োজনে কবি ও সাহিত্যিকদের জন্ম। ঠিক তেমনি জন্ম নিবে অসংখ্য এমএলএম পন্ডিত, যেখানে প্রতিহিংসার সুযোগ নেই। কেউ যদি মনে করে এদেশে আর কোন এমএলএম বিশেষজ্ঞ বা এমএলএম পন্ডিত জন্ম নিবে না তবে সে বোকার স্বর্গে বাস করে। অসংখ্য মেধাবী ও প্রতিভাবান তরুণ-তরুণী মাল্টিলেভেল মার্কেটিংকে বেছে নিয়েছে নিজেদের পছন্দের পেশা হিসেবে তাই অসত্যের মাঝে মানুষকে ডুবিয়ে রাখার সুযোগ নেই। সামনে আরো ভালো কিছুর প্রত্যাশায় আমরা। তবে কিছু অশিক্ষিত ও লোভী মানুষের কারণে এখনও এমএলএম সঠিক পথ ধরতে পারেনি।
যদি পেটের দায় না থাকতো তবে সারাদিন এমএলএম নিয়ে লিখতাম কেউ পড়ুক আর না পড়ুক নিজের মনের আনন্দ আর বিবেকের তাড়না থেকে লিখতাম। আমার সমসাময়িক বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুদের মাঝে হয়তো আমিই দরিদ্রতম অবস্থায় আছি কিন্তু তবুও আমি সবার চেয়ে ধনী অন্তত এই একটা দিকে। একটা লেখা পড়েছি গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকায়- একজন মাঝি ২২ বছর পাহাড় কেটেছিল গ্রামবাসীর জন্য রাস্তা তৈরী করতে, গ্রামবাসী রাস্তা পেয়েছিল কিন্তু দশরথ মাঝি শুধু সুনাম পেয়েছিল। সেই দশরথ মাঝির নামে সিনেমাও তৈরী হয়েছে। মানব কল্যাণে কিছু মানুষ এগিয়ে না এলে পৃথিবী এখনও অন্ধকারেই থাকতো।
যাই হোক, আজ যারা মনে করে এমএলএম মানেই ধনী হওয়ার অন্যতম কৌশল তবে তা পুরোপুরি সত্য নয়। এমএলএম মানে একটা শক্তি। যাকে বলা হয় ঐক্যের শক্তি। এখনও যা আমাদের মাঝে অনুপস্থিত। কারণ আমরা সবাই বড় হতে চাই কিন্তু কাউকে বড় দেখতে পছন্দ করি না।আমরা অন্যদের কাছ থেকে অনেক কিছুই গোপন রাখতে পছন্দ করি কিন্তু আমরা যখন ব্যর্থ হই তখন কিছুই গোপন থাকে না।
আমি এমনও উদ্যোক্তা দেখেছি যিনি এমএলএম ব্যবসার কিছুই বোঝে না কিন্তু সে তা স্বীকার করে না কারণ সে মনে করে সে অত্যন্ত গোপনীয় ব্যবসা করছে। আমি তরুণদের স্বাগত জানাই, গত ৩/৪দিন আগেও একজন তরুন উদ্যোক্তা আমার কাছে এসেছিল কিছু পরামর্শ নিতে। সে হয়তো আমার লেখাটা পড়বে, আমি খুব আনন্দ চিত্তে তাকে সহযোগিতা করবো বলেছি কারণ আমি এমএলএম ভালবাসি। আমরা যারা এমএলএম-কে ভালবাসি তাদের কাছে কোন কিছুই গোপনীয় থাকে না। এমএলএম উদার চিত্ত ছাড়া সম্ভব নয় তবে পিরামিড সম্ভব।
সত্যিকার এমএলএম কর্মীদেরকে সত্যের পথ বেছে নিতে হবে, ঐক্য গড়তে হবে, যারা মিথ্যের মধ্যে আছে তাদের ফেরাতে হবে, না হয় উচ্ছেদ করতে হবে। আগামী ১/২ বছরের মধ্যে সঠিক এমএলএম প্লাটফর্ম গড়তে না পারলে সব নিশ্চিহ্ন হবে এতে কোন ভুল নেই। তাই আমাদের ঐক্যের বড্ড প্রয়োজন।
লেখক : এম. রহমান আরিফ

Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.