Deprecated: Calling get_class() without arguments is deprecated in /home/marketb1/mrarif.sellerhaat.com/wp-content/plugins/slider-image/includes/class-hugeit-slider-frontend-scripts.php on line 9
এমএলএম বাংলাদেশঃ আমরা শুদ্ধতার অপেক্ষায় – M Rahman Arif

এমএলএম বাংলাদেশঃ আমরা শুদ্ধতার অপেক্ষায়

পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে খুব সহজে নিষ্কৃতি পাইনি আমরা, বৃটিশ থেকে শুরু করে পাকিস্থানী শাসন অতপর স্বৈরাচারী শাসন। আমাদের কাছে স্বাধীনতা মানে অত্যাচারীর হাত থেকে রক্ষা পাওয়া, জুলুমবাজদের হাত থেকে বেঁচে থাকা। আমাদের জীবনের নিরাপত্তা, অর্থের নিরাপত্তা আজ
অর্জিত হয় নাই।
সুযোগসন্ধানী, জোচ্চোর, প্রতারক, সুদখোররা ওঁতপেতে থাকে সাধারন মানুষের রক্ত চুষে পান করার জন্য। বারবার এসব রক্তচোষাদের হাতে নিজেদের স্বর্বস্ব হারিয়েছে সাধারন মানুষ, তবুও আশায় বুক বেঁধে নামেন
কিন্তু আবারও প্রতারিত হয় মানুষ। মাল্টিলেভেল মার্কেটিং সম্পর্কে কম বেশি সবাই জানেন কিন্তু প্রকৃতপক্ষে মাল্টিলেভেল মার্কেটিং কি ও কিভাবে এটি অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় সফল ভুমিকা রাখে তা অনেকেরই জানা নেই।
সেই শুরু (১৯৯৮-৯৯) থেকে অদ্যবধি শতশত মাল্টিলেভেল মার্কেটিং কোম্পানীর জন্ম হয়েছে এবং এসবের বেশির ভাগই বন্ধ হয়ে গিয়েছে কারণ এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশই সঠিক এমএলএম
শর্ত পূরণ করে না। অবৈধ অর্থ আয়ের কৌশল হিসেবে এমএলএম পদ্ধতিকে বেছে নিয়েছে অনেকে আবার কেউবা ব্যবসার মূলধন সংগ্রহের উৎস হিসেবে বেছে নিয়েছে মাল্টিলেভেল বা নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতি। প্রকৃতপক্ষে কোনটিই সম্ভব নয় যদি সঠিক আইন ও আইনের প্রয়োগ থাকে। এখানেই সমস্যা আমাদের, আমরা সর্বনাশ হওয়ার পর সমাধানের পথ খুঁজে বেড়াই। হাতে গোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এতটাই অভিনব প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে যে দেশের বেশির ভাগ মানুষ মাল্টিলেভেল মার্কেটিং বলতে একটা প্রতারণার ফাঁদ হিসেবে ধরে নিয়েছে। প্রতারণাটা মহামারী আকারে ধারণ করে যখন ইউনি-পে টু ইউ দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। অনলাইন জুয়ায় আসতে থাকে ইউনি গেটওয়ে, গোল্ডেন ট্রেড, রেভনেক্স, আর্থ ডিস্টিবউশন, স্পিক এশিয়া ইত্যাদি এরপর ডু-লেন্সার, স্কাই লেন্সার নামে ইন্টারনেট জালিয়াতি শুরু হয়। মোদ্দাকথা অন্যের পকেট থেকে টাকা বের করে আনার অন্যতম কৌশল হিসেবে এমএলএম সিস্টেমকে বেছে নেয় এরা। শুধু যে উদ্যোক্তাদের দোষ তা নয় বরং এক শ্রেণীর এমএলএম লিডার নামধারী ব্যক্তিবর্গ ঐসব প্রতারক কোম্পানীগুলোকে সহায়তা করে বিনিময়ে মোটা অংকের বোনাস ও ইনসেনটিভ পেয়ে
থাকে। কোম্পানীগুলো কমিশন বাবদ যা ব্যয় করে তার ৭০ভাগ যায় ঐসব লিডারদের পেছনে। অর্থাৎ বিতর্কিত এমএলএম কোম্পানী মানেই শতভাগ লিডার নির্ভর। শতকরা আশি ভাগ এমএলএম কোম্পানীর মালিক এমএলএম এর সংজ্ঞা বলতে পারে কিনা সন্দেহ আছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় তারা তাদের অজ্ঞতা স্বীকার করে না। শুধুমাত্র ব্যবসায়িক মানসিকতা নিয়ে এমএলএম পদ্ধতি অনুসরণ করে বিধায় অধিকাংশ কোম্পানী অংকুরেই বিনষ্ট হয়। দশ বছর পূর্বের আমার এক পরিচিত জন যার সাথে একই প্রতিষ্ঠানে আমরা এমএলএম ব্যবসা আরম্ভ করেছিলাম সে এখন নিজে কোম্পানী গঠন করেছে এবং ৩-৪ কোটি টাকা ইতোমধ্যে বিনিয়োগ করেছে কিন্তু অগ্রগতি তেমন নেই। পণ্য নির্ভর অনেক মাল্টিলেভেল মার্কেটিং প্রতিষ্ঠানই এখন প্রতিকূল পরিবেশে মোকাবেলা করছে কারণ বিনিয়োগভিত্তিক মাল্টিলেভেল নামধারী প্রতারক প্রতিষ্ঠানগুলোর কারণে প্রকৃত মাল্টিলেভেল মার্কেটিং ব্যবসা আজ হুমকীর সম্মুখীন। দেশে সুষ্ঠ এমএলএম বা ডিরেক্ট সেলস আইন প্রণয়ন অতীব জরুরী হলেও কোন এক অদৃশ্য কারণে তা বারবার দীর্ঘসূত্রিতার জালে আবদ্ধ হচ্ছে। এ মুহুর্তে আমাদের প্রাণের দাবী ডিরেক্ট সেলস্ আইন প্রণয়ন ও মাল্টিলেভেল মার্কেটিং -কে রক্ষা করা। তবে সত্য উম্মোচন হতে শুরু করেছে এবং আমরা শুদ্ধতার পথে এগুচ্ছি। আমরা আমাদের নৈতিকতা দিয়ে বিশ্লেষণ করবো এবং সত্যের সাথে থাকবো , হোক তা আমাদের সাময়িক আর্থিক ক্ষতি।

লেখক : এম. রহমান আরিফ

Leave a Reply