Deprecated: Calling get_class() without arguments is deprecated in /home/marketb1/mrarif.sellerhaat.com/wp-content/plugins/slider-image/includes/class-hugeit-slider-frontend-scripts.php on line 9
ডেসটিনি লাখো মানুষের সম্পদঃ ডেসটিনিকে মুক্ত করা হোক – M Rahman Arif

ডেসটিনি লাখো মানুষের সম্পদঃ ডেসটিনিকে মুক্ত করা হোক

আজ ডেসটিনিকে ঘিরে হাজারো মানুষের হাহাকার। ঈদ সামনে রেখে লক্ষ লক্ষ মানুষ সরকার ও প্রশাসনের কাছে আর্জি রেখেই চলছে যাতে পরিবার-পরিজন নিয়ে আগামী ঈদ সুন্দরভাবে কাটাতে পারে। যদিও এই অবস্থায় বেশ কয়টি ঈদ পার হয়ে গিয়েছে। অন্তত একজন মুসলমান হিসেবে আমরা সবার সুন্দর ঈদ কামনা করি, আমাদের স্বজনদের, প্রতিবেশীদের এবং সমগ্র দেশবাসীর। আমরা লেখাটুকু বিশাল মরুভূমির বুকে এককৌটা জলের ন্যয় তবুও এ লেখার মাধ্যমে ডেসটিনির ক্ষতিগ্রস্থ প্রতিটি পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানাচ্ছি।

অসংখ্য মানুষ শেষ সম্বলটুকুও সঁপে দিয়েছিলেন ভাল কিছুর প্রত্যাশায়, কিছু পাবার আশায়। কেউ ডেসটিনিতে দান বা সহায়তা প্রদান করেনি, ডেসটিনিতে বিনিয়োগের উদ্দেশ্য ছিল একটু ভাল থাকা এবং নিজের কিছু স্বপ্ন পূরণ। এটি নতুন কিছু নয় যে আমাদের মতো মধ্যবিত্ত বা নিন্মমধ্যবিত্ত মানুষগুলো বারবার প্রতারণার শিকার হয়- ঐচ্ছিক কিংবা অনৈচ্ছিক যেভাবেই যাই হোক না কেন। ‘যুবক’ নামক প্রতিষ্ঠানটি দ্বারা লক্ষ লক্ষ পরিবার ক্ষতিগ্রস্থ হলো কিন্তু এখনো কোন সুরাহা হয়নি ভবিষ্যতে হবে কিনা একমাত্র আল্লাহই জানেন। এভাবেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, এনজিও, অসাধু ব্যবসায়ী দ্বারা সাধারণ মানুষ বারবার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। ক্ষেত্রবিশেষে দোষী ব্যক্তি ধৃত হয়েছে এবং শাস্তিও ভোগ করছে কিন্তু বিনিয়োগকারীদের কোন সমাধান হয়নি আবার কোন কোন ক্ষেত্রে দোষী ব্যক্তির হদিশ পাওয়া যায়নি। এক্ষেত্রেও বিনিয়োগকারীদের সমস্যার সমাধান হয়নি। কোন সরকার করেনি কিংবা হয়তো করার উদ্যোগও নেয়নি। এ বিষয়গুলো সরকার সবসময় ক্ষীণ দৃষ্টিতে দেখে। কারণ বিষয়গুলো রাজনৈতিক নয়। আমরাও কিছুদিন পরপর পুরোনো বিষয়গুলো ভুলে গিয়ে আবার নতুন কোন প্রতারণার ফাঁদে পাঁ দিই। জাতি হিসেবে আমরা যতটা পরিশ্রমী এর চেয়ে বেশি আত্নবিশ্বাসী এজন্যই পুরোনো বিষয় ভুলে গিয়ে আবার নতুনভাবে শুরু করি।

যাই হোক প্রসঙ্গটা ডেসটিনি বিষয়ে, ডেসটিনির বিষয়টি ছিল আমার কাছে অনেকটা রুপকথার গল্পের ন্যায়। প্রথমেই বলে নিচ্ছি আমার এই লেখাটুকু সম্পূর্ণ ব্যাক্তিগত যদি এ লেখার দরুণ কারো মনে আঘাত করে থাকি তবে পূর্বেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। ২০০৩ সালে আমার এমএলএম যাত্রা শুরু এবং ২০০৪ সালেই এ থেকে বেশ খানিকটা দূরে সরে গিয়েছিলাম। কোন প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত না থেকে এ বিষয়ে পড়াশুনা শুরু করি। আমাদের দেশে এ বিষয়ে জানার সুযোগ ছিলনা বলেই ইন্টারনেটভিত্তিক বিভিন্ন কলাম ও বই পড়ে যতটুকু সম্ভব জানার চেষ্টা করেছি। অনেক প্রতিষ্ঠানেরই নীতি নির্ধারকদের সাথে একটা সুসম্পর্ক থাকলেও বিশাল মহীরুহ ডেসটিনির কারো সাথে তেমন কোন সম্পর্ক ছিল না। সত্যি বলতে কি আমি ব্যক্তিগতভাবে ডেসটিনির এই গোটা প্রক্রিয়া বা উত্তোরণকে পছন্দ করতাম না। ডেসটিনি ইউক্লিপটাস গাছের মত তরতর করে যতই বাড়তে লাগলো ততই সঙ্কা বাড়তে লাগলো। আমাদের দেশে অসংখ্য সাহসী মানুষের মধ্যে আমার মনে হয় রফিকুল আমীন ছিলেন অন্যতম সাহসী না হলে ৪/৫ হাজার কোটি টাকার ঝুঁকি কিভাবে নিলেন তিনি। আমার মনে হয় না তাদের আত্নপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে এক তরফা বিচার হচ্ছে কারণ ডেসটিনি কোন রাজনৈতিক সংগঠন নয় কিংবা এটি কোন রাজনৈতিক সংগঠনের সমর্থনপুষ্টও নয়। অবাক হওয়ার কিছুই নেই যে তাদের বিরুদ্ধে ডেসটিনির পরিবেশকদের কোন অভিযোগ নেই। আমরা যেমন আমাদের শিক্ষকদের শেখানো পথে চলি ঠিক ডেসটিনির অসংখ্য পরিবেশক এখনো তার শেখানো পথেই চলছে। কিন্তু ডেসটিনির বিষয়টি এখন কোন প্রাতিষ্ঠানিক সমস্যা নয় এটি রাষ্টীয় সমস্যায় রুপ নিয়েছে কারণ দেশের বৃহত্তম দুটি আর্থিক কেলেংকারীর একটি হলো ডেসটিনিকে ঘিরে।

সর্বশেষ গত ১১জুন ২০১৪ তারিখে পত্রিকায় চোখে পড়ল-‘ডেসটিনির এমডিসহ ৬৫জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ’। আমার সাথে ডেসটিনির কোন একজন ব্যাক্তিরও ব্যাক্তিগত দ্বন্ধ নেই যে কারো বিরুদ্ধে কিছু লিখবো। আমার এ লেখার মূল উদ্দেশ্য ‘ডেসটিনি’ নামক প্রতিষ্ঠানের পরিবেশক ও বিনিয়োগকারীদের ঘিরে। এ প্রতিষ্ঠানটি কোন ব্যক্তির বা দলের নয়, এটি লক্ষ লক্ষ পরিবেশক, বিনিয়োগকারীর শ্রম, মেধা ও স্বপ্নে গড়া একটি প্রতিষ্ঠান। একেকজন বিনিয়োগকারীর জন্য এক বা একাধিক সেমিনার, ফলোআপ, ট্রেনিং এবং অতপর বিনিয়োগ। এভাবে রাত-দিন পরিশ্রম করে পরিবেশকরা অলি-গলি, বাড়ি, অফিসে ঘুরে বিনিয়োগ সংগ্রহ করেছে। ঐসব পরিবেশকদের রক্তশ্রমে গড়া এই ডেসটিনির প্রতিটি ইট-পাঁথর। ডেসটিনির বর্তমান অবস্থার পর কারো ঘরে ঠাঁই নাই, কেউ কেউ আত্নীয়-স্বজনদের কাছে লজ্জিত অথবা প্রতিবেশীর কাছে। সরকারের/প্রশাসনের/ডেসটিনি পরিচালক কেউ কি বলতে পারবে ডেসটিনির গন্তব্য কোথায়? অনেকে ভেবেছিলেন এমএলএম আইনের পর ডেসটিনির একটা সম্ভাবনা রয়েছে, তাও হলো না। অবশেষে, পত্রিকায় শিরোনাম- ‘ডেসটিনির সম্পদ পুলিশ খাচ্ছে। আমাদের সরকারগুলোর ব্যথর্তার শেষ নেই, ডেসটিনির সম্পদ রক্ষার্থে ব্যর্থ হলে অবাক হওয়ার কিছুই নেই। ডেসটিনির সম্পদ আত্নস্বাতকারী কিংবা অপব্যবহারকারী শাস্তি পেতেই পারে কারণ ডেসটিনির সম্পদ কারো উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত নয়, ব্যক্তিগত সম্পদ বলে কেউ দাবীও করতে পারে না। বরং আমানত ফেরত না দেওয়ার অপরাধে যে কেউ দন্ডিত হতে পারেন। আমরা ধরে নিই আইন বহির্ভূত কার্য্যক্রমের জন্য বেশ কিছু ব্যাক্তির শাস্তি হলো। কিন্তু ডেসটিনির সম্পদ রক্ষা ও বিনিয়োগকারীদের আমানত ফেরতের দায়িত্ব কি রাষ্ট্র নেবে? যেটুকু অবশিষ্ট সম্পদ রয়েছে তার সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ সম্পূর্ণ না হলেও আংশিক ফেরত প্রদান সম্ভব। ডেসটিনির চল্লিশ লক্ষ (কথিত) পরিবেশক কি এ দেশের জনগণ নয়? যদি জনগণ হয়ে থাকে তবে প্রশাসন কেন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ডেসটিনিকে আবার এমএলএ প্রতিষ্ঠান হিসেবে সুযোগ দিতে হবে কি না তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ন হলো ডেসটিনির সদস্যদের আর্থিক ক্ষতিপূরনের ব্যবস্থা করা। একইভাবে ইউনিপে টু, রেভনেক্সসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের অবস্থা একই দশা। সরকার/প্রশাসন শক্তিশালী কমিটি গঠন করে এসব প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগকারীদের সূরাহা করতে পারে যা শুধু সরকারের সদিচ্ছার উপরই নির্ভর করে। কিন্তু তা না করলে এভাবেই পুলিশ, সন্ত্রাসী চক্র, রাজনৈতিক দুবৃত্তরাই এসব প্রতিষ্ঠানের সম্পদ লুটে-পুটে খাবে।

এতকিছুর পরেও ডেসটিনির লক্ষ লক্ষ পরিবেশক ও বিনিয়োগকারী শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কার্য্যক্রমে অংশ নেয় তারা কোন ধ্বংসাত্নক কর্মসূচী হাতে নেয়নি। তাদের হাতের ব্যানারে লেখা ‘আমরা ডেসটিনি দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ নই’। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে কোন পরিবেশক বা বিনিয়োগকারীর অভিযোগের ভিত্তিতে ডেসটিনির পরিচালকদের আটক করা হয়নি, দূর্নীতি ও সংগৃহীত আমানত/বিনিয়োগে অসামঞ্জস্যতার (যা মানি লন্ডারিং এর আওতায় পড়ে) জন্যই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা। যদি আপনি আইনগতভাবে সাধারণ মানুষ থেকে ১০ হাজার কোটি টাকাও সংগ্রহ করেন এবং তা সঠিকভাবে সংরক্ষণ করতে পারেন তবে কোন ধরনের আইনে আপনাকে আটকাতে পারবে না। শুধু অপরাধী প্রমাণের জন্য সচেষ্ট হলে হবে না, যারা অপকর্মের শিকার তাদের অধিকারও নিশ্চিত করতে হবে।

বিদ্যমান এমএলএম আইনের ফাঁক গলে যে আরো নতুন নতুন ডেসটিনি সৃষ্টি হবে না তার কতটুকু গ্যারান্টি রয়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দেয়া হয়েছে তারাও যে একই পথে হাঁটছে না সে ব্যাখ্যা কি আমাদের কাছে আছে? ডেসটিনির অনেক বিষয় সম্পর্কে আমরা এখনো সন্ধিহান। ডেসটিনির উত্থান ও ব্যাপ্তি জানতে পারলেই শুধু পরবর্তীতে এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। এদেশে যতই আইন তৈরী হোক না কেন প্রশাসনিক দুর্বলতা থাকলে অসংখ্য ডেসটিনি তৈরী হবে এবং তা হবে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পরিসরে। এমএলএম নিয়ন্ত্রণে শক্তিশালী প্রশাসনিক টীম না থাকলে এমএলএম নিয়ে শঙ্কা থেকেই যাবে। যাই হোক, আমাদের এখনো অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে এ এমএলএম ব্যবসাকে সামাজিক ব্যবসায় রুপ দেয়ার জন্য। আসুন আমরা সে পথেই কাজ করি।

লেখক : এম. রহমান আরিফ

Leave a Reply